Published : 08 Jan 2026, 09:53 PM
অষ্টাদশ ওভারে স্রেফ দুই রান দিয়ে দুই উইকেট। আফগান পেসার জিয়াউর রাহমানের ওভারটি শেষে সিলেটের ইনিংস যেন ছিল দিশাহারা। ঢাকা ম্যাচে ফিরেছিল প্রবলপ্রতাপে। কিন্তু পরের দুই ওভারে ভোজবাজির মতোই বদলে গেল চিত্র। এক ওভারে ২৮ রান নিলেন মইন আলি। শেষ ওভার থেকে এলো আরও ১৭ রান!
শেষ দুই ওভারে ৪৫ রান নিয়ে সিলেটের স্কোর পৌঁছে গেল ১৮০ রানে। এরপর সম্মিলিত পারফরম্যান্সে সেই স্কোরকে জয়ের জন্য যথেষ্ট করে তুলল বোলাররা। আগের দিন হেরে যাওয়া সিলেট এবার স্থানীয় দর্শকদের উল্লাসে মাতিয়ে তুলল দারুণ জয়ে।
বিপিএলে বৃহস্পতিবারের দ্বিতীয় ম্যাচে ঢাকা ক্যাপিটালসকে ২০ রানে হারাল সিলেট টাইটান্স।
আট ম্যাচে সিলেটের জয়-পরাজয় এখন সমান চারটি করে। ছয় ম্যাচে ঢাকার এটি চতুর্থ পরাজয়।
মইন মাঠে নামলেই সিলেটের গ্যালারি থেকে ‘জামাই’ বা ‘দুলাভাই’ বলে চিৎকার ভেসে আসে নিয়মিত। তার স্ত্রীর শেকড় যে সিলেটেই। ব্যাটে-বলে পার্থক্য গড়ে দিয়েই সেই মইনই এই জয়ের নায়ক। ৮ বলে ২৮ রান করার পর ৪ ওভারে ২০ রানে ২টি উইকেট নিয়ে তিনি ম্যান অব দা ম্যাচ ।
একাদশে ফেরার ম্যাচে দারুণ বোলিংয়ে ৩ উইকেট নেন সিলেটের পাকিস্তানি পেসার সালমান ইরশাদ।
টস হেরে ব্যাটিংয়ে নামা সিলেট টুর্নামেন্টে প্রথমবার মোটামুটি মানের শুরু পায়। আগের সাত ম্যাচে তাদের উদ্বোধনী জুটি ৪.১ ওভারের বেশি টিকতে পারেনি, সর্বোচ্চ জুটি ছিল ৩৬ রানের। এবার পারভেজ হোসেন ইমন ও তৌফিক খান তুষার পাওয়ার প্লেতে তোলেন ৪৮ রান।
পাওয়ার প্লে শেষেই নাসির হোসেনের শিকার হয়ে ফেরেন তৌফিক (২১ বলে ১৭)। পরের ওভারে সাইফ হাসানকে বিশাল এক ছক্কা মারার পরের বলেই শর্ট ফাইন লেগে ধরা পড়েন পারভেজ (২৪ বলে ৩২)। টিকতে পারেননি আফিফ হোসেনও (৯ বলে ৬)। ওই সময়টায় রানের গতিও আসে কমে।
সিলেটের ইনিংস আবার গতিময় হয় পরের জুটিতে। আজমাতউল্লাহ ওমারজাই ও আরিফুল হক ৬২ রানের জুটি গড়েন ৩৭ বলে।
বিপিএলে অভিষেকে আরিফুলের শুরুটা ছিল মন্থর। এক পর্যায়ে তার রান ছিল ১৯ বলে ১৭। পরে দারুণ কয়েকটি শট খেলেন তিনি। একটু সাবধানী শুরুর পর ঝড় তোলেন ওমারজাইও।
দুজন আউট হন আফগান পেসার জিায়উর রহমানের এক ওভারেই। ২৯ বলে ৩৮ করে ফেরেন আরিফুল, ২৩ বলে ৩৩ ওমারজাই।
