Published : 12 Jul 2026, 08:39 PM
গত অ্যাশেজে ভরাডুবির পরও প্রকাশ্যে ব্রেন্ডন ম্যাককালামের পাশে দাঁড়ানো ইংল্যান্ড ও ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড (ইসিবি) নিজেদের সিদ্ধান্ত বদলে ফেলেছে। টেস্টের প্রধান কোচের পদ থেকে তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে। তবে সাদা বলের ক্রিকেটে দায়িত্ব পালন করে যাবেন নিউ জিল্যান্ডের সাবেক ক্রিকেটার।
৪৪ বছর বয়সী ম্যাককালামকে টেস্টের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়ার কথা রোববার নিশ্চিত করেছে ইসিবি। এর মধ্য দিয়ে ইংল্যান্ড টেস্ট দলের কোচ হিসেবে তার চার বছরের অধ্যায়ের ইতি ঘটল।
‘ভীষণ পছন্দের’ চাকরি হারিয়ে ‘স্তব্ধ ও হতাশ’ ম্যাককালাম। তবে, ইসিবির দেওয়া বিবৃতিতে ইংল্যান্ড টেস্ট দলের জন্য শুভকামনা জানিয়েছেন তিনি।
“অবশ্যই কাজটা চালিয়ে যেতে না পেরে আমি খুবই হতাশ, তবে এই সিদ্ধান্তকে সম্মান জানাই। আমার মনোযোগ এখন সীমিত ওভারের দলগুলোর জন্য নিজের সবটুকু উজাড় করে দেওয়া এবং ইংল্যান্ডকে এগিয়ে যেতে সাহায্য করা... টেস্ট দলের সাফল্য কামনা করি।”
অস্ট্রেলিয়ায় সবশেষ অ্যাশেজে ৪-১ ব্যবধান হারের পরও দায়িত্বে টিকে যান অধিনায়ক বেন স্টোকস ও কোচ ম্যাককালাম। গত মার্চে ইসিবির প্রধান নির্বাহী রিচার্ড গোল্ড জোর দিয়ে বলেছিলেন, অস্ট্রেলিয়া সফরের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে নিজের উন্নতি করতে পারেন ম্যাককালাম। এমনকি ওই সময় তাকে বরখাস্ত করাকে ‘সবচেয়ে সহজ পথ’ বলেও উল্লেখ করেছিলেন তিনি।
কিন্তু তিন টেস্টের পরই বদলে গেল ইসিবির কর্তাদের ভাবনা। নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে ঘরের মাঠে টেস্ট সিরিজে ২-১ ব্যবধানে হারের পর, ম্যাককালামকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দিয়েছে তারা। আগামী অ্যাশেজের আগে এক বছরেরও কম সময় বাকি থাকায়, ‘এখনই পরিবর্তনের উপযুক্ত সময়’ বলেছেন গোল্ড।
“এক রোমাঞ্চকর সময়ে ইংল্যান্ড টেস্ট দলে প্রাণের সঞ্চার করেছিলেন ব্রেন্ডন, যে সময়ে আমরা অবিশ্বাস্য কিছু জয় দেখেছি। এই ভূমিকায় তিনি যা দিয়েছেন, সেজন্য আমরা কৃতজ্ঞ। আগামী গ্রীষ্মের অ্যাশেজ জয়ের লক্ষ্য সামনে রেখে আমরা বিশ্বাস করি, টেস্ট দলে পরিবর্তন আনার এটাই সঠিক সময়।”
২০২২ সালে ইংল্যান্ড টেস্ট দলের দায়িত্ব নেন ম্যাককালাম। অধিনায়ক স্টোকসকে সঙ্গে নিয়ে তিনি দলের খেলায় আমূল পরিবর্তন আনেন। টেস্টে ইংলিশদের আগ্রাসী ঘরানার কৌশল নাম পেয়ে যায় ‘বাজবল’, যেটা ম্যাককালামের ডাকনাম ‘বাজ’- এর সঙ্গে মিলিয়ে রাখা রয়েছে।
ম্যাককালামের কোচিংয়ে প্রথম ১১ টেস্টের ১০টিতেই জয় পায় ইংল্যান্ড। আক্রমণাত্মক ও ব্যতিক্রমী ক্রিকেট খেলে প্রশংসা কুড়ায় দলটি। তবে পরে ফলাফল ধারাবাহিকভাবে খারাপ হতে থাকে। শেষ পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়া ও ভারতের বিপক্ষে কোনো টেস্ট সিরিজ জিততে না পেরেই দায়িত্ব ছাড়তে হচ্ছে তাকে।
সব মিলিয়ে, কোচ হিসেবে ২৭টি টেস্ট জিতেছেন ম্যাককালাম, ড্র করেছেন দুটি, হেরেছেন ২০টি। তার সময়ে শেষ ৯ টেস্টের সাতটিতেই হেরেছে ইংল্যান্ড। চার বছর আগে নিউ জিল্যান্ডকে ৩-০ ব্যবধানে হোয়াইটওয়াশ করে দায়িত্ব শুরু করা ম্যাককালামের শেষ কাজ সেই কিউইদের বিপক্ষেই।
ইংল্যান্ডের ক্রিকেট ব্যবস্থাপনা পরিচালক রব কি দুই বছর আগে ম্যাককালামের চুক্তি নবায়নের সময় তাকে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি দলের দায়িত্বও দেন। সেই চুক্তির মেয়াদ ছিল ২০২৭ সালের শেষ পর্যন্ত। টেস্ট দলের দায়িত্বে তাকে আর না দেখা গেলেও, আগামী বছর অনুষ্ঠেয় ওয়ানডে বিশ্বকাপ পর্যন্ত ইংল্যান্ডের সাদা বলের কোচ হিসেবে কাজ করবেন তিনি।
সপ্তাহ দুয়েক আগে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে বিদায় বলে দেন ইংল্যান্ডের টেস্ট অধিনায়ক স্টোকস। এবার এই সংস্করণের জন্য নতুন কোচ খুঁজতে হবে ইংলিশদের। এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে আবারও আলাদা কোচিং কাঠামোয় ফিরছে ইংল্যান্ড। ২০২২ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত তাদের সাদা বলের দলের কোচ ছিলেন ম্যাথু মট।
ইসিবি জানিয়েছে, নতুন কোচ খোঁজার প্রক্রিয়া অবিলম্বে শুরু করবে তারা।
সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকায় অ্যান্ড্রু ফ্লিন্টফ, রিচার্ড ডসন, রায়ান ক্যাম্পবেল এবং জাস্টিন ল্যাঙ্গার থাকতে পারেন।
২০০৯, ২০১০-১১ এবং ২০১৩ সালে ইংল্যান্ডকে তিনটি অ্যাশেজ জেতানো অ্যান্ডি ফ্লাওয়ারও ইসিবির নজরে থাকতে পারেন। তবে আইপিএল ফ্র্যাঞ্চাইজি রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর হয়ে দারুণ সফল হওয়ায়, তাকে পূর্ণকালীন আন্তর্জাতিক দায়িত্বে ফিরিয়ে আনতে বড় অঙ্কের চুক্তির প্রস্তাব দিতে হতে পারে।