Published : 23 May 2026, 10:39 PM
উঠতি তরুণ থেকে ক্রমেই বড় তারকা হয়ে উঠছেন নাহিদ রানা। গতি ও বাউন্সারে প্রতিপক্ষের নাভিশ্বাস তুলে ছাড়ছেন তিনি। চমৎকার পারফরম্যান্সে বিশ্ব ক্রিকেটে আলাদা করে কেড়েছেন নজর। বাংলাদেশের সেনসেশনকে স্তুতির জোয়ারে ভাসিয়েছেন অ্যালান ডোনাল্ডও। নাহিদের বোলিংয়ের যে সহজাত সামর্থ্য, সেটা নিয়ে নাড়াচাড়া না করার পরামর্শ দিয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকার কিংবদন্তি পেসার।
২০২৪ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেকের পর থেকেই গতি দিয়ে সবার নজরে এসেছেন নাহিদ। সবশেষ সিরিজেও যেমন তার আগুনে বোলিংয়ে পুড়ে ছাই হয়েছে পাকিস্তান। বিশেষ করে মিরপুর টেস্টে শেষ দিনে অসাধারণ বোলিং করেন তিনি।
ওই ম্যাচে রান তাড়ায় এক পর্যায়ে ভালো অবস্থায় ছিল পাকিস্তান। একের পর এক আগুনের গোলা ছুঁড়ে এক স্পেলেই প্রতিপক্ষের সব আশা গুঁড়িয়ে দেন নাহিদ। বাংলাদেশের ১০৪ রানের জয়ে রাখেন বড় ভূমিকা। টেস্টের চতুর্থ ইনিংসে স্রেফ ৪০ রান দিয়ে পাঁচ উইকেট নেন তিনি। পাকিস্তানকে হোয়াইটওয়াশ করা দুই টেস্টের সিরিজে ১১ উইকেট নেন নাহিদ।
২০২২ থেকে ২০২৩ সালে বাংলাদেশের পেস বোলিং কোচ হিসেবে কাজ করেন ডোনাল্ড। সেই সুবাদে নাহিদকে কাছ থেকে দেখার সুযোগ হয় তার। চট্টগ্রামে একটি ক্যাম্পে এই পেসারকে দেখে মুগ্ধ হয়েছিলেন তিনি। তখনকার বাংলাদেশ কোচ রাসেল ডমিঙ্গোকে নাকি নাহিদকে দ্রুত জাতীয় দলে সুযোগ দেওয়ার পরামর্শও দিয়েছিলেন তিনি।
উইজডেনের ‘দা স্কুপ’ পডকাস্টে আলোচনার সময় নাহিদকে প্রথম দেখার স্মৃতিচারণ করেন ডোনাল্ড।
“এই ছেলেকে সামলানো কঠিন। সে গতিময়, লম্বা-চিকন গড়নের, এক কথায় অসাধারণ একজন অ্যাথলেট। আমি তাকে একটা ক্যাম্পে প্রথম দেখেছিলাম। পুরো বাংলাদেশ থেকে একঝাঁক তরুণ পেসারকে নিয়ে চট্টগ্রামে আড়াই দিনের একটি ক্যাম্প করা হয়েছিল, সেখানেই তার সঙ্গে আমার প্রথম দেখা।”
“তাকে দেখে এতটাই রোমাঞ্চিত হয়েছিলাম যে, তখনকার কোচ রাসেল ডমিঙ্গোকে বলেছিলাম, চলো ছেলেটাকে কোথাও সুযোগ দেই। ও একেবারেই অপরিচিত, একদমই অনভিজ্ঞ এবং ভীষণ গতিময়। আর এখন সে ক্রিকেটের সব সংস্করণেই দারুণ করছে। এটা দেখা সত্যিই অসাধারণ।”
নাহিদের বোলিংয়ের ধরনের সঙ্গে ইংল্যান্ডের সাবেক গতিময় বোলার স্টিভ হার্মিসনের মিল খুঁজে পান ডোনাল্ড। নাহিদের সেরাটা পেতে তার স্বাভাবিক বোলিংয়ে কোনো বদল না আনার পরামর্শ দেন তিনি।
“সে কিছুটা সেরা ছন্দে থাকা স্টিভেন হার্মিসনের মতো। হার্মি দীর্ঘদেহী, দৌড়টাও খুব দারুণ কিছু ছিল না, তবে ছন্দের দিক থেকে সে ছিল দুর্দান্ত… হার্মিসন ছিল মারাত্মক গতিময়। নাহিদ রানাও তেমনই।”
“আমার মনে হয় নাহিদের ব্যাপারে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, লাইন-লেংথ মেপে বল করার জন্য না বলা। ঢাকা টেস্টের প্রথম ইনিংসে সে ১১৪ রান (১০৪ রান দিয়ে ১ উইকেট) খরচ করে একটি বা উইকেট পায়নি বললেই চলে; কিন্তু দ্বিতীয় ইনিংসেই ৫ উইকেট শিকার করে। আর এই কারণেই তার সহজাত সামর্থ্যে কখনো হস্তক্ষেপ করা উচিত নয়। হয়তো কিছু রান খরচ করবে, কিন্তু পরেই একাই ৬ উইকেট তুলে নেওয়ার সামর্থ্য রাখে, এটাই তার বিশেষত্ব। তাই আমার মনে হয়, নাহিদ রানার শুধু মাঠে নেমে নিজের গতিতে বল করে যাওয়া উচিত।”