Published : 21 Jan 2026, 08:53 AM
“কালকে যেরকম পাব, ওরকমই আসলে খেলতে হবে। কপালে যা আছে, তা-ই। আল্লাহর নাম নিয়ে ছেড়ে দেব নিজেকে”, নাজমুল হোসেন শান্তর কণ্ঠে রসিকতার সুর, মুখের হাসিতেও সেটির প্রকাশ। মজা করেই কথাগুলি বললেন তিনি মিরপুরের উইকেট নিয়ে। তবে সেই কৌতুকেই মিশে থাকল যেন হতাশা আর অসহায়ত্ব।
শের-ই-বাংলার স্টেডিয়ামের উইকেট নিয়ে হতাশার শেষ হচ্ছেই না তাদের ক্রিকেটারদের। বিপিএলে এ দিনের দুই ম্যাচের চার অধিনায়কের তিনজনই সরাসরি বিরক্তি প্রকাশ করলেন উইকেট নিয়ে।
এ দিনের দুটি ম্যাচই ছিল রোমাঞ্চকর। এলিমিনেটর ম্যাচটি তো ছিল বিপিএলের ইতিহাসের সবচেয়ে রোমাঞ্চকর ম্যাচগুলির একটি। এলিমিনেটর ম্যাচে শেষ বলে ছক্কা মেরে রংপুর রাইডার্সকে বিদায় করে সিলেট টাইটান্সকে ফাইনালের পথে ধরে রাখেন ক্রিস ওকস। প্রথম কোয়ালিফায়ার ম্যাচটিও গড়ায় শেষ ওভারে। সেখানেও ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দেয় শেষ ওভারে শেখ মেহেদি হাসানের একটি ছক্কা।
কিন্তু উত্তেজনা বিশাল হলেও দুটি ম্যাচেই স্কোর ছিল খুবই কম। রংপুর-সিলেট লড়াইয়ে দুই দলেই ছিল অনেক তারকা। কিন্তু ধুঁকতে হয় সবাইকেই। রংপুর ২০ ওভার খেলে করে ১১১ রান। সেই রান তাড়ায় শেষ বলের ওই ছক্কায় জয় পায় সিলেট। পরের ম্যাচে রাজশাহী ওয়ারিয়র্স করতে পারে ১৩৩। সেটি তাড়ায় মাত্র তিন বল বাকি রেখে জেতে চট্টগ্রাম রয়্যালস।
দুই ম্যাচেই নতুন বলে ব্যাট করা ছিল কঠিন পরীক্ষা। উইকেটে মুভমেন্ট মিলেছে, বাউন্স ছিল। সময়ের সঙ্গে মন্থরও হয়েছে, বল থমকে এসেছে ব্যাটে। শট খেলা ছিল দুরূহ।

রংপুর রাইডার্সের অধিনায়ক লিটন কুমার দাস বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি অধিনায়কও। এমন উইকেটে খেলে বিশ্বকাপের প্রস্তুতি কতটা হচ্ছে, সেই প্রশ্নে তিনি বলেন, “টি-টোয়েন্টির জন্য এটা আদর্শ উইকেট না, এটুক বলতে পারি। বিশ্বকাপের জন্য কি না, জানি না। কোয়ালিফায়ার ম্যাচে আরও ভালো উইকেট আশা করছিলাম।”
পরের ম্যাচ শেষে একই ধরনের কথা শোনা গেল শান্তর কণ্ঠে।
“ব্যাটসম্যান হিসেবে আমার মনে হয় যে, টি-টুয়েন্টি সুলভ উইকেট নয় এটি। খুবই কঠিন, বিশেষ করে ব্যাটসম্যানদের জন্যে। যদি পুরো ৪০ ওভারের ব্যাটিং দেখেন, প্রত্যেকটা ব্যাটসম্যান ভুগেছে, দেশি-বিদেশি সবাই। এখানে শটস খেলাই যাচ্ছিল না। ব্যাটিং এবং বোলিং, দুই দিক থেকেই আরেকটু ভালো উইকেট আমরা আশা করতেই পারি, বিশেষ করে টি-টুয়েন্টিতে।”
মিরপুরের উইকেটের এমন চরিত্র নতুন নয়। বরং বছরের পর বছর ধরেই এই রূপেই দেখা গেছে এবং অনেক আলোচনা-সমালোচনা হয়েছে। কাঠগড়ায় তোলা হয়েছে কিউরেটর গামিনি সিলভা। সেই গামিনিকে এখন বিদায় করে দিয়েছে বিসিবি। হেড অব টার্ফ ম্যানেজমেন্ট হিসেবে নিয়োগ পাওয়া প্রখ্যাত মৃত্তিকা বিশেষজ্ঞ টনি হেমিং এখন দেখভাল করছেন উইকেট। এখানে পরিবর্তনের আশাও তাই ছিল।
তবে কিউরেটর বদলের পরও ২২ গজের চরিত্র না বদলানোয় হতাশ চট্টগ্রাম রয়্যালসের অধিনায়ক শেখ মেহেদি হাসান।
“আসলে এই টি-টোয়েন্টি ধরনের উইকেট ছিল না। আজকে দুইটা ম্যাচই এমন ছিল। সিলেটের লম্বা সময় খেলার কারণে হতে পারে (উইকেট খারাপ)। তবে আশা করছিলাম, এভানে আরও ভালো উইকেট হবে এ বছর। কারণ যেহেতু কিউরেটর বদল হয়েছে, সবার প্রত্যাশা ছিল যে, হয়তো টি-টোয়েন্টিতে যে ধরনের উইকেট হয়, সেরক পাবে। তা হয়নি। সেদিক থেকে আমরা হতাশ।”