অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেট
Published : 01 Dec 2024, 06:01 PM
ক্রিকেটের সবচেয়ে পুরোনো সংস্করণ টেস্টের প্রথম ‘ম্যান অব দা ম্যাচ’ হওয়ার কীর্তি গড়া ইয়ান রেডপাথ আর নেই। ৮৩ বছর বয়সে পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করে পরলোকে পাড়ি জমিয়েছেন সাবেক এই ওপেনার।
অস্ট্রেলিয়ার হয়ে ৬৬টি টেস্ট ও পাঁচটি ওয়ানডে খেলা রেডপাথ রোববার মৃত্যুবরণ করেন। তার চিরবিদায়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটে।
১৯৬৪ থেকে ১৯৭৬ সাল পর্যন্ত আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলা রেডপাথ ওই সময়ের সফল ওপেনারদের একজন ছিলেন। হেলমেটবিহীন ক্রিকেটের যুগে টেস্টে চার হাজার ৭৩৭ রান করেছিলেন তিনি ৪৩.৪৫ গড়ে। তার নামের পাশে ৮ সেঞ্চুরির সঙ্গে ফিফটি ৩১টি।
টেস্ট ক্রিকেটে শুরু থেকে দীর্ঘ কয়েক দশকের পথচলায় ছিল না ‘ম্যান অব দা ম্যাচ’ প্রচলন। অবশেষে, ১৯৭৬ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজ-অস্ট্রেলিয়া টেস্ট দিয়ে শুরু হয় তা। সেটি ছিল আবার রেডপাথের ক্যারিয়ারের শেষ টেস্ট; সেখানে প্রথম ইনিংসে ১০১ রানের পর দ্বিতীয়ভাগে ৭০ রান করে সেরার পুরস্কার জিতে নেন ডানহাতি এই ব্যাটসম্যান। এই অর্জনেই ক্রিকেটের ইতিহাসে তিনি অমর হয়ে থাকবেন আজীবন।
ইস্পাত কঠিন দৃঢ়তা ও প্রতিপক্ষের সামনে দেয়াল হয়ে দাঁড়ানোয় জুড়ি ছিল না রেডপাথের। তবে সুযোগ পেলে আগ্রাসী ব্যাটিং করতেও ভুল করতেন না তিনি। তাইতো প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে অস্ট্রেলিয়ানদের মধ্যে এক ওভারে সবচেয়ে বেশি রান করার রেকর্ডটি তার।
১৯৭০ সালের মার্চে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে অরেঞ্জ ফ্রি স্টেটের বিপক্ষে অস্ট্রেলিয়ান্সদের হয়ে এই কীর্তি গড়েন রেডপাথ। দক্ষিণ আফ্রিকান পেসার নিল রোজেনডর্ফের এক ওভারে ৪টি ছক্কা ও ২ চারে ৩২ রান নেন তিনি। যে রেকর্ডটি এখনও ভাঙতে পারেননি অস্ট্রেলিয়ার কেউ।
১৯৬৪ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে নিজের অভিষেক টেস্টে অল্পের জন্য সেঞ্চুরি পাননি রেডপাথ, আউট হয়ে যান ৯৭ রানে। তিন অঙ্কের উষ্ণ ছোঁয়া পেতে তাকে অপেক্ষা করতে হয় পাঁচ বছর। ১৯৬৯ সালে সিডনিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে পান প্রথম শতকের স্বাদ।
পরে আরও ৭টি সেঞ্চুরি আসে তার ব্যাট থেকে। যার তিনটিই করেন তিনি ক্যারিয়ারের শেষ চার টেস্টে। দারুণ ছন্দে থাকলেও নিজের ‘অ্যান্টিক’ ব্যবসায় পূর্ণ মনোযোগ দিতে ক্রিকেটকে বিদায় বলে দেন তিনি। এক বছর পর অবশ্য ওয়ার্ল্ড সিরিজ ক্রিকেট খেলতে মাঠে ফেরেন।
ইয়ান চ্যাপেল ও গ্রেগ চ্যাপেলের আমলে অস্ট্রেলিয়ার সহকারী অধিনায়ক ছিলেন রেডপাথ। ক্রিকেট নিয়ে বেশ সৌখিনতার পরিচয় দিয়েছিলেন তিনি। অস্ট্রেলিয়া রুলস ফুটবলে খেলা চালিয়ে যাওয়ার জন্য ১৯৬৩-৬৪ মৌসুমে ক্রিকেট থেকে কোনো ম্যাচ ফি নেন নাই তিনি। ক্রিকেট ওয়েবসাইট ইএসপিএনক্রিকইনফোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, অস্ট্রেলিয়া জাতীয় দলে খেলা সর্বশেষ অপেশাদার ক্রিকেটার ছিলেন রেডপাথই।
১৯৭৫ সালে রেডপাথকে ‘এমবিই’ খেতাব দেওয়া হয়। ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে তাকে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার হল অব ফেমে জায়গা দেওয়া হয়। শুধু তাই নয়, চলতি বছর জিলং ক্রিকেট ক্লাব তাদের স্কোরবোর্ড রেডপাথের নামে নামকরণ করেছে।
সব মিলিয়ে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ২২৬ ম্যাচ খেলে ৪১.৯৯ গড়ে রেডপাথের রান ১৪ হাজার ৯৯৩; ৩২টি সেঞ্চুরির পাশাপাশি ফিফটি ৮৪টি। আর ১৬ লিস্ট ‘এ’ ম্যাচে এক ফিফটিতে তার রান ২৫৫।