Published : 16 Jan 2026, 09:02 AM
রোমাঞ্চ নিয়ে যারা মাঠে ঢুকেছিলেন, তাদের উত্তেজনা মিলিয়ে গেছে গ্যালারিতে দীর্ঘ অপেক্ষায় বসে। মাঠ ছেড়েছেন তারা হতাশা নিয়ে। অনেকে ফিরে গেছেন স্টেডিয়ামের গেট থেকে, অনেকে পথ থেকে। টিভি পর্দার সামনে অপেক্ষায় ছিলেন অসংখ্য দর্শক। ক্রিকেটবিহীন দিন পেরিয়ে রাতে বিসিবি ও ক্রিকেটারদের সমঝোতার পর দুই পক্ষ থেকেই দুঃখ প্রকাশ করা হয়েছে সমর্থকদের প্রতি।
ক্রিকেটারদের নিয়ে বিসিবি পরিচালক এম নাজমুল ইসলামের বিতর্কিত মন্তব্যের পর বুধবার রাতে ক্রিকেটারদের সংগঠন কোয়াব ঘোষণা দেয়, বৃহস্পতিবার প্রথম ম্যাচের আগে এই পরিচালক পদত্যাগ না করলে সব ধরনের খেলা বন্ধ রাখবেন তারা।
পরদিন ম্যাচ শুরু করার সব কার্যক্রম ও প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে থাকে বিসিবি। তবে ক্রিকেটাররা টিম হোটেল থেকে বেরই হননি। সন্ধ্যার ম্যাচটি হতে পারে ভেবে গ্যালারিতে রয়ে গিয়েছিলেন বেশ কিছু দর্শক। তাদেরকেও ফিরতে হয় ক্রিকেটের স্বাদ না পেয়ে।
রাতে বিসিবি কর্তাদের সঙ্গে কোয়াবের বৈঠক শেষে জানানো হয়, দুই পক্ষের সমঝোতা হয়েছে এবং শুক্রবার থেকেই আবার চলবে বিপিএল।
গুলশানে ওই বৈঠক শেষে বিসিবি পরিচালক ও বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের সদস্য সচিব ইফতেখার রহমান বলেন, পরিস্থিতির কারণে তারা অনেকটা অসহায় ছিলেন।
“প্রথমত, আমরা সরি। যে ঘটনা উপনীত হয়েছিল, আমাদের স্যাটেলাইট টাইম বা সবকিছু ব্লক করা ছিল। আমরা টানা চেষ্টা করেছি (খেলা চালাতে)। একটা ব্যাপার বুঝতে হবে, আমি গভর্নিং কাউন্সিলের সদস্য সচিব হতে পারি, আমি একা সিদ্ধান্ত নিতে পারি না। মিঠুন কোয়াব সভাপতি হলেও একা সিদ্ধান্ত নিতে পারবে না। তাকেও আলাপ করতে হয়েছে নানা জনের সঙ্গে, আমাকেও আলাপ করতে হয়েছে।”
“সমর্থকদের প্রতি আমরা দুঃখিত, কারণ সমর্থকদের জন্যই খেলায় উন্নতি হয়, খেলোয়াড়রা খেলে। তাদের জন্য সব আয়োজন। আমরা ইমিডিয়েটলি সব টিকেট রিফান্ড করে দিয়েছি। আর যেসব হয়ে গেছে, তা তো ফেরত আসবে না। একরম অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি আসলে সবার জন্যই প্রথম। এজন্য ‘সরি’ বলা ছাড়া আমার আর কিছু বলার নেই।”
কোয়াব সভাপতি মিঠুনও পরে সমর্থকদের কাছে ক্ষমা চেয়ে সামনের পথচলায় সমর্থন চেয়ে রাখলেন।
“ক্রিকেটারদের পক্ষ থেকে বলতে চাই, এটা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ছিল, আমাদের কারও কাম্য ছিল না। কোয়াবের সভাপতি হিসেবে ক্রিকেটারদের পক্ষ থেকে আমাদের দর্শকদের… উনারা ছাড়া ক্রিকেট চলবে না, ক্রিকেটের প্রাণ উনারা…আমাদের সকল ক্রিকেটারের পক্ষ থেকে আমরা ক্ষমা প্রার্থনা করছি।”
“আমরা আশা করব, আগেও যেভাবে আমাদের সাপোর্ট করেছেন, কালকে থেকে আবার আপনাদের সেই সাপোর্ট পাব। আপনারা আমাদেরকে যতটা ভালোবাসেন, আমরাও একইভাবে আমাদের ভক্তদের ভালোবাসি।”
খেলা বন্ধ রাখার ঘোষণা দেওয়ার পর সামাজিক মাধ্যমে ক্রিকেটারদের প্রবল ট্রল ও সমালোচনার শিকার হতে হয়। সমর্থকদের মনে জমে ওঠা সেই সংশয় দূর করার চেষ্টা করলেন বিসিবি পরিচালক ইফতেখার।
“ক্রিকেটাররা নিজেদের শতভাগ দেয় ক্রিকেট মাঠে। তারা দেশের জন্য খেলে, ক্লাবের জন্য খেলে, ফ্র্যাঞ্চাইজির জন্য খেলে। এটা তাদের পেশা, আবার এটা তাদের নেশাও।”
“সুতরাং আমাদের খোলা মন নিয়ে, সমর্থকদের খোলা মন নিয়ে দেখা উচিত। তারা ক্রিকেটার, বাংলাদেশের সম্পদ, তারা শতভাগ দিয়ে খেলে। আমাদের যে প্রত্যাশা, আমরা বিশ্বকাপ জিতব বা এরকম… আমরা তো অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে ট্রফি নিয়ে এসেছি। একদিন এটাও (মূল বিশ্বকাপ)” ধরা দেবে।”