Published : 22 Jan 2026, 08:58 AM
এসএ টোয়েন্টি খেলতে কেন উইলিয়ামসন ছিলেন দক্ষিণ আফ্রিকায়। প্রাথমিক পর্ব থেকে তার দলের বিদায় নিশ্চিত হয় সোমবার। ব্যস, শুরু হয় তার নতুন অভিযান। ডারবান থেকে তিনটি ট্র্যানজিট আর দীর্ঘ পথ পেরিয়ে প্রায় ২৪ ঘণ্টার ভ্রমণে পা রাখেন তিনি ঢাকায়। এই যে এত লম্বা ভ্রমণের পর বিপিএল খেলতে আসা, সেটি শেষ হয়ে যেতে পারত এক ম্যাচ খেলেই। তবু তিনি এসেছেন। কারণ সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার জন্যই তাকে পেতে প্রবল আগ্রহী ছিল রাজশাহী ওয়ারিয়র্স।
সকালে ঢাকায় এসে সন্ধ্যায় ম্যাচ খেলতে নেমে যান উইলিয়ামসন। দলের বিপর্যয়ে দারুণ গুরুত্বপূর্ণ এক জুটি গড়েন স্বদেশি জিমি নিশামের সঙ্গে। ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দেওয়া বড় ভূমিকা রাখে সেই জুটি। ১২ রানে জিতে ফাইনালে পৌঁছে যায় রাজশাহী।
নিউ জিল্যান্ডের সর্বকালের সেরা ব্যাটসম্যান কতটা পেশাদার মানসিকতার, সেটি তো পারফরম্যান্সেই ফুটে উঠেছে। ম্যাচের পর কোচ হান্নান সরকার শোনালেন ৩৫ বছর বয়সী তারকার পেশাদারিত্বের আরেকটি গল্প।
“নিউ জিল্যান্ডের ক্রিকেটারদের আমরা সবসময় প্রশংসা করি, তাদের ক্যারেক্টারের জন্য, খুব সফট এবং স্মার্ট হয়। কেন (উইলিয়ামসন) কিন্তু আজকে সকাল ৯টা-সাড়ে ৯টার দিকে হোটেলে পৌঁছেছে। পৌঁছানোর পরে আমাদের টিম মিটিং ছিল, সেটাতেও যোগ দিয়ছে। এরপর সে বিশ্রাম নেওয়ার জন্য রুমে গেছে। আমি এজন্যই কথাটা বললাম, খুবই পেশাদার একজন ক্রিকেটার।”
রাজশাহী যখন উইলিয়ামসনকে আনার ঘোষণা দিল, কিছু সংশয়ের জায়গা তৈরি হয়েছিল। যে সময়ে তাকে আনা হচ্ছে, এক ম্যাচেই শেষ হয়ে যেতে পারে তার অভিযান। তবু কেন এত ঝামেলা করে তাকে দলে নিতে হবে!
