Published : 28 Jun 2026, 04:47 PM
প্রশ্নপত্র ফাঁসের গুজব ছড়ালে জড়িতদের বিরুদ্ধে সাইবার আইনে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
তিনি বলেন, “প্রশ্নপত্র ফাঁসের গুজব ছড়িয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টির কোনও সুযোগ দেওয়া হবে না। অতীতের মত এবারও কঠোর নজরদারি, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করা হবে।
“ভুয়া তথ্য ও অপপ্রচারকারীদের বিরুদ্ধে সাইবার আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পরীক্ষা কেন্দ্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কেন্দ্র কর্তৃপক্ষ, শিক্ষা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালন করবে।”
রোববার দুপুরে সিলেট নগরীর জালালাবাদ গ্যাস ভবন অডিটোরিয়ামে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা-২০২৬ উপলক্ষে সিলেট শিক্ষা বোর্ড এবং মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এ কথা বলেন তিনি।
পরীক্ষাকেন্দ্রে বহিরাগতদের অনুপ্রবেশ ঠেকাতে পুলিশ সদস্যরা বডি ক্যামেরা ব্যবহার করবেন এবং সিসিটিভির মাধ্যমে কেন্দ্রগুলো সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী।
শিক্ষার মানোন্নয়নে সরকার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে জানিয়ে মিলন বলেন, “প্রধানমন্ত্রী শিক্ষাকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়েছেন। সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে সরকার নকলমুক্ত, স্বচ্ছ ও প্রযুক্তিনির্ভর পরীক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে কাজ করছে।
“আসন্ন এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে।”
শিক্ষার্থীদের অভিযোগের ভিত্তিতে উত্তরপত্র পুনর্মূল্যায়নের সুযোগ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, উত্তরপত্র মূল্যায়নে অভিন্ন মানদণ্ড অনুসরণ, নমুনা উত্তরপত্র পর্যালোচনা, পরীক্ষকদের মূল্যায়ন এবং অতিরিক্ত খাতা মূল্যায়নের চাপ কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
শিক্ষা বোর্ডের দায়িত্ব শুধু পরীক্ষা গ্রহণ ও ফল প্রকাশে সীমাবদ্ধ না রেখে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান তদারকি, শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সমস্যা সমাধানে আরও কার্যকর ভূমিকা পালনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন মিলন।
প্রাথমিক শিক্ষায় দীর্ঘদিনের জনবল সংকট ও পদোন্নতি জটিলতা নিরসনে সরকার কার্যকর পদক্ষেপ নিয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, “২০১৭ সাল থেকে বিচারাধীন মামলার কারণে প্রায় ২৫ হাজার ৫০০ প্রধান শিক্ষকের পদোন্নতি আটকে রয়েছে। আদালতের রায়ের আলোকে বিষয়টি নিষ্পত্তি করা হবে।
“বর্তমানে প্রায় ৬০ হাজার শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। আগামী জুলাই থেকে নতুন শিক্ষক নিয়োগ কার্যক্রম শুরুর পরিকল্পনা রয়েছে। এ ছাড়া মাদ্রাসা শিক্ষকদের বেতন সংক্রান্ত জটিলতা দ্রুত নিরসন করে নিয়মিত ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে প্রদানের ব্যবস্থা করা হবে।”
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিরুদ্ধে বিচারাধীন ৩০ হাজারের বেশি মামলা পর্যায়ক্রমে নিষ্পত্তি করা হবে বলে জানান মন্ত্রী।
মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড সিলেটের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আনোয়ার হোসেন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সভায় সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, বিএনপির কেন্দ্রীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক মিফতাহ সিদ্দিকী, মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরী, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের সচিব চৌধুরী মামুন আকবর এবং পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক বিলকিস ইয়াছমীন বক্তব্য দেন।
এছাড়া অনুষ্ঠানে সুনামগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. মিজানুর রহমান চৌধুরী, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মাসুদ রানাসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, সিলেট অঞ্চলের কেন্দ্রপ্রধান এবং সংবাদকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।