Published : 10 Jun 2026, 08:25 AM
ঐতিহাসিক আসতেকা স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচ দিয়ে উগো ব্রুসের ক্যারিয়ারে একটি চক্র পূরণ হতে যাচ্ছে। চার দশক আগে খেলোয়াড় হিসেবে যেখানে বিশ্বকাপের ম্যাচ খেলেছিলেন তিনি, সেই মাঠে এবার কোচ হিসেবে ফিরছেন এই বেলজিয়ান।
আগামী বৃহস্পতিবার বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে সহ-আয়োজক মেক্সিকোর মুখোমুখি হবে ব্রুসের দল দক্ষিণ আফ্রিকা।
ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে বিখ্যাত ও আইকনিক স্টেডিয়ামগুলোর একটি আসতেকা স্টেডিয়াম, নাম পরিবর্তন করে এখন পরিচিত বানোর্তে স্টেডিয়াম নামে। দুটি বিশ্বকাপ ফাইনালসহ অনেক ইতিহাসের স্বাক্ষী এই মাঠ।
১৯৮৬ বিশ্বকাপে এখানে এক লাখ ১০ হাজার দর্শকের সামনে, ব্রুসকে শুরুর একাদশে রেখে নিজেদের প্রথম ম্যাচে মেক্সিকোর বিপক্ষে নেমেছিল বেলজিয়াম। শুরুতে ২-০ গোলে পিছিয়ে পড়লেও, পরে একটি গোল শোধ করে শেষ পর্যন্ত ২-১ গোলে হেরেছিল ইউরোপের দেশটি।
ওই ম্যাচের মতো এবারও কম রোমাঞ্চিত নন ৭৪ বছর বয়সী ব্রুস।
“৪০ বছর আগে মেক্সিকোর বিপক্ষে আমাদের প্রথম ম্যাচটি ছিল এক অসাধারণ ঘটনা এবং যা আমি কখনও ভুলব না। তখনই আমি অনুভব করেছিলাম, বিশ্বকাপ কতটা স্পেশাল।”
“খেলোয়াড় হিসেবে আমি খুব খুশি, অনুপ্রাণিত ও রোমাঞ্চিত ছিলাম। এখন ৪০ বছর পর এখানে ফিরে এসেছি, অসাধারণ ব্যাপার। আমি আবারও রোমাঞ্চিত।”
বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি বয়সী কোচ হবেন ব্রুস, যদিও সেটা মাত্র কয়েক ঘণ্টার জন্য। তার চেয়ে সাত মাসের বড় চেক রিপাবলিকের কোচ মিরোস্লাভ কুবেক। বাংলাদেশ সময় শুক্রবার সকালে দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে খেলবে চেক রিপাবলিক। এরপর রোববার কুরাসাওয়ের প্রথম ম্যাচে রেকর্ডটি নিজের করে নেবেন ৭৮ বছর বয়সী কোচ ডিক আটফোকাট।
অনেক ক্লাবকে কোচিং করানো ব্রুস একসময় ক্যামেরুন জাতীয় দলের দায়িত্বও পালন করেছেন। বিশ্বকাপের পর কোচিংকে বিদায় জানানোর ইচ্ছার কথা স্পষ্ট জানিয়েছেন তিনি। কারণ, স্ত্রীকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি তিনি রক্ষা করতে চান।
“গত কয়েক বছর ধরে, আমি প্রায়ই অবসর নেওয়ার কথা ভেবেছি। প্রতিদিন ফুটবলের সঙ্গে আর সম্পৃক্ত থাকতে চাই না। সেই প্রাণশক্তি আমার আর নেই। এখন মাঝে মাঝে এমনও হয় যে, শুধু একটা ম্যাচ আবার দেখার জন্য নিজেকে জোর করে কম্পিউটারের সামনে বসাতে হয়।”
ব্রুস এর আগে বলেছিলেন, তার দল অঘটন ঘটাতে পারে। তবে মেক্সিকোর বিপক্ষে ম্যাচটি তাদের জন্য কঠিন পরীক্ষা হবে বলেই মনে হচ্ছে তার।
“এটা আমাদের জন্য বিশেষ ও চমৎকার অভিজ্ঞতা হতে যাচ্ছে, কারণ আমার অনেক খেলোয়াড় আগে কখনও এমন পরিবেশে ফুটবল খেলেনি। আমাদের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ হবে নিজেদের পরিকল্পনায় অটল থাকা এবং গ্যালারিতে কী ঘটছে, সেদিকে মনোযোগ না দেওয়া। আমরা সবাই জানি, স্টেডিয়ামে হাজার হাজার মেক্সিকান থাকবে।”
২০১০ সালে স্বাগতিক হিসেবে বিশ্বকাপ খেলার পর এই প্রথম ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চে ফিরেছে দক্ষিণ আফ্রিকা। মোট তিনবার বিশ্বকাপ খেলে কখনও গ্রুপ পর্ব পার হতে পারেনি তারা। এবার সেটি করে দেখানোর লক্ষ্য ২০২১ সাল থেকে দলটির দায়িত্বে থাকা ব্রুসের, “এর পরে যেকোনো কিছুই হতে পারে।”
দলের বিশ্বকাপ অভিযান শেষে কী করতে চান, সে বিষয়েও ভাবনা পরিষ্কার ব্রুসের।
“বিশ্বকাপের পর আমি অবসর নেব, পরিবারের কাছে যাব এবং আগামী ২০ বছর আমার নাতি-নাতনিদের সঙ্গে উপভোগ করব।”