Published : 07 Apr 2026, 08:44 AM
প্রথম বলেই চার। তবে সেখানে সৌভাগ্যের ছোঁয়া থাকল কিছুটা। ব্যাটের কানায় লেগে বল চলে গেল থার্ড ম্যান দিয়ে বাউন্ডারিতে। পরের বলে আর রক্ষ্য পেলেন না ক্যামেরন গ্রিন। লেংথ থেকে বাইরে বেরিয়ে যাওয়া বলে খোঁচা দিয়ে ধরা পড়লেন কিপারের হাতে। ব্যস, ইনিংস শেষ ২ বলেই!
কলকাতা নাইট রাইডার্সের হয়ে মৌসুমের শুরুটা যেভাবে করেছেন, তাতে এমনিতেই আলোচনা-সমালোচনার কেন্দ্রে ছিলেন গ্রিন। সেসবকে আরও উসকে দিচ্ছে আরেকটি ম্যাচের ব্যর্থতা। পাঞ্জাব কিংসের বিপক্ষে বৃষ্টিতে ভেস্তে যাওয়া ম্যাচে সোমবার বিদায় নেন তিনি ৪ রানে।
এমনিতে তিন ম্যাচের ব্যর্থতায় খুব বেশি দুর্ভাবনার ব্যাপার হয়তো থাকত না। কিন্তু গ্রিনকে নিয়ে কৌতূহলের মূল কারণ দুটি। প্রথমত, তার পারিশ্রমিক। ২৫ কোটি ২০ লাখ রুপিতে এই অস্ট্রেলিয়ান অলরাউন্ডারকে এবার দলে নিয়েছে কলকাতা। আইপিএলের ইতিহাসের সবচেয়ে দামি বিদেশি ক্রিকেটার তিনি। কোষাগার থেকে এত অর্থ ঢালতে হয়েছে যার জন্য, তার পারফরম্যান্স সবসময় আঁতস কাঁচের নিচে থাকারই কথা।
প্রথম ম্যাচে তিনি করেন ১০ বলে ১৮ রান। পরের ম্যাচে ২ বলে ২। এবার ফিরলেন ৪ রানে। ২৫ কোটি রুপির তারকা ৩ ম্যাচে করেছেন ২৪ রান। তার দিকে তাই আঙুল উঠছেই।
দ্বিতীয়ত, তার অলরাউন্ডার পরিচয় আপাতত স্থগিত থাকা। কোনো ম্যাচেই এখনও বোলিং করতে পারছেন না তিনি। এটা নিয়ে প্রথম ম্যাচের পর বিতর্কও হয়েছে বিস্তর। গ্রিন কেন বোলিং করতে পারছেন না, এই প্রশ্নে কলকাতা অধিনায়ক আজিঙ্কা রাহানে বলেছিলেন, “ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়াকে জিজ্ঞেস করুন।” ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার এক মুখপাত্র পরে জানান, কোমরের নিচের অংশের চোট থেকে সেরে উঠছেন গ্রিন এবং এজন্য আপাতত বোলিং করতে পারছেন না। ম্যাচে বোলিং শুরু করতে ১০-১২ দিন লাগতে পারে এবং কলকাতা দল এই চোট নিয়ে পুরোপুরি অবগত বলেও দাবি করেন ওই মুখপাত্র।
তার পরও বিতর্ক চলছে। কলকাতা তাকে এত উচ্চমূল্যে নিয়েছে তো অলরাউন্ডার হিসেবেই। দ্বিতীয় ম্যাচের পর সুনিল গাভাস্কার বলেছেন, বোলিং করতে না পারলে গ্রিনকে শুধু ব্যাটসম্যান হিসেবে বিবেচনা করা উচিত এবং সেক্ষেত্রে একাদশে তার জায়গা হয় না। টিম সাইফার্টের মতো আগ্রাসী ব্যাটসম্যান খেলার সুযোগ পাচ্ছেন না কলকাতার একাদশে। রাভিচান্দ্রান অশ্বিন তো বলেছেন, বোলিং করতে না পারলে গ্রিনের পারিশ্রমিক কেটে রাখা উচিত।
