Published : 06 Apr 2026, 03:02 PM
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেরা খেলোয়াড় সাঞ্জু স্যামসনের সামনে আরেকটি স্বীকৃতির হাতছানি। ‘আইসিসি প্লেয়ার অব দা মান্থের’ সংক্ষিপ্ত তালিকায় জায়গা পেয়েছেন ভারতীয় ওপেনার। মার্চের সেরার লড়াইয়ে তার সঙ্গী সতীর্থ জাসপ্রিত বুমরাহ ও দক্ষিণ আফ্রিকান ব্যাটসম্যান কনর এস্তেহেইজেন।
গত মাসের সেরার লড়াইয়ে থাকা নারী ও পুরুষ ক্রিকেটারের সংক্ষিপ্ত তালিকা সোমবার প্রকাশ করে আইসিসি। মার্চে কেবল তিনটি ম্যাচ খেলেই সেরার লড়াইয়ে জায়গা করে নিয়েছেন স্যামসন ও বুমরাহ। আর অভিষেক সিরিজে আলো ছড়িয়ে পাঁচ ম্যাচ খেলে সংক্ষিপ্ত তালিকায় এসেছেন এস্তেহেইজেন।
মেয়েদের সেরার লড়াইয়ে আছেন অস্ট্রেলিয়ার বেথ মুনি, নিউ জিল্যান্ডের অ্যামেলিয়া কার ও দক্ষিণ আফ্রিকার আয়াবঙ্গা খাকা।
সাঞ্জু স্যামসন
ভারতের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জয়ে বড় অবদান রাখেন স্যামসন। দলের শেষ তিন ম্যাচেই আশি ছোঁয়া ইনিংস খেলে জয়ের ভিত গড়ে দেন তিনি। তিনটি ম্যাচই হয় গত মাসে। আসরে পাঁচ ইনিংসে ৩২১ রান করে জিতে নেন টুর্নামেন্ট সেরার পুরস্কার। জায়গা করে নেন বিশ্বকাপ সেরা একাদশেও।
বিশ্বকাপের শুরুতে ভারতের একাদশে জায়গা হয়নি স্যামসনের। পরে শেষ দিকে তাকে ফেরায় দল। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে কোয়ার্টার-ফাইনালে রূপ দেওয়া সুপার এইটের ম্যাচে ৯৭ অপরাজিত ইনিংস খেলে দলকে শেষ চারে তোলেন তিনি।
সেমি-ফাইনাল ও ফাইনালেও হাসে স্যামসনের ব্যাট। ইংল্যান্ডকে হারিয়ে ফাইনালে ওঠার ম্যাচে ৮৯ রান করেন তিনি। আর শিরোপার মঞ্চে নিউ জিল্যান্ডের বোলারদের গুঁড়িয়ে করেন ঠিক ৮৯ রান।
জাসপ্রিত বুমরাহ
ভারতের বিশ্বকাপ জয়ে বুমরাহর অবদানও কম নয়। গত মাসে হওয়া ফাইনাল অসাধারণ বোলিং করেন তিনি। কিউইদের বিপক্ষে স্রেফ ১৫ রান দিয়ে ৪ শিকার ধরেন অভিজ্ঞ পেসার। এই পারফরম্যান্সে জিতে নেন ফাইনালের সেরার পুরস্কারও।
সেমি-ফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ৩৩ রানে একটি এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ৩৬ রানে দুটি উইকেট নেন বুমরাহ। তিনিও জায়গা পান বিশ্বকাপের সেরা একাদশে।
কনর এস্তেহেইজেন
গত মাসেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পা রাখেন এস্তেহেইজেন। নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজের সবকটিতে খেলেই মার্চের সেরার লড়াইয়ে জায়গা করে নেন প্রোটিয়া কিপার-ব্যাটসম্যান।
অভিষেক ম্যাচে অপরাজিত ৪৫ রান করেন এই কিপার-ব্যাটসম্যান। পরের দুই ম্যাচে জ্বলে উঠতে পারেননি, করেন কেবল ৮ ও ১৫ রান। তবে ঘুরে দাঁড়াতে সময় নেননি ২৪ বছর বয়সী ক্রিকেটার। সিরিজের শেষ দুই ম্যাচে ৫৭ ও ৭৫ রানের ইনিংস খেলেন তিনি।
নিউ জিল্যান্ডকে ৩-২ ব্যবধানে সিরিজ হারায় দক্ষিণ আফ্রিকা। পাঁচ ম্যাচে ২০০ রান করে সিরিজ সেরার পুরস্কার জিতে নেন এস্তেহেইজেন। শেষ দুই ম্যাচে জেতেন ম্যাচ সেরার পুরস্কার।
অ্যামেলিয়া কার
গত মাসে চার ওয়ানডে খেলে ৭৮.৫৭ স্ট্রাইক রেটে ১৭৬ রান করেন অ্যামেলিয়া কার। সঙ্গে লেগ স্পিনে ওভার প্রতি স্রেফ ৩.৭৭ রান দিয়ে ১৮ উইকেট নেন নিউ জিল্যান্ডের অধিনায়ক। জিম্বাবুয়েকে তিন ম্যাচের সিরিজে হোয়াইটওয়াশ করার পথে দুর্দান্ত অলরাউন্ড পারফরম্যান্সে সিরিজ সেরার পুরস্কার জিতে নেন তিনি।
শুধু তাই নয়, গত মাসে ছয়টি টি-টোয়েন্টিও খেলেন কার। দক্ষিণ আফ্রিকাকে ৪-১ ব্যবধানে সিরিজ হারানোর পথে ১৫৮.৬২ স্ট্রাইক রেটে ২৭৬ রান করেন তিনি। সঙ্গে বল হাতে ধরেন হয় শিকার।
বেথ মুনি
মার্চে দুটি ওয়ানডে ও তিনটি টি-টোয়েন্টি খেলেন মুনি। অস্ট্রেলিয়ান তারকা ব্যাটার ভারতের বিপক্ষে সিরিজের শেষ ওয়ানডেতে ১০৬ রানের ইনিংস খেলেন। পরে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে করেন ৬৫ রান।
ক্যারিবিয়ানদের বিপক্ষে তিন টি-টোয়েন্টিতে ১০৭ রান করেন মুনি ১২৮.৯১ স্ট্রাইক রেটে। যেখানে প্রথম ম্যাচে ৫৫ বলে ৭৯ রানের ইনিংস খেলেন তিনি।
আয়াবঙ্গা খাকা
নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে দল টি-টোয়েন্টি সিরিজে হারলেও বল হাতে দ্যুতি ছড়ান খাকা। চার ম্যাচে আট উইকেট নিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার সফলতম বোলার ছিলেন এই পেসার।
পরে প্রথম ওয়ানডেতে আরও অসাধারণ পারফরম্যান্স করেন খাকা। ক্রাইস্টচার্চে ৫৬ রান খরচায় ছয় উইকেট নেন তিনি।