খেলার মোড় ঘুরিয়ে দেওয়া ওভারটি এরপরই। তাসকিন, সাইফ উদ্দিনের ওভার বাকি থাকলেও বিস্ময়করভাবে ১৯তম ওভারে নাসিরের অফ স্পিন আক্রমণে আনেন ঢাকা অধিনায়ক। তিনটি ছক্কা ও দুটি চারে ওভার থেকে ২৮ রান নেন মইন। এবারের বিপিএলের সবচেয়ে খরুচে ওভার এটি।
শেষ ওভারে ইথান ব্রুকস ও মেহেদী হাসান মিরাজের ছক্কায় ১৮০ স্পর্শ করে সিলেট।

ঢাকার রান তাড়ার শুরুটা ছিল দারুণ। রাহমানউল্লাহ গুরবাজ ও আব্দুল্লাহ আল মামুনের ব্যাটে পাওয়ার প্লেতে পঞ্চাশ পেরিয়ে যায় দল।
উদ্বোধনী জুটিতে আসে ৩৫ বলে ৫৬। বাঁহাতি পেসার রুয়েল মিয়াকে টানা তিনটি চার মারার পর আউট হয়ে যান আল মামুন (১১ বলে ২৪)।
ঢাকার ছন্দপতনের শুরুও সেখানেই। আগের ম্যাচে ৯০ করে নায়ক নাসির হোসেন এবার ব্যর্থ (৭ বলে ৩)।
এরপর মইনের বলে সীমানায় ইথান ব্রুকসের চোখধাঁধানো ক্যাচে ফেরেন শামীম হোসেন (১)। যদিও ক্যাচটি বৈধ কি না, সেই সংশয় আছে। টিভি রিপ্লে দেখে মনে হয়েছে, চূড়ান্তভাবে ক্যাচটি মুঠোয় নেওয়ার সময় সীমানার বাইরে মাটি স্পর্শ করেছে ব্রুকসের এক পা।
গুরবাজ টিকে ছিলেন বলে তবু জিইয়ে ছিল ঢাকার আশা। কিন্তু ফিফটির পরপরই বিদায় নেন তিনি (৪৪ বলে ৫১)।
আগের ম্যাচে একাদশের বাইরে থাকা সাইফ হাসান এ দিন ফিরে শুরুটা ভালো করলেও আউট হয়ে যান ১৪ বলে ২২ রান করে।
পরে মোহাম্মদ মিঠুন ও ইমাদ ওয়াসিমও পারেননি সময়ের দাবি মেটাতে। শেষ দিকে দুই ছক্কায় ১৬ বলে ২৫ করে ব্যবধান কিছুটা কমান সাব্বির রহমান।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
সিলেট টাইটান্স: ২০ ওভারে ১৮০/৬ (তৌফিক ৩২, পারভেজ ১৭, আরিফুল ৩৮, আফিফ ৬, ওমারজাই ৩৩, মইন ২৮, ব্রুকস ৯*, মিরাজ ৭*; ইমাদ ৪-০-২০-১, তাসকিন ৩-০-৩৯-০, সাইফ উদ্দিন ৩-০-২৮-০, জিয়াউর ৪-০-৩৫-৩, নাসির ৪-১-৩৫-১, সাইফ হাসান ২-০-১৬-১)।
ঢাকা ক্যাপিটালস: ২০ ওভারে ১৬০/৮ (গুরবাজ ৫১, আল মামুন ২৪, নাসির ৩, শামীম ১, সাইফ হাসান ২২, মিঠুন ৭, সাব্বির ২৫*, ইমাদ ১২, সাইফ উদ্দিন ৮, তাসকিন ১*; ওমারজাই ৪-০-২৮-১, নাসুম ৪-০-৩৯-১, ইরশাদ ৪-০-২৫-৩, রুয়েল ৪-০-৪৭-১, মইন ৪-০-২০-২)।
ফল: সিলেট টাইটান্স ২০ রানে জয়ী।
ম্যান অব দা ম্যাচ: মইন আলি।