Published : 29 Dec 2025, 11:05 AM
বয়স পেরিয়েছে ৩৫। এই যুগের বাস্তবতায় খুব বেশি নয়। তবে চোট তো লেগেই আছে। বিশেষ করে, পাঁজরের চোট পিছু ছাড়ছেই না। লড়াই চালিয়ে যাওয়ার মানসিক শক্তিটুকু আর অবশিষ্ট নেই। এবার তাই থেমেই গেলেন ডগ ব্রেসওয়েল। সব ধরনের ক্রিকেটকেই তাই বিদায় বলে দিলেন নিউ জিল্যান্ডের পেস বোলিং অলরাউন্ডার।
২৮ টেস্ট, ২১ ওয়ানডে ও ২০ টি-টোয়েন্টি খেলে শেষ হলো তার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার। উজ্জ্বলতম স্মৃতি ২০১১ সালের হোবার্ট টেস্ট। প্রথম ইনিংসে ৩ উইকেট নেওয়ার পর দ্বিতীয় ইনিংসে ৬ উইকেট নিয়েছিলেন তিনি মাইকেল ক্লার্কের দলের বিপক্ষে। ২৬ বছরের মধ্যে অস্ট্রেলিয়াতে নিউ জিল্যান্ডের প্রথম টেস্ট জয় ছিল সেটি। এখনও পর্যন্ত সেটিই হয়ে আছে সর্বশেষ।
ব্রেসওয়েলের তৃতীয় টেস্ট ছিল ওই ম্যাচটি। অনেক সম্ভাবনা নিয়ে শুরু হওয়া ক্যারিয়ার পরে পূর্ণতা পায়নি। সেটির বড় কারণ নানা সময়ে নানা চোট। চলতি মৌসুমেই যেমন পাঁজরের চোটের কারণে সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্টসের হয়ে কোনো ম্যাচে মাঠে নামতে পারেননি ঘরোয়া ক্রিকেটে। শেষ পর্যন্ত ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তই নিলেন।
সবশেষ খেলেছেন তিনি গত সেপ্টেম্বরে কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপে এসেক্সের হয়েও। সেখানেও চোটের কারণে তিনটির বেশি ম্যাচ খেলতে পারেননি। গোটা এই বছরে সব ধরনের ক্রিকেট মিলিয়ে ম্যাচ খেলতে পেরেছেন মোটে চারটি।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তাকে সবশেষ দেখা গেছে ২০২৩ সালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ওয়েলিংটন টেস্টে। সবশেষ ওয়ানডে খেলেছেন ২০২২ সালে, সবশেষ টি-টোয়েন্টি ২০২১ সালে বাংলাদেশের বিপক্ষে মিরপুরে।
৭৪ উইকেট নিয়ে শেষ হলো তার টেস্ট ক্যারিয়ার। ওয়ানডে উইকেট ২৬টি, টি-টোয়েন্টিতে ২০টি।
প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ১৩৭ ম্যাচ খেলে তার শিকার ৪২২ উইকেট। তিন সেঞ্চুরি ও ২৪ ফিফটিতে রান করেছেন ৪ হাজার ৫০৫।
নিউ জিল্যান্ডের বিখ্যাত ক্রিকেট পরিবারের সন্তান তিনি। তার বাবা সাবেক পেসার ব্রেন্ডন ব্রেসওয়েল দেশের হয়ে খেলেছেন ৬ টেস্ট ও ১ ওয়ানডে। তার চাচা অফ স্পিনিং অলরাউন্ডার জন ব্রেসওয়েল খেলেছেন ৪১ টেস্ট ও ৫৩ ওয়ানডে। নিউ জিল্যান্ড জাতীয় দলের কোচও ছিলেন তিনি কয়েক দফায়। আরও দুই চাচা মার্ক ও ডগলাস ব্রেসওয়েল খেলেছেন প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট। চাচাতো ভাই মাইকেল ব্রেসওয়েল তো এখন নিউ জিল্যান্ড দলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
ঘরোয়া ক্রিকেটে নিজ দেশ ও কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপের বাইরে ব্রেসওয়েল খেলেছেন আইপিএলে, এসএ টোয়েন্টি ও গ্লোবাল সুপার লিগে।