Published : 27 Jan 2026, 10:50 PM
‘সম্ভবত আমার খেলা সবচেয়ে বাজে পিচ’, আগের ম্যাচে ভীষণ মন্থর ইনিংস খেলার পর বলেছিলেন হ্যারি ব্রুক। এবার খেলা হলো ভিন্ন উইকেটে। বদলে গেল ব্রুকের ব্যাটিংও, করলেন বিস্ফোরক সেঞ্চুরি। ব্যাটিং মাস্টারক্লাস মেলে ধরে শতক করলেন জো রুটও। ইংল্যান্ডের রান পাহাড়ের জবাবে উড়ন্ত শুরু আর পাভান রাত্নায়েকের সেঞ্চুরির পরও লক্ষ্যের ধারেকাছে যেতে পারল না শ্রীলঙ্কা।
রান উৎসবের তৃতীয় ওয়ানডেতে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ইংল্যান্ডের জয় ৫৩ রানে।
হারে শুরুর পর টানা দুই ম্যাচ জিতে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ জিতল ইংলিশরা। ২০২৩ সালের মার্চের পর এই প্রথম দেশের বাইরে ওয়ানডে সিরিজ জয়ের স্বাদ পেল তারা।
কলম্বোয় মঙ্গলবার ইংল্যান্ড ৫০ ওভারে করে ৩ উইকেটে ৩৫৭ রান, এই সংস্করণে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে যা তাদের সর্বোচ্চ। আগের সর্বোচ্চ ছিল ১৯৮৩ সালে টন্টনে ৩৩৩।
জবাবে প্রথম ৯ ওভারে ২ উইকেটে ৯৪ রান করা শ্রীলঙ্কা ৩০৪ রানে থমকে যায় ২০ বল বাকি থাকতে।
দুই দল মিলিয়ে রান হয়েছে ৬৬১, ইংল্যান্ড ও শ্রীলঙ্কার মধ্যে ওয়ানডে ম্যাচে যা সর্বোচ্চ।
সিরিজের সবকটি ম্যাচই হয়েছে আর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে। শেষ ম্যাচে খেলা হয় প্রথম ম্যাচে ব্যবহৃত উইকেটে। দ্বিতীয় ম্যাচে ৭৫ বলে ৪২ রান করা ব্রুক খেলা শেষে প্রবল সমালোচনা করেছিলেন উইকেটের।
ব্যাটিং সহায়ক উইকেটে এবার দুইশর বেশি স্ট্রাইক রেটে ৬৬ বলে অপরাজিত ১৩৬ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলে ‘ম্যান অব দা ম্যাচ’ তিনিই। ১১ চার ও ৯ ছক্কায় সাজানো তার ইনিংসটি।
একপর্যায়ে ব্রুকের রান ছিল ৩৯ বলে ৪৬। পরের ২৭ বলে তিনি করে ফেলেন ৯০ রান। এর মধ্যে শেষ ১৪ বলে করেন ৫১।

প্রথম দুই ম্যাচে ৬১ ও ৭৫ রানের পর এবার অপরাজিত ১১১ রানের ইনিংস খেলেন রুট। অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যানের ১০৮ বলের ইনিংস গড়া ৯ চার ও এক ছক্কায়। তিন ম্যাচে ২৪৭ রান করে সিরিজ-সেরার স্বীকৃতি পান তিনি।
রুট ও ব্রুক চতুর্থ উইকেটে অবিচ্ছিন্ন ১৯১ রানের জুটি গড়েন ১১৩ বলে, যেখানে ব্রুকের অবদানই ১৩৬। শ্রীলঙ্কার মাটিতে যেকোনো উইকেটে ইংল্যান্ডের সর্বোচ্চ জুটি এটি।
শ্রীলঙ্কার হয়ে ওপেনার পাথুম নিসাঙ্কার ঝড়ো ফিফটি (২৫ বলে ৫০) ও রাত্নায়েকের সেঞ্চুরি ছাড়া আর কেউ উল্লেখযোগ্য কিছু করতে পারেননি।
ওয়ানডে ক্যারিয়ারে আগের তিন ম্যাচে সাত নম্বরে ব্যাটিংয়ে নেমে রাত্নায়েকের সর্বোচ্চ ছিল ৩২। এবার তাকে তুলে আনা হয় চার নম্বরে। প্রথম আন্তর্জাতিক সেঞ্চুরিতে ১২ চার ও এক ছক্কায় ১১৫ বলে ১২১ রানের ইনিংস খেলেন ২৩ বছর বয়সী ব্যাটসম্যান।
রান তাড়ায় শ্রীলঙ্কার শুরুটা ছিল আশা জাগানিয়া। প্রথম পাঁচ ওভারে তারা করে বিনা উইকেটে ৪৮ রান। পরের ওভারে আক্রমণে এসে কামিল মিশারাকে (১৭ বলে ২২) ফিরিয়ে শুরুর জুটি ভাঙেন উইল জ্যাকস।
