Published : 28 Jun 2026, 04:49 PM
স্বাস্থ্য খাতের সংস্কার নিয়ে বিরোধী দল সংসদে কথা বলে না দাবি করে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী এম এ মুহিত বলেছেন, তারা শুধু ‘ক্ষমতার ভাগ’ পাওয়ার সংস্কার নিয়ে কথা বলে।
সিরাজগঞ্জ-৬ আসনের এই সংসদ সদস্য বলেছেন, স্বাস্থ্য সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদন নিয়ে সংসদে আলোচনা হলে তিনি খুশি হতেন।
রোববার জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে স্বাস্থ্য খাত নিয়ে বক্তব্য দিতে গিয়ে প্রতিমন্ত্রী তার এই প্রত্যাশার কথা বলেন।
এই অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
মুহিত বলেন, “আমাদের বিরোধী দল মাঝে মাঝেই সংস্কারের কথা বলেন। জুলাই সনদের কথা বলেন। ওনারা শুধু সেই সংস্কারের কথা বলেন, যেই সংস্কার ওনাদেরকে ক্ষমতার ভাগ দেবে। ওনারা স্বাস্থ্য খাতে সংস্কার নিয়ে একদিনও আজ পর্যন্ত কথা বলেননি।”
তিনি বলেন, “একটি স্বাস্থ্য সংস্কার কমিশন হয়েছিল। তারা অনেক কিছু চিন্তাভাবনা করে অনেক কিছু লিখে দিয়েছে। আমি খুশি হতাম, আমাদের বিরোধী দল যদি সেই স্বাস্থ্য খাত সংস্কার কমিশনের রিপোর্ট নিয়ে আমাদের এখানে কথা বলত।”
বাজেট বিশ্লেষণকে শুধু ‘অর্থ ও সংখ্যার খেলা’ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই মন্তব্য করে প্রতিমন্ত্রী মুহিত বলেন, বাজেটকে তার প্রেক্ষাপটসহ দেখতে হবে।
“কোন প্রেক্ষাপটে এই বাজেট তৈরি করা হয়েছে এবং আমরা সকলেই জানি, বিগত ১৫ বছরের দুঃশাসনে আমাদের অর্থনীতি ভেঙে পড়েছে, আমাদের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে, আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে।”
গণআন্দোলনের মাধ্যমে ‘ফ্যাসিস্ট সরকারের’ পতনের পর নির্বাচিত সংসদের কাছে মানুষের প্রত্যাশা অনেক বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
স্বাস্থ্য খাতের বাজেটের লক্ষ্য ব্যাখ্যা করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকার ‘ভেঙে পড়া’ স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ঢেলে সাজাতে চায়।
“আমরা এই ভেঙে পড়া স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাতে চাই। একটি সমন্বিত স্বাস্থ্য ব্যবস্থা তৈরি করতে চাই, যেখানে ধনী-গরিব নির্বিশেষে বিনামূল্যে সহজলভ্য চিকিৎসা পাবেন।”
স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, “বিগত বছরে ৩৫ হাজার কোটি টাকা থেকে এবার ৬৯ হাজার কোটি টাকা স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ করেছে আমাদের সরকার।”
স্বাস্থ্য খাতে বিনিয়োগকে শুধু হাসপাতাল নির্মাণ বা সাময়িক উন্নতির বিষয় নয় বলে মন্তব্য করেন এম এ মুহিত।
চিকিৎসার খরচ বেড়ে যাওয়াকে ‘ভয়ঙ্কর’ সমস্যা হিসেবে তুলে ধরে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, “এই খরচের শতকরা ৭৯ ভাগ ‘আউট অব পকেট এক্সপেন্ডিচার’, অর্থাৎ রোগীর পকেট থেকে টাকা দিয়ে তাকে চিকিৎসা নিতে হয়।”
থাইল্যান্ড ও মালদ্বীপের সঙ্গে তুলনা করে তিনি বলেন, “এই একই হারটি থাইল্যান্ডে মাত্র শতকরা ১০ ভাগ এবং মালদ্বীপে মাত্র ১৮ ভাগ। আমাদের দেশের মানুষকে ৮০ ভাগ পকেট থেকে টাকা দিয়ে চিকিৎসা নিতে হয়।”
স্বাস্থ্য খাতে সংস্কারের ক্ষেত্রগুলোও সংসদে তুলে ধরেন মুহিত।
তিনি বলেন, “স্বাস্থ্য খাতে ভৌত কাঠামোর সংস্কার দরকার। প্রতিটা বিল্ডিং ভেঙে পড়েছে। মানব সম্পদের সংস্কার প্রয়োজন, চিকিৎসা পদ্ধতিসহ ‘হেলথ ম্যানেজমেন্টের ইমপ্রুভমেন্ট’ দরকার।”
নিজ নির্বাচনি এলাকার কথা বলতে গিয়ে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে নদীভাঙন ও চরাঞ্চলের মানুষের দুর্দশার কথা তুলে ধরেন মুহিত।
চরাঞ্চলের জীবনমান উন্নয়নে তিনি একটি ‘চর উন্নয়ন ফাউন্ডেশন’ গঠনের দাবি জানান।