Published : 13 Jun 2026, 09:13 PM
ছয়টি সদ্যজাত শিশুর মৃত্যুর পর লাইসেন্স বাঁচাতে রাজধানীর বেসরকারি আদ-দ্বীন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কোটি কোটি টাকা নিয়ে তার পেছনে ঘুরেছে বলে দাবি করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল।
তিনি বলেছেন, “এই যে আদ-দ্বীন হাসপাতাল কোটি কোটি টাকা নিয়ে ঘুরেছে আমার পেছনে। আল্লাহর রহমতে আপনাদের দোয়ায় কোনো টাকার প্রতি লোভ হয় নাই। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, আপনি যা করবেন, আমি পূর্ণ সমর্থন দেব। আমি লাইসেন্স বাতিল করে দিয়েছি।
“আর জামায়াতের লোকেরা বলে, এটা নাকি বেইনসাফ হইছে। মানে, ওই ব্যাটাও জামায়াত করে। মানুষকে ধোকা দেয়। কয়েকটা টাকা কম নেয়। ছয়টা বাচ্চাকে মেরে ফেলছে। ওরা এখন উনার পক্ষে কথা বলে। কথা বলুক আর যাই করুক, লাইসেন্স বাতিল করছি তো করছিই। এই একটা শাস্তি সারা বাংলাদেশের বেসরকারি হাসপাতালগুলো ঠিক হয়ে যাবে।”
মন্ত্রী বলেন, “মানুষকে সেবা দিতে হবে। সস্তার কথা বলে টাকা কম নেয়! আরে কী কম নেয়? ছয়টা মায়ের কোল খালি করছে। কাজেই এগুলো থেকে আপনাদের সাবধান থাকতে হবে।”
শনিবার দুপুরে নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রীর নিজ তহবিল থেকে দরিদ্র ও অসহায় মানুষের মাঝে আর্থিক অনুদান প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
ঈদের আগের দিন ২৭ মে সকালে মগবাজারে আদ-দ্বীন হাসপাতালের পোস্ট ডেলিভারি ওয়ার্ডে ছটফট করতে করতে একে একে ছয় নবজাতক মারা যায়।
এরপর ১১ জুন হাসপাতালটির লাইসেন্স বাতিলের কথা জানায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
তার মধ্যে শনিবার আদ-দ্বীন নিয়ে এই দাবি করলেন।
মন্ত্রীর দাবির পরিপ্রেক্ষিতে আদ-দ্বীন ফাউন্ডেশনের কোম্পানি অ্যাফেয়ার্স ও হাসপাতালের পরিচালক তারিকুল ইসলাম মুকুলকে একাধিকবার মোবাইলে ফোন করা হলেও তিনি ধরেননি।
অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, “পাইলটিং স্কিমের মাধ্যমে রোগীদের সেবা দেওয়া হবে। যেখানে প্রতিটা ঘরে ঘরে আমাদের লোক যাবে। তারা গিয়ে প্রাথমিক সেবা দেওয়ার পর যদি মনে করে হাসপাতালে নিতে হবে তবেই একজন রোগীকে হাসপাতালে এসে চিকিৎসা নিতে হবে। এভাবে দেশব্যাপী চিকিৎসা ব্যবস্থাকে সহজ করার পরিকল্পনা রয়েছে আমাদের।”
তিনি বলেন, বিগত সরকার দুর্নীতি করে দেশের অর্থ বিদেশে পাচার করেছে। আমরা একটি ব্যতিক্রমধর্মী সরকার চালাচ্ছি। দলমত নির্বিশেষে মানুষের সেবা করতে চাই আমরা। সরকারি সুবিধা পেতে এখন আর কাউকে ঘুষ দিতে হয় না।”
মন্ত্রী বলেন, “চায়নার সহযোগিতায় আমরা তিন হাজার বেডের দুটি বিশেষায়িত হাসপাতাল করতে যাচ্ছি। যেখানে শিশু ও নারীদের চিকিৎসা সেবার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা করা হবে।”
এ সময় উপস্থিত ছিলেন মনোহরদী উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি সজীব মিয়া, উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব আমিনুর রহমান সরকার দোলন, মনোহরদী থানার ওসি জাহাঙ্গীর বাদশা, পৌর বিএনপির সদস্যসচিব আবদুল হান্নান।
এদিন পৌরসভা ও বিভিন্ন ইউনিয়নের দুই শতাধিক দরিদ্র ও অসহায়দের মাঝে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়। পরে গাছের চারা রোপণ ও বিতরণ করেন মন্ত্রী।