Published : 14 May 2026, 09:08 PM
আশিকুর রহমান মজুমদারের হাতে ট্যাটুর মতো অক্ষরে কি লেখা? একটু দূর থেকে দেখে কৌতূহল জাগা স্বাভাবিক। বাংলাদেশ দলের এই সহকারী কোচ সিলেটে বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলনে আসার পর কাছ থেকে দেখা গেল, তার হাতে লেখা ‘COOPERATION’। এই লেখার পেছনের গল্পে উঠে এলো কোচ হিসেবে তার দর্শন ও দলকে উদ্বুদ্ধ করতে তার নিবেদন।
আশিক একসময় ছিলেন পেসার। ২০০২ অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে তিনি বাংলাদেশের হয়ে খেলেছেন। ভারতের বিপক্ষে জয়ের ম্যাচ বড় ভূমিকা রেখেছেন ৩ উইকেট নিয়ে। পরে মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবসহ বিভিন্ন ক্লাবে খেলেছেন। বয়সভিত্তিক পর্যায়ের পর খুব ভালো কিছু করতে পারেননি। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ম্যাচ খেলেছেন ১৫টি, লিস্ট ‘এ’ ১৮টি।
খেলা ছাড়ার পর কোচিংক বেছে নিয়েছেন পেশা হিসেবে। ঘরোয়া ক্রিকেটে বিভিন্ন দলে কাজ করে আসছেন অনেক বছর ধরে। নারী জাতীয় দলে সহকারী কোচের দায়িত্ব পালন করেছেন। বিসিবির কোচ হিসেবেও আছেন অনেক দিন ধরে। আপাতত জাতীয় দলে কাজ করছেন পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজটিতে।
প্রতিদিনই অনুশীলনে তার হাতে বিভিন্ন রেকম লেখা থাকে। অনুশীলন শুরুর আগে যখন দলীয় আলোচনা হয়, বৃত্তের মতো যখন কথা হয় গোটা দলের, তিনি দলকে উজ্জীবিত করেন হাতের সেই লেখা থেকেই নানা কিছু বলে।
সিলেটে বৃহস্পতিবার দলের প্রতিনিধি হয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসে ৪২ বছর বয়সী কোচ বললেন, এভাবেই দলে প্রাণের জোয়ার বয়ে আনার চেষ্টা করেন তিনি।
“এই লেখাটা.. এটা আমার নিজের জন্য লেখা ছিল। তবে আমাদের টিম ম্যানেজার আমাদের নাফিস ইকবাল এটা দেখতে পায়, দেখার পরে আমাকে জিজ্ঞেস করে এটার পেছনের কারণ কী। তখন আমি সেটার ব্যাখ্যা দেই, টিম হাডলে এটা নিয়ে কথা বলি।”
“সত্যি বলতে, এখানে ক্রিকেটাররাই হলো মূল ব্যাপার, আমাদের কাছে তারাই আসল। আমার একটা দর্শন আছে, ক্রিকেটাররা হলো সূর্যের আলোর মতো, আর কোচরা একটা আয়নার মতো। সূর্যের আলো যখন আয়নাতে পড়ে ,তখন এটা প্রতিফলিত হয়। আমি এখানে একেকদিন একেকটা স্লোগান লিখে আনি। এটা আমাদের খুব কাজে দেয় প্রাণশক্তি জোগাতে। কখনও যেমন লিখি ‘পজিটিভিটি’, কখনও ‘কোঅপারেশন’, কখনও ‘পিউরিটি’, এরকম নানা কিছু, যা টিম বন্ডিং বাড়ায়।”
সহকারী কোচ হিসেবে আপাতত আশিকের মূল দায়িত্ব ফিল্ডিং। মিরপুর টেস্টে জয়ের পথে প্রথম ইনিংসে কঠিন দুটি সুযোগ নিতে না পারলেও পরে বেশ ভালো ফিল্ডিং করেছে বাংলাদেশ। ক্যাচিং ও গ্রাউন্ড ফিল্ডিং ছিল চোখে পড়ার মতো।
ক্রিকেটারদের ফিল্ডিং পারফরম্যান্সে খুশি কোচ আশিক বড় প্রশংসাই করলেন দলের।
“আমরা জানি এটা কড় দৈর্ঘ্যের ক্রিকেট, টেস্ট ক্রিকেট। এখানে মনোযাগ ধরে রাখাটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের ছেলেরা যে ঘুরে দাঁড়িয়েছে, এটার পূর্ণ কৃতিত্ব ক্রিকেটারদেরই। আমাদের স্লিপ ক্যাচিং অনেক ভালো হয়েছে প্রথম ইনিংস ও দ্বিতীয় ইনিংসে।”
“আমি এখানে ক্রিকেটারদের জন্য, ওদেরকে সহায়তা করার জন্য। আমি আমার সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করছি এবং আমার মনে হয়, আমাদের দলের যে মান, আমাদের যে ফিল্ডিং স্ট্যান্ডার্ড, সর্বোচ্চ পর্যায়ের এবং আন্তর্জাতিকভাবে শীর্ষ তিন দলের একটি, আমি যেটা বিশ্বাস করি। আমি কাজ করে যাচ্ছি, সামনে কী হবে, জানি না। তবে বিশ্বাস করি যে, যেমন আজকের দিনটাই আমরা শেষ দিন, এটা ধরে নিয়েই সবটুকু দিয়ে চেষ্টা করি।”