Published : 11 May 2026, 06:19 PM
প্রথম সেশনটা ভালোভাবে শেষ করার পর ড্রেসিং রুমে নিশ্চয়ই নানা সমীকরণ শুরু হয়েছিল। কত রান লাগবে জয়ের জন্য, কতক্ষণ ব্যাট করবে দল, কত দ্রুত রান তুলতে হবে। কিন্তু সব হিসাব-নিকাশে আক্ষরিক অর্থেই জল ঢেলে দিল বৃষ্টি। ভেসে গেল গোটা একটি সেশন। দিনের শেষ ভাগে আলোকস্বল্পতায় ভেস্তে গেল আরও অনেক ওভার। লাঞ্চ বিরতির সময় উজ্জ্বল হয়ে ওঠা সম্ভাবনার ছবিটা তাই ম্লান হয়ে গেল দিন শেষে।
মিরপুর টেস্টের চতুর্থ দিনে খেলা হতে পেরেছে মাত্র ৪৮.৪ ওভার। বাংলাদেশের রান ৩ উইকেটে ১৫২। প্রথম ইনিংসের লিড মিলিয়ে এগিয়ে তারা এখন ১৭৯ রানে।
নিরাপদ ঠিকানায় পৌঁছতে হলে শেষ দিনে অন্তত এক সেশন ব্যাটিং তো করতেই হবে। সেক্ষেত্রে ম্যাচ জয়ের আশাও কমে আসবে অনেকটাই।
ব্যাটিং যতটুকু হয়েছে এ দিন, প্রথম ইনিংসের দুই নায়কই দলকে টেনে নেন আবার। ম্যাচে দ্বিতীয়বার শতরানের জুটি গড়েন নাজমুল হোসেন শান্ত ও মুমিনুল হক।
প্রথম ইনিংসে ৯১ রানের পর এবার দুই দফায় জীবন পেয়ে ৫৬ রানে আউট হন মুমিনুল। সেই ইনিংসের সেঞ্চুরিয়ান শান্ত এবার অপরাজিত ৫৮ রানে।
সকালে বাংলাদেশের শুরুটা ছিল নড়বড়ে। দুই ওপেনার ব্যর্থ আবারও। অস্বস্তিময় ব্যাটিংয়ের পর মোহাম্মাদ আব্বাসের বলে এলবিডব্লিউ হয়ে যান মাহমুদুল হাসান জয় (২৬ বলে ৫)। হাসান আলির বাড়তি লাফানো বলে গালিতে ধরা পড়েন সাদমান ইসলাম (২২ বলে ১০)।
২৩ রানে ২ উইকেট হারানোর পর আবার দলকে নির্ভরতা জোগান মুমিনুল ও শান্ত। উইকেট তখন বেশ কঠিনই মনে হচ্ছিল ব্যাটিংয়ের জন্য। কিছু ডেলিভারি বাড়তি লাফাচ্ছিল, মুভমেন্টও কিছু ছিল। তবে দারুণ ফর্মে থাকা শান্ত শুরু থেকেই ছিলেন আত্মবিশ্বাসী। দারুণ কয়েকটি শট খেলে চাপ সরিয়ে দেন তিনি। মুমিনুল শুরুতে সতর্ক থাকার পর ক্রমে ছন্দ খুঁজে পান।
২ উইকেটে ৯৩ রান নিয়ে লাঞ্চে পায় বাংলাদেশ। এরপরই তুমুল বৃষ্টি। মাঠ থেকে শুরু করে স্টেডিয়ামের চারপাশ যেন ভেসে যায়। তবে মাঠের পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা ভালো থাকায় বৃষ্টি থামার পর খেলা শুরু হয়ে যায় দ্রুতই।
মুমিনুলের ফিফটি আসে ১০৫ বলে। দেশের তৃতীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে ৫ হাজার টেস্ট রানও পূর্ণ হয় তখনই। একটু পরই বিদায় নেন তিনি শাহিন শাহ আফ্রিদির শিকার হয়ে।
এরপর শান্ত ও মুশফিকুর রহিমের জুটি জমে ওঠার মুখে আলোকস্বল্পতায় শেষ হয়ে যায় খেলা।
শেষ দিনের খেলা শুরু হবে ১৫ মিনিট আগে।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
বাংলাদেশ ১ম ইনিংস: ৪১৩
পাকিস্তান ১ম ইনিংস: ৩৮৬
বাংলাদেশ ২য় ইনিংস: ৫০.৩ ওভারে ১৫২/৩ (আগের দিন ৭/০) (জয় ৫, সাদমান ১০, মুমিনুল ৫৬, শান্ত ৫৮*, মুশফিক ১৬*; আফ্রিদি ১২-২-৩৯-১, আব্বাস ১৪-৩-৩৫-১, হাসান ১১.৩-২-২৩-১, সালমান ৫-০-১৮-০, হাসান ৮-০-৩২-০)।