Published : 28 Jun 2026, 10:11 AM
পারস্য উপসগারীয় অঞ্চলে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে হামলা, পাল্টা হামলার ঘটনা বেড়েই চলেছে আর একে অপরের বিরুদ্ধে যুদ্ধ অবসানে প্রায় দুই সপ্তাহ আগে স্বাক্ষরিত অন্তর্বর্তী চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ করছে।
যুক্তরাষ্ট্র ‘সামরিকভাবে কাজটি সম্পন্ন করতে পারে’, প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প এমন হুমকি দেওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই রোববার প্রথম কয়েক ঘণ্টায় কুয়েত ও বাহরাইনে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায় ইরান, এর মধ্য দিয়ে ক্রমবর্ধমান আক্রমণের ধারাবাহিকতা বজায় থাকে বলে রয়টার্স জানিয়েছে।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী জানিয়েছিল, তারা আবার ইরানে আঘাত হেনেছে। হরমুজ প্রণালিতে একটি ট্যাংকারে হামলা হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে একথা জানিয়েছিল মার্কিন বাহিনী।
হরমুজ প্রণালি বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহের জলপথ, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চার মাস ধরে চলা যুদ্ধের অধিকাংশ সময় ইরান এ পথটি কার্যকরভাবে বন্ধ করে রেখেছিল।
চলতি মাসের প্রথমদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ১৪ দফার যে অন্তর্বর্তী চুক্তি হয়েছে তাতে লড়াই বন্ধ ও হরমুজ প্রণালি ফের চালু হওয়ার কথা ছিল। আর ইরানের পারমাণবিক প্রকল্পগুলোর মতো আরও গুরুতর বিষয়গুলো নিয়ে দুপক্ষের মধ্যে বিস্তারিত আলোচনা হওয়ার কথা আছে।
এক সপ্তাহ আগে সুইজারল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স ও ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কলিবফের নেতৃত্বে এক পর্ব মধ্যবর্তী আলোচনা হয়ে গেছে। এই আলোচনার পর ওয়াশিংটন তেহরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়, কিন্তু তারপর থেকে লড়াই ও পাল্টাপাল্টি দোষারোপ আবার শুরু হয় ও তীব্র হতে থাকে।
ট্রাম্প সামাজিক মাধ্যমে এক পোস্টে বলেন, “এমন এক মুহূর্ত আসতে পারে যখন আমরা আর যুক্তিসঙ্গত থাকতে পারবো না আর যে কাজটি আমরা অত্যন্ত সফলভাবে শুরু করেছিলাম তা সামরিকভাবে সম্পন্ন করতে বাধ্য হতে পারি। যদি তেমনটি হয় তাহলে ইসলামিক প্রজাতন্ত্র ইরানের আর অস্তিত্ব থাকবে না!”
ট্রাম্পের এই পোস্টের প্রায় আধ ঘণ্টা পর কুয়েতের সেনাবাহিনী জানায়, তাদের বিমান প্রতিরক্ষা ‘শত্রুপক্ষীয়’ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা প্রতিরোধের চেষ্টা করছে। পাশাপাশি বাহরাইনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, দেশটিতে আকাশ হামলার সতর্কতা জানিয়ে সাইরেন বাজানো হয়েছে।
ইরানের ইসলামিক রেভুল্যুশনারি গার্ড কোর জানায়, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক হামলার প্রতিক্রিয়ায় তাদের নৌবাহিনী ও বিমান বাহিনী কুয়েত ও বাহরাইনে মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোর ওপর যৌথ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন অভিযান চালিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের এক কর্মকর্তা, কুয়েত ও বাহরাইনে তাদের সামরিক স্থাপনাগুলোতে হামলা হয়েছে বলে নিশ্চিত করছেন। তিনি জানিয়েছেন, হামলার পর পরিস্থিতি এখনও পুরোপুরি পরিষ্কার হয়নি তবে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে কেউ হতাহত হয়নি আর এই সময় পশ্চিম এশিয়ায় মার্কিন স্থাপনাগুলো বড় ধরনের কোনো ক্ষয়ক্ষতির শিকার হয়নি।
এক বিবৃতিতে ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড কোর বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় যুদ্ধবিরতির লঙ্ঘন হয়েছে আর এর ‘ফলে সব ধরেনের কূটনৈতি প্রক্রিয়া বন্ধ থাকবে’।
‘আগামী দিনগুলোতে’ পশ্চিম এশিয়ায় মার্কিন সামরিক ঘাাঁটিগুলোর ‘নারকীয় অভিজ্ঞতা হবে’ বলে হুঁশিয়ার করেছে তারা।
এর আগে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানায়, শনিবার পানমার পতাকাবাহী একটি ট্যাংকার ইরানের ড্রোন হামলার শিকার হওয়ার পর তারা ফের ইরানের উপকূলীয় এলাকাগুলোতে আঘাত হেনেছে।
এক বিবৃতিতে সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) বলেছে, “ইরানকে যুদ্ধবিরতি চুক্তিকে সম্মান জানানোর একটি সুযোগ দেওয়া হয়েছিল কিন্তু তারা তা না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।” তারপর তারা বলেছে, “বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর বিরুদ্ধে ইরানের আগ্রাসনের সরাসরি জবাব দেওয়া হয়েছে।”
ইরানের সামরিক নজরদারি, যোগাযোগ অবকাঠামো, বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, ড্রোনের গুদাম ও মাইন পাতার ব্যবস্থাগুলোর ওপর আঘাত হানা হয়েছে বলে জানিয়েছে সেন্টকম।
ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত গণমাধ্যম আইআরআইবি জানিয়েছে, দক্ষিণ ইরানের সিরিকে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।
রেভল্যুশনারি গার্ড বলেছে, “সিরিক লক্ষ্য করে আমেরিকার লক্ষ্যহীন আক্রমণ হরমুজ প্রণালীর উপর আমাদের আধিপত্যের আবসান ঘটাতে পারবে না। কিন্তু লঙ্ঘনকারীদের লক্ষ্য করে আমাদের ছোড়া গুলি বাকি জাহাজগুলোকে পরিষ্কার যাতায়াতের পথটির কথা মনে করিয়ে দেবে।“
আরও পড়ুন:
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র ফের পাল্টাপাল্টি হামলা, যুদ্ধবিরতি প্রশ্নবিদ্ধ