Published : 16 May 2026, 11:20 AM
আঙুলের চোটে সিলেট টেস্টে খেলা নিয়ে শঙ্কায় ছিলেন মাহমুদুল হাসান জয়। শেষ পর্যন্ত তিনি খেললেন। তবে টেস্টের প্রথম সকালে মাঠে নেমে তিনি যা করলেন, তাতে বলা যায় তিনি আসলে খেলছেনই না! ড্রেসিং রুমে ফিরে গেছেন তিনি শূন্য রানেই।
পাকিস্তানের বিপক্ষে সিলেট টেস্টের দ্বিতীয় বলেই আউট হয়েছেন জয়।
শূন্য রানে আউট হওয়া তার জন্য নতুন কিছু নয়। টেস্ট ক্রিকেটে তার পথচলাই শুরু হয়েছিল শূন্য দিয়ে। ২০২১ সালের ডিসেম্বরে টেস্ট অভিষেকে মিরপুরে পাকিস্তানের বিপক্ষেই প্রথম ইনিংসে শূন্যতেই আউট হয়েছিলেন তিনি। ক্যারিয়ারের চতুর্থ টেস্টে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে গেবেখা টেস্টে পেয়েছিলেন ‘পেয়ার’ বা দুই ইনিংসেই শূন্য। ক্রমে সেটিই হয়ে গেছে তার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে নিয়মিত স্কোর।
২২ টেস্ট আর ৪০ ইনিংসের ক্যারিয়ারে এই নিয়ে ৮ বার শূন্য রানে আউট হলেন জয়। বাংলাদেশের হয়ে ইনিংস শুরু করে তার চেয়ে বেশি শূন্যতে ফিরেছেন কেবল তামিম ইকবাল। তবে তামিম ১১ বার শূন্যতে বিদায় নিয়েছেন ১৫ বছরের ক্যারিয়ারে ৭০ টেস্ট খেলে। জয় তার কাছাকাছি চলে এসেছেন ক্যারিয়ারের শুরুর দিকেই।
তাদের দুজনের পরে আছেন যৌথভাবে জাভেদ ওমর বেলিম, হান্নান সরকার ও সাদমান ইসলাম। তিনজনই এই তেতো স্বাদ পেয়েছেন ৫ বার করে।
জয়ের শূন্য রানে আউট হওয়া যেমন নিয়মিত ব্যাপার, তার আউটের ধরনও খুবই চেনা। ব্যাটের বাইরের কানা ছুঁয়ে বল গেছে স্লিপ ফিল্ডারের হাতে।
অফ স্টাম্পের বাইরে তিনি বরাবরই নড়বড়ে। একজন টেস্ট ওপেনারের মৌলিক গুণগুলোর একটি হলো স্টাম্পের বাইরের বল ছেড়ে দেওয়া। কিন্তু জয় যেন বাইরের বল খোঁচা দিতেই বেশি পছন্দ করেন। অনেক সময় রক্ষণাত্মক শট খেলেন তিনি শক্ত হাতে। এই ইনিংসেও সেভাবেই আউট হয়েছেন।
যদিও টেস্ট ক্যারিয়ারে দারুণ কয়েকটি ইনিংস তিনি উপহার দিয়েছেন। ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় টেস্টেই নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে মাউন্ট মঙ্গানুইয়ে ঐতিহাসিক সেই জয়ের ম্যাচে ৭৮ রানের লড়িয়ে ইনিংস খেলেঝিলেন ২৯২ মিনিট ক্রিজে কাটিয়ে। পরের টেস্টেই ডারবানে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ৪৪২ মিনিট ক্রিজে থেকে করেছেন ১৩৭ রান। এই সিলেটেই নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে ৮৬ রানের ইনিংস খেলেছেন। সবশেষ সিরিজে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে করেছেন ক্যারিয়ার সেরা ১৭১।
তবে এসবের ফাঁকে অল্প রানেও ফিরেছেন বারবার। সবচেয়ে যেটা চোখে পড়ার মতো ব্যাপার, টেস্ট ওপেনার হিসেবে তার টেকনিক নিয়ে প্রশ্ন তোলার জায়গা আছে অনেক। বারবার ব্যাটের কানা ছুঁয়ে আউট হওয়াতেও তা ফুটে ওঠে।
যদিও তিনি সহজাত ওপেনার ছিলেন না। বয়সভিত্তিক ক্রিকেটে তিন বা চার নম্বরেই খেলেছেন বেশি। টেস্ট অভিষেকের আগ পর্যন্ত প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ওপেন করেছিলেন মোটে একবার। তবু ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন দারুণ কিছুর। কিন্তু সময়ের সঙ্গে প্রশ্ন উঠছে জোরেসোরেই।