নাবিলের সেঞ্চুরির পর যুবাদের অনায়াস জয়

ব্যাট হাতে ছন্দে থাকা প্রান্তিক নওরোজ নাবিল জ্বলে উঠলেন আরও একবার। তার দারুণ সেঞ্চুরি ও মোহাম্মদ ফাহিমের ফিফটিতে দল পেল প্রায় তিনশ রানের পুঁজি। পরে বল হাতে নেপালকে অল্পতে গুঁড়িয়ে দিয়ে যুব এশিয়া কাপের অভিযান শুরু করল বাংলাদেশ।

ক্রীড়া প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 24 Dec 2021, 09:30 AM
Updated : 24 Dec 2021, 01:24 PM

শারজাহতে শুক্রবার টুর্নামেন্টে নিজেদের প্রথম ম্যাচে ১৫৪ রানে জিতেছে বাংলাদেশ। ২৯৮ রানের লক্ষ্য দিয়ে প্রতিপক্ষকে তারা গুটিয়ে দিয়েছে ১৪৩ রানে।

বাংলাদেশকে বিশাল এই সংগ্রহ এনে দেওয়ার কারিগর নাবিল তিনে নেমে ইনিংসের শেষ পর্যন্ত খেলেন। ১১ চার ও এক ছক্কায় ১১২ বলে ১২৭ রান করে থাকেন অপরাজিত। তিনটি করে ছক্কা-চারে ৫৪ বলে ৫৮ রান করে হ‍্যামস্ট্রিংয়ে টান লাগায় মাঠ ছাড়েন ফাহিম।

চলতি মাসেই ভারতে হওয়া তিন দলীয় টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের শিরোপা জয়ে বড় অবদান রেখেছিলেন নাবিল। একটি করে সেঞ্চুরি ও ফিফটিতে আসরের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক ছিলেন তিনিই। এবার এশিয়া কাপে দলের প্রথম ম্যাচেই তার ব্যাটে মিলল রানের দেখা।

নেপালকে দেড়শর আগে থামিয়ে দেওয়ার পথে দুটি করে উইকেট নেন তানজিম হাসান, রকিবুল, মেহরব হাসান ও নাইমুর রহমান। বাকি দুই উইকেট হারায় নেপাল রান আউটে।

‘বি’ গ্রুপের এই ম্যাচে টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে সাবধানী শুরু করে বাংলাদেশ। দুই ওপেনার ইফতেখার হোসেন ও মাহফিজুল ইসলাম পাওয়ার প্লেতে তোলেন ৩৫ রান। কিন্তু একাদশ ওভারেই কট বিহাইন্ড হয়ে বিদায় নেন মাহফিজুল।

এরপর ইফতেখারও টিকেননি বেশিক্ষণ, কাটা পড়েন রান আউটে। আইচ মোল্লা ও নাবিলের ব্যাটে একশ পার করে বাংলাদেশ। আইচ খেলতে পারেননি বড় ইনিংস।

ইনিংসে বাংলাদেশ সবচেয়ে বড় দুটি পায় এরপরই। দারুণ ব্যাটিংয়ে ফাহিম ও নাবিল বাড়াতে থাকেন দলের রান। তাদের ব্যাটে দুইশ পেরিয়ে এগিয়ে যেতে থাকে দল।

এই জুটিতে দুইজনেই তুলে নেন ফিফটি। নাবিলের পঞ্চাশ আসে ৬০ বলে, ফাহিমের ৪৮। ফিফটির পরই মাঠ ছাড়েন ফাহিম। শেষ হয় নাবিলের সঙ্গে তার ১১৭ রানের জুটি।

দায়িত্ব নিয়ে দলের রানের চাকা সচল রাখেন নাবিল। সেঞ্চুরিতে পা রাখেন তিনি ৯৮ বলে, চার মেরে। মেহরব শেষ দিকে ৩ চারে করেন ১৫ বলে ২১ রান।

রান তাড়া করতে নামা নেপালকে শুরু থেকেই চাপে রাখে বাংলাদেশ। নিয়মিত তুলে নিতে থাকে প্রতিপক্ষের উইকেট। দ্বিতীয় ওভারে তানজিম বোল্ড করে দেন অর্জুন কুমালকে। কয়েক ওভারে পর এই পেসার স্টাম্প এলোমেলো করে দেন দেব খানালের।

রকিবুল এসে দ্রুত ফিরিয়ে দেন সন্তোষ কারকিকে। ২৩ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে ধুঁকতে থাকা নেপালের হাল ধরতে পারেননি বাকি ব্যাটসম্যানরাও।

দলটির ইনিংসে পঞ্চাশ ছোঁয়া জুটি এসেছে কেবল একটি। ত্রিশ রান পার করতে পেরেছেন দুইজন। যার মধ্যে সর্বোচ্চ ৩৫ গুলসান ঝার। শেষ ৪ উইকেট তারা হারিয়েছে কেবল ২ রানের মধ্যে।

শনিবার দ্বিতীয় ম্যাচে কুয়েতের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দল: ৫০ ওভারে ২৯৭/৪ (মাহফিজুল ১৭, ইফতেখার ২১, নাবিল ১২৭*, আইচ ২২, ফাহিম আহত অবসর ৫৮*, মেহরব ২১, আরিফুল ২*; গুলসান ১০-০-৬০-১, দুর্গেশ ৯-০-৫৯-০, বান্দারি ৬-০-৩১-১, বসির ৮-০-৩৬-০, খানাল ৭-১-৩০-০, আদিল ৭-০-৪৩-১, বিবেক যাদব ৩-০-৩১-০)

নেপাল অনূর্ধ্ব-১৯ দল: ৪২.৩ ওভারে ১৪৩ (অর্জুন কুমাল ৫, খানাল ১২, সন্তোষ ৩, বিবেক মাগার ৩৩, অর্জুন সৌদ ১৫, বসির ৮, বিবেক যাদব ২৬, গুলসান ৩৫, আদিল ১, দুর্গেশ ০, বান্দারি ০*; আশিকুর ৭-০-২১-০, তানজিম ৭-০-২২-২, রকিবুল ৯-২-২৫-২, মেহরব ৯-১-২০-২, আরিফুল ৪-১-১০-০, নাইমুর ৬.৩-১-৪৫-২)

ফল: বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দল ১৫৪ রানে জয়ী

ম্যান অব দা ম্যাচ: প্রান্তিক নওরোজ নাবিল

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক