Published : 13 Jul 2026, 06:17 PM
মিয়ানমারে সামরিক অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত ও বন্দি থাকা সাবেক নেত্রী অং সান সু চি ভালো আছেন। তার দেখভাল করা হবে বলে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর জোট আসিয়ানকে জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
রোববার আসিয়ানের বিশেষ দূত এই তথ্য জানান।
মিয়ানমারে আসিয়ানের বিশেষ দূত ও ফিলিপিন্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মারিয়া তেরেসা লাজারো দীর্ঘদিন ধরে ৮১ বছর বয়সী সু চির সঙ্গে সাক্ষাতের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
মিয়ানমার জান্তা ২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানে সু চির নির্বাচিত সরকারকে হটিয়ে ক্ষমতা দখলের পর থেকেই তিনি বন্দি রয়েছেন।
ব্যাংককে এক সংবাদ সম্মেলনে লাজারো বলেন, “মিয়ানমারের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী অং সান সু চি সুস্থ আছেন। তিনি সু চিকে তাদের আত্মীয় বা বোনের মতো উল্লেখ করে বলেছেন যে, তারা তার সব ধরনের দেখভাল করবেন।”
উসকানি, দুর্নীতি, নির্বাচনী জালিয়াতি এবং রাষ্ট্রীয় গোপনীয়তা আইন লঙ্ঘনের মতো একাধিক অভিযোগে সু চি বর্তমানে ২৭ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করছেন, যা সম্প্রতি এক-তৃতীয়াংশ কমানো হয়েছে।
সু চি ও তার সমর্থকেরা বরাবরই এই অভিযোগগুলোকে রাজনীতি থেকে তাকে দূরে রাখার পাতানো ষড়যন্ত্র বলে প্রত্যাখ্যান করে আসছেন।
২০২১ সালের অভ্যুত্থানের পর এই প্রথম ১১ সদস্যের আসিয়ান জোটের শীর্ষ কূটনীতিকেরা মিয়ানমারের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সরাসরি বৈঠকে বসলেন। দেশটিতে ছড়িয়ে পড়া গৃহযুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে পাঁচ বছর আগে একটি শান্তি পরিকল্পনা নেওয়া হলেও তা ব্যর্থ হয়।
মূলত সেই স্থবির হয়ে পড়া শান্তি উদ্যোগকে পুনরুজ্জীবিত করতেই এই অনানুষ্ঠানিক বৈঠকের আয়োজন করা হয়। মিয়ানমারের এই অভ্যন্তরীন সংঘাতের জেরে এ পর্যন্ত প্রায় এক লাখ মানুষের মৃত্যু হয়েছে এবং ঘরছাড়া হয়েছেন আরও লাখ লাখ মানুষ।
এর আগে আসিয়ানের ‘পাঁচ দফা ঐকমত্য’ শান্তি পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ব্যর্থ হওয়ায় মিয়ানমারের সামরিক নেতৃত্বকে জোটের শীর্ষ বৈঠকগুলো থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল।
তবে চলতি বছরের শুরুতে নির্বাচনের পর গত এপ্রিল থেকে দেশটিতে নামমাত্র একটি বেসামরিক সরকার গঠিত হয়েছে।
সাবেক জান্তা প্রধান মিন অং হ্লাইং এখন দেশটির প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন এবং আসিয়ানের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার চেষ্টা চালাচ্ছেন।
সু চিকে বর্তমানে ঠিক কোথায় রাখা হয়েছে তা নির্দিষ্ট করে জানানো হয়নি। তবে বিশেষ দূত লাজারো এর আগে জানিয়েছিলেন, সু চিকে একটি ‘নির্দিষ্ট স্থানে’ স্থানান্তর করা হয়েছে।
ওদিকে, থাইল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সিহাসাক পুয়াংকেটকেও জানান, ব্যাংককের এই অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে মিয়ানমারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তিন মং সোয়ে নোবেলজয়ী সু চির বর্তমান অবস্থা নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্নের সম্মুখীন হন।
সু চির প্রতি মিয়ানমারের ঐতিহ্যবাহী সম্মানসূচক ‘ডাও’ সম্বোধন ব্যবহার করে তিনি বলেন, “আমরা আমাদের মতামত জানিয়েছি যে, আসিয়ানের বিশেষ দূতকে যদি অং সান সু চির সঙ্গে দেখা করার সুযোগ দেওয়া হয়, তবে তা আরও ভালো হবে। এর ফলে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রীর করা দাবিগুলো আমরা সরাসরি যাচাই করতে পারব।”