Published : 20 May 2026, 05:41 PM
পুরস্কার বিতরণী পর্ব তখন শেষ। সিরিজের ‘মোস্ট ভ্যালুয়েবল প্লেয়ার’ হয়ে বাইক জিতেছেন নাজমু হোসেন শান্ত। সেই বাইক চালিয়ে ঘুরে বেড়ালেন তিনি সিলেট আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামের সবুজ প্রান্তরে। দারুণ এক সিরিজ জয়ের পর এই দৃশ্যটি যেন প্রতীকী হয়ে রইল। বাংলাদেশের টেস্ট দলটাকেই তো আসলে চালিয়ে নিচ্ছেন তিনি!
কাজটা যে তিনি দারুণভাবেই করছেন, সেটির সবচেয়ে বড় স্বাক্ষ্য এখন রেকর্ড বই। সেখানে খোদাই হয়ে গেছে, দেশের ইতিহাসের সফলতম টেস্ট অধিনায়ক শান্ত। রেকর্ড গড়ার পর একটি জায়গায় তিনি কৃতজ্ঞতা জানালেন মুশফিকুর রহিমের প্রতি, যাকে ছাড়িয়ে ছাড়িয়েই তিনি গড়েছেন নেতৃত্বের কীর্তিটি।
পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজটি শুরুর আগে অধিনায়ক হিসেবে শান্তর জয় ছিল ৬টি। মিরপুরে পাকিস্তানকে হারিয়ে তিনি স্পর্শ করেন ৭ জয়ের রেকর্ড। সিলেটে জিতে তিনি এখন এককভাবে শীর্ষে।
বাংলাদেশকে সবচেয়ে বেশি ৩৪ টেস্টে নেতৃত্ব দিয়েছেন মুশফিক। তার জয় ৭টি। শান্ত তাকে ছাড়িয়ে গেলেন অর্ধেক টেস্টেই। ১৮ টেস্টে নেতৃত্ব দিয়েই তার জয় হয়ে গেল ৮টি।
১৯ টেস্টে নেতৃত্ব দিয়ে ৪টি জয় সাকিব আল হাসানের, ১৭ টেস্টে ৩টি মুমিনুল হকের।
নেতৃত্বের এই রেকর্ড নিয়ে খুব একটা কথা বলতে আগ্রহী মনে হলো না তাকে। স্রেফ বললেন, “(নেতৃত্ব) উপভোগ করছি, অবশ্যই উপভোগ করছি…।” ব্যস, নিজেকে নিয়ে এতটুকুই প্রতিক্রিয়া!
তিনি বরং বেশি আগ্রহ নিয়ে বললেন সতীর্থদের কথা, মাঠে কঠিন সময়ে যাদেরকে তিনি পাশে পান।
“শুধু আজকের ব্যাপার নয়, আমার মনে হয় আমি মানে খুবই সৌভাগ্যবান যে, মুশফিক ভাই মাঠে আছেন এখনও। এখানে আরও আছে লিটন, মিরাজ আছে, তাইজুল ভাই আছেন। এরকম কঠিন সময়ে আমি একটু আলোচনা করতে পছন্দ করি এবং সবচেয়ে ভালো লাগার বিষয় হলো, যে চারটা-পাঁচটা নাম বললাম, সবাই নিজে থেকে এসে ওই ফিডব্যাকগুলা দেয় দলের জন্য কী করলে ভালো হবে। আমি খুবই ওপেন, শুনতে পছন্দ করি।”
“এই দলে যে ১৫-২০ জন যারাই খেলে, এই সেটআপের মধ্যে সবাই দলের কথা চিন্তা করে, সবাই খুবই ভালো। দলে জন্য যেটা ভালো, ওই সিদ্ধান্তগুলা দেওয়ার চেষ্টা করে। এ দিক থেকে আমি খুবই সৌভাগ্যবান যে মুশফিক ভাই, লিটন, মমিনুল ভাইরা সবাই আমাকে সহায়তা করেন। বিশেষ করে কঠিন সময়ে সিদ্ধান্ত নেওয়াটা অনেক সময় কঠিন হয়। তখন আশেপাশে থেকে এ রকম সহায়তা পেলে অবশ্যই তা বাড়তি একটা পাওয়া।”