টেস্ট ক্রিকেটে তিনি কিংবদন্তি। ওয়ানডেতেও তিনি গ্রেট। টি-টোয়েন্টিতে কখনোই তিনি ওই উচ্চতায় ছিলেন না বা বিধ্বংসী হতে পেরেছেন কমই। তবে ক্যারিয়ারের সেরা সময়ে কার্যকর হওয়ার পথ খুঁজে নিয়েছেন। কিন্তু সেই দিনগুলোও এখন অতীত। এই এসএ টোয়েন্টি বা এর আগে ইংল্যান্ডের দা হান্ড্রেড, কোথাও তিনি তেমন ভালো করতে পারেননি।

তবু কেন উইলিয়ামসনকে পেতে রাজশাহী উঠেপড়ে লেগেছিল, সেই ব্যাখ্যা দিলেন কোচ হান্নান।
“মিরপুরে যখন খেলাটা চলে এসেছে, আমরা দেখেছি যে দেড়শর আশেপাশে রান এখানে ভালো স্কোর। এক্ষেত্রে কেনের (উইলিয়ামসন) মতো একজন ভূমিকা রাখতে পারে এবং ইনিংসটাকে গড়ে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে। এই ধরনের একজন ক্রিকেটার আমাদের কম্বিনেশনে খুব দরকার ছিল। কারণ আমাদের নিচের দিকে আমাদের ব্যাটিং যারা ছিল, তারা যতটা অবদান রাখবে, সেটার সাপোর্ট আমাকে পেতে হবে ওপর থেকে। কেনের অন্তর্ভুক্তি সেভাবে চিন্তা করেছি আমরা।”
“সে নিশ্চিতভাবেই বিশ্বমানের এবং এই ধরনের মানসিকতাই সে মেলে ধরেছে আইপিএল বলেন, নিউ জিল্যান্ড দল, প্রতিটি জায়গায়। এটা অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ যে, মিরপুরের কন্ডিশন বা ১৫০-১৬০ রানের যখন খেলা হয়, এই ধরনের একজন ব্যাটসম্যান নিশ্চিতভাবে সেই দলের শক্তির জায়গা।”
কোচ যেমন বলেছেন, কোয়ালিফায়ার ম্যাচে ঠিক সেই কাজটিই করেছেন উইলিয়ামসন। দুই ওপেনারের ভালো শুরুর পর তিন নম্বরে ক্রিজে গিয়ে দারুণ একটি শটে ছক্কা মেরেছেন। পরে যখন দ্রুত চারটি উইকেট হারিয়ে দল বিপদে, তখন তিনি উইকেট ধরে রেখে জুটি গড়ায় মন দিয়েছেন। সেখানে সঙ্গী পেয়েছেন জিমি নিশামকে। ষষ্ঠ উইকেটে ৫০ বলে ৭৭ রানের জুটি গড়েন দুজন। এজন্যই ১৬৫ রানের পুঁজি পায় রাজশাহী।
উইলিয়ামসন অপরাজিত থাকেন ৩৮ বলে ৪৫ রান করে। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে মোটেও আদর্শ ইনিংস নয়। তবে এই ইনিংসের প্রেক্ষাপটে দারুণ গুরুত্বপূর্ণ।
নিশামের এটি ছিল ৩৩১তম টি-টোয়েন্টি ম্যাচ। উইলিয়ামসনের তিনশ হতে চলেছে। কোচ বললেন, অভিজ্ঞতা দিয়েই ম্যাচের পরিস্থিতির দাবি মিটিয়েছেন এই দুজন।
“দুজন অভিজ্ঞ ক্রিকেটার যখন উইকেটে থাকে, তারা জানে কী করতে হয় এবং সেটা বাস্তবায়ন করার ক্ষেত্রে তাদের পরিকল্পনা কেমন। যেহেতু দুজন একসঙ্গে লম্বা সময় একসঙ্গে খেলেছে, তারা পরিকল্পনা সেভাবে সাজিয়েছে। আমি যখন স্ট্র্যাটেজিক টাইম আউটে গিয়েছি (মাঠে)… শান্তও (অধিনায়ক) তাদের সঙ্গে বিষয়গুলো আলোচনা করেছে। তারা নিশ্চিতভাবেই তাদের পরিকল্পনা সাজিয়ে বাস্তবায়ন করার চেষ্টা করেছে।”
“হ্যাঁ, উইকেট পড়ে গিয়েছিল, চাপ এসেছিল। তবে বিশ্বমানের ক্রিকেটাররা যখন একসঙ্গে ব্যাটিং করে, তারা নিজেরাই পরিকল্পনা সাজাতে পারে। সেখানে আসলে খুব বেশি বলার কিছু থাকে না। অভিজ্ঞ ক্রিকেটার যে কোনো সংস্করণেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে, আজকে নিশ্চিতভাবে তাদের এই জুটি সেটা প্রমাণ করে।”