Published : 04 Oct 2025, 06:21 PM
সাদমান ইসলামের সেঞ্চুরি বা ব্যাট উঁচিয়ে উদযাপন, এসব নতুন কিছু নয়। টেস্টে দুটি সেঞ্চুরি করেছেন, প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে তো এটি নিয়মিত দৃশ্যই। রঙিন পোশাকে শতরান করেছেন ঢাকা প্রিমিয়ার লিগেও। তবে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে তিনি সেঞ্চুরি করবেন, এমন কিছু ছিল দেশের ক্রিকেটে অনেকটাই অভাবনীয়। সেই তিনিই চমকে দিলেন। যার গায়ে সেঁটে আছে টেস্ট ব্যাটসম্যানের তকমা, তার ব্যাট থেকেই এলো এবারের জাতীয় লিগ টি-টোয়েন্টির প্রথম সেঞ্চুরি।
এই ম্যাচের আগে ২০ টি-টোয়েন্টিতে সাদমানের একমাত্র ফিফটি ছিল ৫৪ রানের একটি ইনিংস। এই জাতীয় লিগ টি-টোয়েন্টির আগে ২০ ওভারের ক্রিকেটে তার গড় ছিল ১৬.৩১, স্ট্রাইক রেট ছিল ৯৩.২১। সেই সাদমান শনিবার ঢাকা মেট্রোর হয়ে খেলেন ১১ চার ও ৪ ছক্কায় ৬১ বলে ১০১ রানের ইনিংস।
মাহফিজুল ইসলাম রবিনের সঙ্গে তার উদ্বোধনী জুটিতে রান আসে ১৭৭। জাতীয় লিগ টি-টোয়েন্টিতে যে কোনো জুটিতেই যা সর্বোচ্চ।
এই দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ের পর সম্মিলিত বোলিং পারফরম্যান্সে বরিশাল বিভাগকে ৯৬ রানে উড়িয়ে দেয় ঢাকা মেট্রো।
সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নামা ঢাকা মেট্রো ঝড় তোলে শুরু থেকেই। রুয়েল মিয়ার প্রথম ওভারে তিনটি বাউন্ডারিতে শুরু করেন সাদমান। পরের ওভারে সোহাগ গাজীকে জোড়া বাউন্ডারি মারেন মাহফিজুল।
পাওয়ার প্লেতে ৫৫ রান তোলেন দুজন।
রানের ধারা চলতে থাকে পাওয়ার প্লে শেষেও। একাদশ ওভারে শতরান পেরিয়ে যায় ঢাকা মেট্রো।
ছক্কা মেরে সাদমান ফিফটি করেন ৩৬ বলে। মাহফিজুল পঞ্চাশে পৌঁছান ৩০ বলে।
পরের সময়টায় মাহফিজুলের চেয়ে বেশি আগ্রাসী হয়ে ওঠেন সাদমান। দ্রুত এগিয়ে যান তিনি শতরানের দিকে।

এই জুটি শেষ পর্যন্ত ভাঙে অষ্টাদশ ওভারে। ইফতেখার হোসেন ইফতির বল কাভারে ক্যাচ দিয়ে শেষ হয় মাহফিজুলের ৪৯ বলে ৭৯ রানের ইনিংস।
জাতীয় লিগ টি-টোয়েন্টিতে আগের সর্বোচ্চ জুটি ছিল চলতি আসরেই নাজমুল হোসেন শান্ত ও হাবিবুর রহমানের ১৪৮ রান।
সাদমান সেঞ্চুরি স্পর্শ করেন ৫৯ বলে। আউট হয়ে যান তিনি শেষ ওভারে।
শেষ দিকে দুই ওভারে চারটি উইকেট নেন ইফতেখার। ঢাকা মেট্রো থামে ২০ ওভারে ১৯৭ রান তুলে।
সেই রানকে বিন্দুমাত্র চ্যালেঞ্জ জানাতে পারেনি বরিশাল। ওপেনার আজমির আহমেদ ফেরেন ২৬ রানে। আর কোনো ব্যাটসম্যান ছুঁতে পারেননি ২০ রানও। গড়ে ওঠেনি কোনো জুটি। ধুঁকতে ধুঁকতে কোনোরকমে একশ ছাড়ায় তারা।
এই নিয়ে আসরের ছয় ম্যাচে জয় অধরা রইল বরিশালের। সাত পয়েন্ট নিয়ে ঢাকা মেট্রো আছে তিন নম্বরে।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
ঢাকা মেট্রো : ২০ ওভারে ১৯৭/৬ (মাহফিজুল ৭৯, সাদমান ১০১, আবু হায়দার ০, আইচ ১১, তাহজিবুল ২*, আনিসুল ০, আমিনুল ১*, রুয়েল ৩-০-৪২-০, সোহাগ ৪-০-৩৫-০, নোবেল ৪-০-২৯-০, মহিম ২-০-৩০-০, অন্তর ২-০-২০-০, জেহাদ ২-০-২০-০, ইফতেখার ২-০-১০-৪)।
বরিশাল বিভাগ: ১৭.৫ ওভারে ১০১ (আজমির ২৬, ইফতেখার ৭, ফজলে মাহমুদ ১৬, জাহিদউজ্জামান ১৮, সালমান ৭, অন্তর ৭, সোহাগ ০, জেহাদ ৩, রুয়েল ১, মহিম ১০, নোবেল ২*; আবু হায়দার ২.৫-০-১২-২, রকিবুল ৪-০-২৫-২, মারুফ ৩-০-১৫-৩, আইচ ৩-০-১৯-০, শহিদুল ৩-০-১৫-০, আমিনুল ২-০-১০-১।