পাঞ্জাবের বিপক্ষে সোমবারের ম্যাচটিতে অবশ্য কাঠগড়ায় তোলা হচ্ছে আজিঙ্কা রাহানেকে। ৩.৪ ওভারে কলকাতা ২ উইকেটে ২৫ রান তোলার পর বৃষ্টিতে আর খেলা শুরু হতে পারেনি। টানা দুই পরাজয়ের শুরুর পর আসরে প্রথম পয়েন্ট পায় কলকাতা। তবে প্রশ্ন উঠছে টস জয়ের পর রাহানের সিদ্ধান্ত নিয়ে।

নিম্নচাপের কারণে বৃষ্টির শঙ্কা মাথায় নিয়েই শুরু হয় ম্যাচ। টসের সময়ও বাতাসে ছিল সেই ছোঁয়া। এই ধরনের কন্ডিশনে টস জিতলে বেশির ভাগ সময়ই আগে বোলিং নিয়ে থাকেন অধিনায়কেরা। এছাড়া ইডেন গার্ডেন্সে আগে ব্যাট করে পরে রান আটকানোও কঠিন। তাই বেশির ভাগ সময় অধিনায়কেরা রান তাড়ার পথই বেছে নেন।
এই ম্যাচে চোট ও অসুস্থতার কারণে কলকাতা পায়নি স্পিন আক্রমণের মূল দুই অস্ত্র ভারুন চক্রবর্তি ও সুনিল নারাইনকে। তাদের বোলিং আক্রমণও তাই ছিল তুলনামূলক বেশ দুর্বল। সেটিও পরে ব্যাটিংয়ের পক্ষে হতে পারত বড় কারণ। কিন্তু রাহানে বেছে নেন আগে ব্যাটিং। তার দলের শুরুটাও হয়েছিল বাজে।
বৃষ্টিতে ম্যাচ থেমে যাওয়ার পরপরই অশ্বিন সামাজিক মাধ্যমে প্রশ্নটি তোলেন।
“যখন জানাই আছে যে, খেলাটি বৃষ্টিবিঘ্নিত হতে পারে এবং দলের বোলিং আক্রমণও অনভিজ্ঞ, তখন আপনি আগে ব্যাটিং বেছে নিলেন। কৌতূহল জাগানিয়া চিন্তাধারা…।”
জিওহটস্টারে আলোচনায় ভারতের আরেক স্পিন গ্রেট ও বিশ্লেষক আনিল কুম্বলের কণ্ঠেও ছিল বিস্ময়।
“আমি অবাক হয়েছি যে, রাহানে টস জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পিচ যখন এরকম, বৃষ্টিও আসতে যাচ্ছে, সেখানে তো সাধারণত প্রথমে ফিল্ডিং করাই শ্রেয়।”
আরেক সাবেক ক্রিকেটার ও সাবেক নির্বাচক সাবা কারিম তো কোনো যুক্তিই খুঁজে পাচ্ছেন না, ‘সিদ্ধান্তটি আমি কোনোভাবেই বুঝতে পারছি না… কোনোভাবেই মাথায় ঢোকাতে পারছি না…।”
কারিমের মতোই সাবেক কিপার-ব্যাটার শ্রীভাৎস গোস্বামীও বুঝে উঠতে পারছিলেন না সিদ্ধান্তটি।
“মেঘলা আবহাওয়ায় রাহানে টস জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় খুবই অবাক হয়েছি। খুবই আশ্চর্যজনক সিদ্ধান্ত। (খেলা শুরুর) সঙ্গে সঙ্গেই দেখা গেল বল সুইং করছে এবং দুটি কট বিহাইন্ড হলো। খুবই সাহসী সিদ্ধান্ত!”
রাহানের টসের সময় নিজের সিদ্ধান্তের পেছনে কারণ তুলে ধরে বলেছিলেন, “উইকেটটা বেশ ভালো মনে হচ্ছে, কিছুটা শুষ্ক হলেও বেশ ভালো একটি উইকেট এবং ঘাসের আচ্ছাদনও কিছুটা কম। এই কারণেই প্রথমে স্কোরবোর্ডে রান তোলা দরকার।”
পাঞ্জাব অধিনায়ক শ্রেয়াস আইয়ার অবশ্য বলেন, টস জিতলে তিনি বোলিংই করতে এবং আগে বোলিং পেয়ে তারা খুশি।