Published : 16 Nov 2025, 12:55 PM
অস্ট্রেলিয়ার হয়ে টেস্ট খেলেছেন এখনও পর্যন্ত ৪৭১ জন ক্রিকেটার। তাদের গৌরবের একটি পাতায় আছে স্রেফ দুজনের নাম- জেসন গিলেস্পি ও স্কট বোল্যান্ড। তারা দুজনই আদিবাসী সম্প্রদায়ের। সেই তালিকায় এবার যোগ হচ্ছে ব্রেন্ডান ডগেটের নাম। টেস্ট অভিষেকের দুয়ারে থাকা এই পেসারকে নিয়ে দারুণ রোমাঞ্চিত পূর্বসূরী গিলেস্পি।
ডগেটের সামনে সুযোগটা এসেছে মূলত জশ হেইজেলউড চোটে পড়ায়। সব ঠিকঠাক থাকলে আগামী শুক্রবার পার্থে এবারের অ্যাশেজের প্রথম দিনে ‘ব্যাগি গ্রিন’ উঠবে ডগেটের মাথায়। অস্ট্রেলিয়ার ৪৭২তম টেস্ট ক্রিকেটার হবেন তিনি।
অস্ট্রেলিয়ার প্রায় দেড়শ বছরের টেস্ট ইতিহাসে মাত্র তৃতীয় আদিবাসী ক্রিকেটার হতে চলেছেন ডগেট। তিনজনই পেসার। পার্থের একাদশে নিশ্চিতভাবেই থাকবেন বোল্যান্ড। প্রথমবার তাই অস্ট্রেলিয়ার একাদশে একসঙ্গে দেখা যেতে পারে দুজন আদিবাসী ক্রিকেটার।
শেকড়ের কারণে ডগেটকে নিয়ে বাড়তি আগ্রহ তো আছেই। তবে বোলিং দিয়েও নজর কাড়ছেন তিনি অনেক দিন ধরে। ঘরোয়া ক্রিকেটে তিনি নিয়মিত পারফরমার। অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট স্কোয়াডে প্রথমবার জায়গা করে নেন সেই ২০১৮ সালে। গত এক বছরে তো নানা সময়ে বেশ কবারই স্কোয়াডে পেয়েছেন ঠাঁই। কিন্তু খেলার সুযোগ পাননি একবারও। অবশেষে তার সেই প্রতীক্ষা শেষ হচ্ছে।
প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ৫০ টেস্টে ১৯০ উইকেট তার। ঘরোয়া ক্রিকেটে পারফর্ম করার পর অস্ট্রেলিয়া ‘এ’ দলের হয়েও আগুনে বোলিং করেছেন তিনি। গত বছর ১৫ রানে ৬ উইকেট নিয়ে ধসিয়ে দিয়েছিলেন ভারতীয় ‘এ’ দলের ব্যাটিং লাইন আপ। চলতি মৌসুমেও অ্যাশেজ স্কোয়াডে জায়গা পাওয়ার আগে শেফিল্ড শিল্ডে সাউথ অস্ট্রেলিয়ার হয়ে দুই ম্যাচে শিকার করেছেন ১৩ উইকেট।
সব মিলিয়ে ৩১ বছর বয়সী এই পেসার টেস্ট খেলতে দারুণভাবেই তৈরি বলে মনে করেন গিলেস্পি। চোটের কারণে হেইজেলউডের পাশাপাশি প্যাট কামিন্সকেও পার্থে পাচ্ছে না অস্ট্রেলিয়া। তবে এবিসি রেডিওকে গিলেস্পি বললেন, অস্ট্রেলিয়ার খর্বশক্তির পেস আক্রমণও অনেক ক্ষুরধার।
“অস্ট্রেলিয়ার সবচেয়ে গতিময় বোলারদের একজন সে। তার চালিকাশক্তি দারুণ, বলা যায় সে একটা গ্রেহাউন্ড, দুর্দান্ত ফিট। সে প্রস্তুত পুরোপুরি।”
“ইংল্যান্ড হয়তো কিছুটা সুযোগ দেখছে (কামিন্স-হেইজেলউডের অনুপস্থিতিতে)। তবে আমার বিশ্বাস, অস্ট্রেলিয়ার এই পেস আক্রমণও কাজটা ঠিকঠাক করতে যথেষ্ট উপযুক্ত।”
টেস্ট ক্রিকেট পর্যন্ত ডগেটের উঠে আসার পথটাও চমকপ্রদ। বয়সভিত্তিক ক্রিকেটে জাতীয় পর্যায়ে খেলার প্রথাগত পথ ধরে তিনি আসেননি।
২২ বছর বয়সের আগে জাতীয় বা রাজ্য পর্যায়ের প্রতিনিধিত্বমূলক কোনো দলে তিনি খেলেননি। নানা জায়গায় ক্লাব ক্রিকেট খেলে বেড়াতেন তখনও। স্থানীয় নানা প্রতিযোগিতায় নজর কাড়ার পর প্রথমবার কুইন্সল্যান্ডের ‘রুকি’ চুক্তিতে জায়গা করে নেন ২২ বছর বয়সে। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে পা রাখেন পরের বছর। পরে কুইন্সল্যান্ড ছেড়ে পাড়ি জমান সাউথ অস্ট্রেলিয়ায়। সেখানে জ্বলে ওঠেন আরও দারুণভাবে।
সাউথ অস্ট্রেলিয়ার কোচ থাকার সময় ডগেটকে কাছ থেকেই দেখেছেন গিলেস্পি। প্রথাগত পথের বাইরে থেকে ডগেটের উঠে আসা অনেকের জন্যই প্রেরণাদায়ী হবে বলে মনে করেন অস্ট্রেলিয়ার সাবেক পেসার।
“সম্ভাব্য ব্যাগি গ্রিন পাওয়ার পথে ওর যে পথচলা, সেটি আধুনিক ক্রিকেটে খুব একটা দেখা যায় না। আমাদের স্থানীয় প্রতিযোগিতাগুলোর গুরুত্ব ফুটে উঠছে এতে, মূল স্রোত থেকে দূরে রয়েও নিজের শিল্পকে শাণিত করা যায় এভাবে।”