‘যেহেতু ফাইনালে উঠেছি, কমিটির দল হিসেবে প্রমাণ করে দিয়েছি’
বিপিএলে চট্টগ্রাম রয়্যালসকে যে মজা করে ‘কমিটির দল’ বলা হয়, এটা খারাপ লাগে না অধিনায়ক শেখ মেহেদি হাসানের।
টুর্নামেন্টের শুরুর দিকে প্রশ্নটি একবার করা হয়েছিল শেখ মেহেদি হাসানকে। শেষ প্রান্তে এসে আবার একই প্রশ্ন ছুটে গেল তার দিকে, “আপনাদের দলের সঙ্গে কমিটির টিম ট্যাগ লেগে গেছে, এটা কেমন লাগে?” একটু আগেই প্রথম কোয়ালিফায়ার জিতে ফাইনালে উঠে বেশ ফুরফুরে ছিলেন মেহেদি। এই প্রশ্নকেও মজার রেশেই আলিঙ্গন করলেন চট্টগ্রাম রয়্যালস অধিনায়ক, “ এটা খারাপ লাগে না। যেহেতু আমরা ফাইনালে উঠছি, কমিটি টিম হিসেবে সেটা প্রমাণ করে দিয়েছি…!”
তার কথায় হেসে উঠল গোটা সংবাদ সম্মেলন কক্ষ। ‘কমিটির দল’ নামটিও এবার বিপিএলজুড়ে অনেক হাসির উপলক্ষ হয়েছে।
পাড়া-মহল্লার টুর্নামেন্টে যেমন আয়োজকদের দল থাকে, এবারের বিপিএলেও আছে তেমন একটি ‘কমিটির দল।’ বিসিবির টুর্নামেন্টে অংশ নিচ্ছে বিসিবিরই দল চট্টগ্রাম রয়্যালস।
বিতর্কিত প্রেক্ষাপটেই দলটির দায়িত্ব নিতে হয়েছিল বিসিবিকে। টুর্নামেন্ট শুরুর আগের দিন আর্থিক সঙ্কটের কথা জানিয়ে দলের মালিকানা ছেড়ে দেয় মালিকপক্ষ। বিসিবি তখন দলটি পরিচালনার দায়িত্ব নেয়, তড়িঘড়ি করে কোচ নিয়োগ দেওয়াসহ টিম ম্যানেজমেন্ট ঠিক করে দেওয়া হয়।
প্রথম ম্যাচে দলটির বিদেশি ক্রিকেটার ছিল মাত্র দুজন। সেই দুজনও অখ্যাত। আসর শুরুর ঠিক আগে এলোমেলো ও ভাঙাচোরা দলটিই এখন সবার আগে পৌঁছে গেল ফাইনালে।
অনেকের কাছেই এবারের বিপিএলের বিস্ময় চট্টগ্রাম রয়্যালস। অধিনায়ক মেহেদি অবশ্য খুব বিস্মিত নন দলের এমন সাফল্যে।।
“অবিশ্বাস্য লাগছে না (ফাইনালে উঠে)। যুদ্ধক্ষেত্রে আপনি যখন নামবেন, আপনার যে জিনিসগুলো আছে, আপনি সেগুলা উজার করে খেলবেন। আমরা দল হিসেবে খেলছি। এটা তো দলীয় খেলা। আমাদের হয়তো বড় কোনো নাম নেই, বড় বিদেশি তারকা নেই, স্থানীয় ক্রিকেটারও বড় কেউ নেই। তার পরও ছেলেরা যেভাবে পারফর্ম করছে, দল হিসবে খেলা না হলে এমন ফলাফল আসত না।”
“আর্থিক একটা তো চাপ থাকেই। বিসিবি দায়িত্ব নেওয়ার পরে আসলে সবাই মুক্তভাবে খেলতে পারতেছে, কারও ভেতরে কোনো টেনশন নাই। এজন্যই আমার মনে হয় ক্রিকেটাররা আরও বেশি পারফর্ম করছে।”
আচমকা দায়িত্ব পেয়ে তড়িঘড়ি করে যারা সব সামলে নিলেন, দলটাকে গুছিয়ে যারা তৈরি করলেন, টিম ডিরেক্টর হাবিবুল বাশার, কোচ মিজানুর রহমান ও ম্যানেজার নাফিস ইকবালের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানালেন চট্টগ্রাম অধিনায়ক।
“আমরা সবাই মিলে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরই কিন্তু এই কোচিং স্টাফরা বলেছে। যখনই এই কোচিং স্টাফ এসেছেন, আমার ক্রিকেটাররা সবাই আত্মবিশ্বাসী ছিল। কারণ আমাদের সবার সিদ্ধান্তে এই কোচিং স্টাফরা এসেছেন। বাবুল স্যার (মিজানুর রহমান) গত তিনটি বিপিএলে কিন্তু ফাইনাল উঠেছে। তার জন্য এটা একটা বড় অর্জন। আমরা সৌভাগ্যবান যে, উনার মতো কোচ আমরা পেয়েছি বলে আমাদের আবহ বদলে গেছে।”
“নাফিস ভাই অসাধারণভাবে চেষ্টা করে গেছেন। তাৎক্ষনিক পোশাক বলুন বা যাবতীয় যা ছিল, সব বদল করেছেন। (হাবিবুল) বাশার ভাইয়ের সিদ্ধান্তগুলা ভালো ছিল। অল্প টাইমের ভিতরে এত কিছু করা কঠিন ছিল। অল্প সময়ের ভিতরে যে বিদেশি ক্রিকেটার সংগ্রহ করেছে, তাকেও তো কৃতিত্ব দিতে হয়। আমরা দল হিসেবে খেলছি, কোচিং স্টাফ, ক্রিকেটার সবাই মিলে। নাহলে হয়তোবা আমরা ফাইনালে উঠতে পারতাম না।”
দলের এই সাফল্যযাত্রায় অধিনায়ক নিজে নেতৃত্ব দিয়েছেন সামনে থেকেই। এলিমিনেটর ম্যাচে মঙ্গলবার অলরাউন্ড পারফরম্যান্সে ম্যাচ-সেরা হয়েছেন তিনি। এমন পারফরম্যান্স মেলে ধরেছেন তিনি আসরজুড়েই। ১১ ম্যাচে ১৫ উইকেট নিয়েছেন ওভারপ্রতি মাত্র ৬.৩২ রান দিয়ে, ব্যাট হাতে ১৭৩ রান করেছেন ১৪৪.১৬ স্ট্রাইক রেটে। ম্যান অব দা টুর্নামেন্টের লড়াইয়ে আপাতত তিনিই সবচেয়ে এগিয়ে।
যোগ্য নেতার মতোই তিনি অবশ্য নিজের পারফরম্যান্সকে খুব বড় করে দেখছেন না।
“না, এমন কিছু না। আমি তো মানে দৈত্য নই যে, আমি চাইলেই এগুলো হবে। জীবনে এমন অনেক সময় ছিল যে, এরকম পরিস্থিতিতে অনেক খারাপ খেলছি, আবার ভালোও খেলতেছি। আমাদের জীবনেরই অংশ এটা, ক্রিকেটে ভালো হবে, খারাপ হবে। যেহেতু ভালো হচ্ছে এখন, জিনিসটা ভালোভাবে ধরে রাখাটা গুরুত্বপূর্ণ।”
