Published : 01 Jul 2026, 09:14 PM
গত বিপিএলে ইয়াসির আলি চৌধুরির পারফরম্যান্স ছিল যাচ্ছেতাই। মোসাদ্দেক হোসেন তো খেলার সুযোগই পাননি। অনেকটা হুট করেই জিম্বাবুয়ে সফরের বাংলাদেশ টি-টোয়েন্টি দলে নেওয়া হয়েছে দুজনকেও। প্রশ্নও তাই উঠছে স্বাভাবিকভাবেই। প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশারের কাছ থেকে পাওয়া গেল সেই ব্যাখ্যা।
এই দুজনই বাংলাদেশের হয়ে সবশেষ টি-টোয়েন্টি খেলেছেন ২০২২ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে। ইয়াসির অবশ্য পরে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি খেলেছেন ২০২৩ এশিয়ান গেমসে। তবে সেখানে জাতীয় দল খেলেনি।
জিম্বাবুয়ে সফরের এই স্কোয়াডের উল্লেখযোগ্য একটি দিক হলো, জায়গা হারিয়েছেন শামীম হোসেন। দেশের গুটিকয় টি-টোয়েন্টি বিশেষজ্ঞদের একজন তিনি। টি-টোয়েন্টি ফিনিশার তো সেভাবে আর কেউ নেই বললেই চলে। কিন্তু তার সেই তকমা কিংবা তার প্রতি প্রত্যাশা, কিছুই পারফরম্যান্সে রূপ পাচ্ছে না।
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে হাবিবুল বললেন, ফর্মের কারণেই বাদ দেওয়া হয়েছে শামীমকে।
“শামীম একদমই রান করছিল না। ওর ঘরানার টি-টোয়েন্টি ব্যাটসম্যান আমাদের খুব বেশি নেই। কিন্তু রান তো করতে হবে! ও বাদ পড়েছে মানেই বাতিল নয়। আশা করি, রান করে আবার দলে ফিরবে।”
“ওর প্রতি আমার বার্তা একটাই, রান করতে হবে, ফর্মে ফিরতে হবে। আশা করি, হতাশ না হয়ে রানে ফেরার চেষ্টা করে যাবে।”
সবশেষ সিরিজে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তিন ইনিংসে তার রান মোট ৮। এর আগের সিরিজে নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে এক ম্যাচে ২০ বলে ৩১ করলেও আরেকটিতে করেছিলেন ৩। এর আগের তিন টি-টোয়েন্টি মিলিয়ে তার রান ছিল ৩।
সবশেষ ১০ ইনিংসের ৮টিতেই তিনি দু অঙ্ক ছুঁতে পারেননি। এর মধ্যে তিনটিতে ফিরেছেন শূন্য রাতে, তিনটিতে ১ রানে। বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তের সঙ্গে তাই দ্বিমত করার সুযোগ নেই বললেই চলে।
তার শূন্যতা পূরণেই দলে নেওয়া হয়েছে মোসাদ্দেককে। যদিও দুজন ব্যাটিংয়ের ধরন আলাদা। তবে অর্ডারে তাদেরকে একই ভূমিকাতেই নেওয়া হয়েছে বলে জানালেন প্রধান নির্বাচক।
“শামীমের জায়গাতেই মোসাদ্দেক বলতে পারেন। এই জায়গাটিতে আমাদের ঘাটতি রয়ে যাচ্ছে। এখান থেকে আমাদের রান আসতে হবে। সেখানে মোসাদ্দেক পারবে আশা করি। আরেকটা ব্যাপার হলো, আমাদের শীর্ষ ছয় ব্যাটসম্যানের কেউ বল করে না। একটা বাড়তি বোলিং অপশন দরকার। এখানেও মোসাদ্দেক কার্যকর হবে বলে আমাদের বিশ্বাস।”
বোলিং শামীমও করেন। তবে তিনি অনিয়মিত স্পিনার। মোসাদ্দেক বিশেষজ্ঞ স্পিনার না হলেও নিয়মিত বোলার।
তবে প্রশ্ন উঠছে তাকে দলে নেওয়ার মানদণ্ড নিয়ে। দুর্নীতিতে জড়ানোর সন্দেহের তালিকায় থাকায় গত বিপিএলে তাকে খেলতে দেওয়া হয়নি। আগের বিপিএলে ৫ ইনিংসে করেছিলেন মাত্র ৩৬ রান। ৮ ম্যাচে উইকেট নিয়েছিলেন ওভারপ্রতি ৮.৩০ রান দিয়ে ৮টি।
প্রধান নির্বাচকের কথায় যা বোঝা গেল, মোসাদ্দেককে নিয়ে এক ধরনের ‘চান্স’ নিয়েছেন তারা।
“হ্যাঁ, মোসাদ্দেক গত বিপিএল খেলেনি। সার্বিক টি-টোয়েন্টি রেকর্ডও খুব ভালো নয়। এসব আমাদের ভাবনা ছিল। তবে সাদা বলের অন্য সংস্করলে ভালো করছে ও। আমাদের একটু সুযোগ নিতে হবে, এ ছাড়া উপায় খুব একটা নেই। কাউকে সুযোগ দিতে হলে, এখনই সময়। মোসাদ্দেককে আনা হয়েছে ওই চিন্তাভাবনা থেকেই। অলরাউন্ড সামর্থ্যটা আমরা কাজে লাগাতে চাই।”
বিপিএল না খেললেও এর আগে জাতীয় লিগ টি-টোয়েন্টি অবশ্য ব্যাটে-বলে ভালোই কেটেছে তার। সেখানে ৫৮.৬৬ গড় ও ১৬০ স্ট্রাইক রেটে করেছিলেন ১৭৬ রান, ওভারপ্রতি ৭.৩৫ রান দিয়ে উইকেট নিয়েছিলেন ৬টি।
জাতীয় লিগে টি-টোয়েন্টি দারুণ পারফরম্যান্স ছিল ইয়াসিরেরও। চট্টগ্রাম বিভাগের হয়ে ৬৫.৬৬ গড় ও ১৩৯.৭১ স্ট্রাইক রেটে করেছিলেন ১৯৭ রান। তবে আরও কঠিন পরীক্ষা যেটি, সেই বিপিএলে ছিলেন ব্যর্থ (৪ ইনিংসে ৫১ রান, স্ট্রাইক রেট ৯৮.০৭)।
তাকে নেওয়ার ক্ষেত্রেও পরিস্থিতি খুব আদর্শ নয়, মানছেন প্রধান নির্বাচন। এখানেও আসলে যুক্তির চেয়ে আশাই বেশি।
“ইয়াসিরও গত বিপিএলে ভালো করেনি। তবে ছয়-সাতে আমরা এরকম ব্যাটসম্যান চাই, যারা বাউন্ডারি ক্লিয়ার করতে পারে। ওরকম ব্যাটসম্যান আমাদের খুব বেশি নেই। পাওয়ার হিটিংয়ের চিন্তা থেকেই ওকে নেওয়া হয়েছে।”
জিম্বাবুয়েতে বাংলাদেশের তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজের ম্যাচগুলি আগামী হবে ১৫, ১৭ ও ১৯ জুলাই।
লঙ্কা প্রিমিয়ার লিগে খেলার কারণে ছুটি পাওয়ায় এই সিরিজে থাকছেন না অধিনায়ক লিটন কুমার দাস ও তাসকিন আহমেদ। নেতৃত্ব দেবেন তাওহিদ হৃদয়।