Published : 01 Jul 2026, 05:50 PM
দুই ম্যাচের একটিতেও একাদশে জায়গা হয়নি। মাঠে থাকা ক্রিকেটারদের জন্য বয়ে নিতে হয়েছে পানি ও তোয়ালে। আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজে বৈভাব সুরিয়াভানশিকে এই ভূমিকায় দেখে আঁতকে উঠেছেন অনেকেই। তাদেরকে শান্ত করে রাভিচান্দ্রান অশ্বিন বলছেন, একাদশের বাইরে থাকার এই সময়টা আরও সমৃদ্ধ করবে তুমুল প্রতিভাবান এই কিশোর ব্যাটসম্যানকে।
এবারের আইপিএলে অবিশ্বাস্য পারফরম্যান্সের পর ভারতের টি-টোয়েন্টি দলে জায়গা করে নেন সুরিয়াভানশি। আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজে তার অভিষেক হবে বলেও ধারণা করা হচ্ছিল। তবে দুই ম্যাচের সিরিজে সাঞ্জু স্যামসন ও আভিশেক শার্মার পরীক্ষিত উদ্বোধনী জুটিতেই ভরসা রাখে ভারতের টিম ম্যানেজমেন্ট।
সুরিয়াভানশিকে না খেলানোয় সিরিজের আগে, মাঝখানে ও পরে নানা প্রশ্নের জবাব দিতে হয়েছে ভারতের অধিনায়ক ও কোচদের। তারা বলেছেন, অন্য সবার মতোই প্রক্রিয়া মেনে একাদশে জায়গা করে নিতে হবে ১৫ বছর বয়সী ব্যাটসম্যানকে।

বেলফাস্টে ওই সিরিজে সুরিয়াভানশিকে দেখা গেছে অন্য সব অতিরিক্ত ক্রিকেটারের মতোই মাঠে সতীর্থদের জন্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র বয়ে নিতে। এসব নিয়েও সামাজিক মাধ্যমে আলোচনা হয় বেশ।
এটা নিজেই নিজে ইউটিউব চ্যানেলে আলোচনা করলেন অশ্বিন। ভারতের স্পিনিং গ্রেটের মতে, অতিরিক্ত ক্রিকেটারের কাজটাও খেলারই গুরুত্বপূর্ণ অংশ এবং একজন ক্রিকেটারের জন্য তা জরুরি।
‘বৈভাব সুরিয়াভানশিকে সময় দিতে হবে আমাদের। আইপিএলে সে যেভাবে খেলেছে, স্পষ্টতই তাকে কোনো না কোনো সময়ে জাতীয় দলে খেলাতেই হবে। সে এতটাই স্পেশাল। কিন্তু আমি যা বলতে চাইছি, সে পানি টানলে সমস্যা কোথায়? পানি বয়ে নিয়ে যাওয়া কোনো অসম্মানজনক কাজ নয়?”
“লোকেরা কেন মনে করে জল বয়ে নিয়ে যাওয়া একটি খারাপ কাজ! ক্রিকেটের নীতি কবে বদলে গেল? ১৯৯০ ও ২০০০-এর দশকে আমি চেন্নাইতে বলবয় ছিলাম এবং তখন ক্রিকেটারদের জন্য পানি বয়ে নিয়ে যেতে আমার খুব ভালো লাগত। মাঠে ছুটে গিয়ে ভারতীয় ক্রিকেটারদের পানির বোতল দেওয়ার ব্যাপারটা কবে থেকে ছোট হওয়ার মতো ব্যাপার হলো?”
সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টির পরও অশ্বিন বলেছিলেন, শুরুতেই একাদশে সুযোগ না পাওয়াটা সুরিয়াভানশির ভবিষ্যতের ভিত গড়ে দিতে সহায়তা করবে।
“বাইরে বসে খেলা দেখারও একটা গুরুত্ব আছে। তাকে দলের সেবা করতে দিন, সাহায্য করতে দিন, এমনকি পানিও বয়ে নিতে দিন। সেই অভিজ্ঞতা থেকে অনেক কিছু শেখার আছে।”
“গ্রেট ক্রিকেটার রাতারাতি তৈরি হয় না। বৈভাব একবার খেলা শুরু করলে, তাকে হয়তো আর দল থেকে বাদ দেওয়া যাবে। সাচিন টেন্ডুলকারের ক্ষেত্রে হয়েছিল এমন। বৈভাব যদি খেলার প্রথমে কিছু সময় একাদশের বাইরে কাটায়, তাহলে সে সহানুভূতি পাবে এবং দলের আবহ সম্পর্কে আরও ভালো ধারণা পাবে। তার সামনে একটি দীর্ঘ এবং গৌরবময় ক্যারিয়ার রয়েছে। বাইরে বসে থাকাও বড় একটি ভূমিকা।”