ফল: ঢাকা মেট্রো ৯৬ রানে জয়ী।
ম্যান অব দা ম্যাচ: সাদমান ইসলাম।
তিন বলে তিন উইকেট হারিয়েও রাজশাহীর জয়
তিন বলে তিন উইকেট, তবু হ্যাটট্রিক নয়। বোলার আবু হাশিম যে মাঝের একটি ডেলিভারি যে করে ফেললেন ওয়াইড! হ্যাটট্রিক না হলেও ওই তিনটিসহ দুর্দান্ত বোলিংয়ে চার উইকেট নিয়ে রাজশাহীকে প্রবলভাবে চেপে ধরেছিলেন এই বাঁহাতি স্পিনার। কিন্তু শেষ পর্যন্ত জিততে পারেনি তার দল রংপুর।
রংপুরকে ১৪৪ রানে আটকে রেখে রাজশাহী ম্যাচ জিতে নেয় ৬ উইকেটে।
টস হেরে ব্যাটিংয়ে নামা রংপুর প্রথম তিন ওভারেই হারায় তিন উইকেট। এর মধ্যে আছে আগের ম্যাচের ম্যান অব দা ম্যাচ নাসির হোসেনের উইকেটও।
পাঁচে নেমে নাঈম ইসলাম চেষ্টা করেন পাল্টা আক্রমণের। তবে পাওয়ার প্লের শেষ ওভারে বিদায় নেন অভিজ্ঞ এই ব্যাটসম্যানও (১৫ বলে ২০)।
দলকে বিপদ থেকে টেনে তুলে পঞ্চম উইকেটে ৫৪ রান যোগ করেন ইকবাল হোসেন ও আকবর আলি।

প্রথম টি-টোয়েন্টি ফিফটিতে ৪৫ বলে ৫০ করেন ইকবাল, অধিনায়ক আকবর ফেরেন ২০ বলে ২৮ রানে।
পরে পাঁচ ব্যাটসম্যানের কেউ দু অঙ্ক ছুঁতে পারেননি। রংপুরের রানও তাই দেড়শ হয়নি।
নাজমুল হোসেন শান্তর অনুপস্থিতিতে নেতৃত্ব পাওয়া সাব্বির হোসেন তিন উইকেট শিকার করেন তার মিডিয়াম পেস দিয়ে।
রান তাড়ায় হাশিমের ছোবলে পাওয়ার প্লেতেই এলোমেলো হয়ে পড়ে রাজশাহীর টপ ও মিডল অর্ডার। মুশফিক হাসানের প্রথম ওভারে বিদায় নেন অধিনায়ক সাব্বির হোসেন। এরপর হাশিমের একের পর আঘাত।
মিজানুর রহমানকে বিদায় করে প্রথম উইকেট নেন হাশিম। পরে টানা তিন বলে তার শিকার বিপজ্জনক হাবিবুর রহমান সোহান (১১ বলে ১৬), মেহেরব হোসেন ও প্রিতম কুমার। সোহানকে বিদায়ের পরের ডেলিভারিটি ওয়াইড করায় হ্যাটট্রিক হয়নি তার।
২৯ রানে ৫ উইকেট হারায় রাজশাহী। হাশিমের বোলিং ফিগার তখস ৩-০-৩-৪!
সেই বিপর্যয় থেকে রাজশাহীকে টেনে তোলেন সাব্বির রহমান ও শাকির হোসেন শুভ্র। ষষ্ঠ উইকেটে ৭৪ রানের জুটি গড়েন দুজন।
৩৫ বলে ৩৫ রান করে সাব্বির যখন আউট হন, জয়ের জন্য তখনও ২৬ বলে ৪১ রান লাগে দলের।
সেই চ্যালেঞ্জ সহজ করে তোলেন নিহাদ উজ জামান। দুটি করে ছক্কা ও চারে ১৪ বরে ২৭ রান করেন তিনি। একপ্রান্ত থেকে দলকে টেনে জয়ের ঠিকানায় নিয়ে গিয়ে তিন ছক্কায় ৪২ বলে ৫২ রানে অপরাজিত থাকে শাকির।
প্রথম টি-টোয়েন্টি ফিফটি শাকিরকে এনে দেয় প্রথম ম্যাচ-সেরার স্বীকৃতিও।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
রংপুর বিভাগ: ১৯.৫ ওভারে ১৪৩ (অনিক ৫, জাভেদ ৫, নাসির ২, ইকবাল ৫০, নাঈম ২০, আকবর ২৮, আলাউদ্দিন ৩, সাকলাইন ৮*, হাশিম ৯, রাফি ২, মুশফিক ০, তাইজুল ৩-০-২১-১, মেহেরব ২-০-১৫-২, নিহাদ ৩-০-২৩-০, পায়েল ৪-০-২৯-২, মোহর ৩.৫-০-২৯-০, সাব্বির হোসেন ৪-০-২৩-৩)।
রাজশাহী বিভাগ: ১৯.৪ ওভারে ১৪৪/৬ (সোহান ১৬, সাব্বির হোসেন ১, মিজানুর ২, সাব্বির রহমান ৩৫, মেহরব ০, প্রিতম ০, শাকির ৫২*, নিহাদ ২৭*, মুশফিক ১-০-২-১, হাশিম ৪-০-৭-৪, সাকলাইন ৩-০-৩৩-০, রাফি ৪-০-২০-০, জাভেদ ৪-০-৩৯-০, আলাউদ্দিন ২-০-২০-১, নাসির ১-০-১২-০, ইকবাল ০.৪-০-৪-০)।
ফল: রাজশাহী বিভাগ ৪ উইকেটে জয়ী।
ম্যান অব দা ম্যাচ: শাকির হোসেন শুভ্র।