Published : 14 Sep 2025, 03:49 PM
সাব্বির রহমান নামটি বাংলাদেশের ক্রিকেটে এখন কেবল হাহাকারই জাগায়। হারানো দিনের সেই সুর আবার কিছুটা দেখা গেল তার ব্যাটে। অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর ব্যর্থতার পর সাব্বিরের ঝড়ে লড়ার মতো রান তুলতে পারল রাজশাহী বিভাগ। তবে দারুণ ব্যাটিংয়ে ঢাকা মেট্রোকে জিতিয়ে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে নিজের অভিষেক রাঙালেন মাহফিজুল ইসলাম।
জয়ের জন্য শেষ ওভারে ঢাকা মেট্রোর প্রয়োজন পড়ে ১০ রানের। ফাস্ট বোলার নাহিদ রানার প্রথম বলটিই সোজা ব্যাটে দুর্দান্ত শটে চার মেরে দেন মাহফিজুল। পরের বলে এক্সট্রা কাভার দিয়ে বাউন্ডারিতে পাঠিয়েই ছোট্ট করে উদযাপন করে ফেলেন তরুণ ব্যাটসম্যান।
তৃতীয় বলে শর্ট ডেলিভারিতে পুল খেলে ক্যাচের মতো দিলেও নিতে পারেননি ফিল্ডার। দুই রান নিয়ে বাঁধনহারা উদযাপনে মেতে ওঠেন ২১ বছর বয়সী ব্যাটসম্যান। ডাগআউট থেকে ছুটে এসে তাকে কোলে তুলে নেন অন্যরা।
জাতীয় ক্রিকেট লিগ টি-টোয়েন্টির নতুন আসরের প্রথম ম্যাচটিই এভাবে বুলিয়ে দেয় উত্তেজনার পরশ। যদিও লড়াই ছিল স্রেফ পাঁচ ওভারের।
রাজশাহীতে খেলা শুরুর কথা ছিল সকাল সাড়ে ৯টায়। বেলুন উড়িয়ে আসরের উদ্বোধন, ট্রফি নিয়ে অধিনায়কদের ফটো সেশন, সবই হয়ে যায়। কিন্তু খেলা শুরুর অপেক্ষা ক্রমে বাড়তেই থাকে। বৃষ্টির কারণে দীর্ঘ অপেক্ষার পর ম্যাচ নেমে আসে পাঁচ ওভারে।
টস হেরে ব্যাটিংয়ে নামা রাজশাহী প্রথম দুই ওভারেই হারায় দুই ওপেনারকে। ম্যাচের দ্বিতীয় বলে আবু হায়দারকে উড়িয়ে মেরে ডিপ পয়েন্টে ক্যাচ দেন শান্ত (০)। পরের ওভারে বিদায় নেন হাবিবুর রহমান সোহান (৩ বলে ২)।
বাঁহাতি স্পিনার আরিফ আহমেদের ওই ওভারে একটি চার মেরে আউট হয়ে যান সাব্বির হোসেনও।
তবে সাব্বির রহমান টিকে থাকেন একটু সময় নিয়ে। প্রত্যাশিত রান যদিও উঠছিল না। পুষিয়ে দেন তিনি শেষ ওভারে।
শেষ ওভার শুরুর সময় সাব্বিরের রান ছিল ১০ বলে ১২। শহিদুল ইসলামের প্রথম ডেলিভারি ছিল অফ স্টাম্পের বাইরে স্লোয়ার। সাব্বির স্লগ করে উড়িয়ে দেন লং অনের পাশ দিয়ে।
পরের বলটি প্রায় একই জায়গায় আবার স্লোয়ার করেন শহিদুল। এবার সাব্বির নান্দনিক শটে উড়িয়ে মারেন এক্সট্রা কাভারের ওপর দিয়ে। পরে ওভারের শেষ বলটি স্কয়ার লেগ দিয়ে সীমানা ছাড়া করে ইনিংস শেষ করে অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান।

৩৩ বছর বয়সী ব্যাটসম্যান অপরাজিত থাকেন ১৫ বলে ৩৩ রান করে। শেষ ওভারের ঝড়ে রাজশাহী ৫ ওভারে তোলে ৬০ রান।
রান তাড়ায় ঢাকা মেট্রো এগিয়ে যায় মাহফিজুলের ব্যাটেই। অধিনায়ক মোহাম্মদ নাঈম শেখ ৭ রান করতে ৮ বল খেলেন। অভিজ্ঞ মাহমুদউল্লাহ প্রথম বলে বাউন্ডারিতে শুরু করলেও আউট হয়ে যান ৪ বলে ৬ রান করে।
মাহমুদউল্লাহর পর ব্যাটিং অর্ডারে প্রমোশন পাওয়া আবু হায়দারকে (৬ বলে ৮) ফেরান বাঁহাতি পেসার শফিকুল ইসলাম।
তবে মাহফিজুলকে থামাতে পারেননি কেউ। গত মে মাসে বাংলাদেশ ইমার্জিং দলের হয়ে এই মাঠেই দক্ষিণ আফ্রিকা ইমার্জিং দলের বিপক্ষে ৫০ ওভারের ম্যাচে ৮৭ রানের ইনিংস উপহার দিয়েছিলেন তিনি। এবার ৫ ওভারের দাবিও মেটালেন দারুণ ব্যাটিংয়ে।
ইনিংসজুড়ে দলকে টেনে নিয়ে শেষ ওভারের চাওয়াও পূরণ করেন তরুণ ওপেনার। ৭ উইকেটের জয়ে আসর শুরু করে গতবারের রানার্স আপ ঢাকা মেট্রো।
১২ বলে ৩০ রানের অপরাজিত ইনিংসে অভিষেকেই তিনি ম্যাচের সেরা।
দিনের দ্বিতীয় ম্যাচে বগুড়ায় মাঠে নামার কথা ছিল গত আসরের চ্যাম্পিয়ন রংপুর বিভাগ ও সিলেট বিভাগের। তবে বৃষ্টিতে পরিত্যক্ত হয় ম্যাচটি।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
রাজশাহী: ৫ ওভারে ৬০/৩ (হাবিবুর ২, শান্ত ০, সাব্বির রহমান ৩৩*, সাব্বির হোসেন ৪, মেহরব ১৫*; আবু হায়দার ২-০-২২-১, আরিফ ১-০-৬-০, শহিদুল ২-০-৩১-০)।
ঢাকা মেট্রো: ৪.৩ ওভারে ৬১/৩ (নাঈম ৭, মাহফিজুল ৩০*, মাহমুদউল্লাহ ৬, আবু হায়দার ৮, আনিসুল ০*; নাহিদ রানা ১.৩-০-২০-০, শফিকুল ২-০-২৩-২, পায়েল ১-০-১৭-১)।
ফল: ঢাকা মেট্রো ৭ উইকেটে জয়ী।
ম্যান অব দা ম্যাচ: মাহফিজুল ইসলাম।