অষ্টম ওভারে জেমি ওভারটনের প্রথম তিন বলে দুই চার ও এক ছক্কার পর, আলগা শটে বিদায় নেন কুসাল মেন্ডিস (৯ বলে ২০)। ২৪ বলে ফিফটি করার পর আর টেকেননি নিসাঙ্কাও। ভালো করতে পারেননি অধিনায়ক চারিথ আসালাঙ্কা।
একপর্যায়ে ১ উইকেটে ৮৫ থেকে শ্রীলঙ্কার স্কোর হয়ে যায় ৪ উইকেটে ১৩১।
রাত্নায়েকেকে সেভাবে সঙ্গ দিতে পারেননি কেউ। বলতে গেলে দলকে একাই টানেন তিনি। জানিথ লিয়ানাগে, ধানাঞ্জায়া ডি সিলভা, দুনিথ ওয়েলালাগে ইনিংস টেনে নিতে ব্যর্থ হন।
একপ্রান্ত ধরে রেখে এগিয়ে যাওয়া রাত্নায়েকে ৪৩তম ওভারে সেঞ্চুরিতে পা রাখেন ১০৪ বলে। শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে তার বিদায়েই ইতি ঘটে ম্যাচের।
ইংল্যান্ডের হয়ে দুটি করে উইকেট নেন চার জন- ওভারটন, জ্যাকস, লিয়াম ডসন ও আদিল রাশিদ।
শেষটা ভালো হলেও ইংল্যান্ডের শুরুটা ছিল নড়বড়ে। টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে প্রথম পাঁচ ওভারে তারা করতে পারে কেবল ১৭ রান। ১৭ বলে ৭ রান করে সপ্তম ওভারে বিদায় নেন বেন ডাকেট।
পাওয়ার প্লেতে আসে ১ উইকেটে ৪০। পরের ওভারে বিদায় নেন আরেক ওপেনার রেহান আহমেদও।
সেখান থেকে তৃতীয় উইকেটে জ্যাকব বেথেলের সঙ্গে ১২৬ রানের জুটিতে দলকে এগিয়ে নেন রুট। ৮ চারে ৭২ বলে ৬৫ রান করে ফেরেন বেথেল।
৩৫ ওভার শেষে ইংল্যান্ডের রান ছিল কেবল ১৮৬, ৪০ ওভারে ২২৭।
রুট ২০তম ওয়ানডে সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন ঠিক ১০০ বলে। ব্রুক পঞ্চাশ স্পর্শ করেন ৪০ বলে। এরপর রীতিমতো তাণ্ডব চালান তিনি। পরের ১৭ বলেই ছুঁয়ে ফেলেন ওয়ানডে ক্যারিয়ারের তৃতীয় সেঞ্চুরি।
৫৭ বলে সেঞ্চুরির পর তিনি ৯ বলে চার-ছক্কা মারেন তিনটি করে। শেষ ৮ ওভারে ইংল্যান্ডের তোলা ১২৪ রানের মধ্যে ৯৮ রানই আসে ব্রুকের ব্যাটে। ইনিংসের শেষ ৬৯ রানের মধ্যে রুটের রান কেবল কেবল এক।
ওয়ানডের পর এখন তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলবে দুই দল। আগামী শুক্রবার থেকে এই সিরিজ হবে পাল্লেকেলেতে।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
ইংল্যান্ড: ৫০ ওভারে ৩৫৭/৩ (রেহান ২৪, ডাকেট ৭, রুট ১১১*, বেথেল ৬৫, ব্রুক ১৩৬*; আসিথা ৯-০-৭৭-০, লিয়ানাগে ৩-১-৭-০, ধানাঞ্জায়া ৫-০-৪৫-১, ওয়েলালাগে ১০-০-৪৯-০, হাসারাঙ্গা ১০-০-৭৬-১, ভ্যান্ডারসে ১০-০-৭৬-১, আসালাঙ্কা ৩-০-২০-০)
শ্রীলঙ্কা: ৪৬.৪ ওভারে ৩০৪ (নিসাঙ্কা ৫০, মিশারা ২২, মেন্ডিস ২০, রাত্নায়েকে ১২১*, আসালাঙ্কা ১৩, লিয়ানাগে ২২, ধানাঞ্জায়া ৯, ওয়েলালাগে ২২, হাসারাঙ্গা ৯, ভ্যান্ডারসে ১৪, আসিথা ০*; ওভারটন ৪-১-৪৮-২, কারান ৫.৪-০-৪৪-১, ডসন ১০-১-৪৮-২, জ্যাকস ৮-০-৪৩-২, রাশিদ ১০-০-৬১-২, বেথেল ৫-০-২৮-০, রেহান ৪-০-৩১-০)
ফল: ইংল্যান্ড ৫৩ রানে জয়ী
সিরিজ: ৩ ম্যাচের সিরিজ ইংল্যান্ড ২-১ ব্যবধানে জয়ী
ম্যান অব দা ম্যাচ: হ্যারি ব্রুক
ম্যান অব দা সিরিজ: জো রুট