১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

গালিবের তোপে ৫৯ রানেই শেষ চট্টগ্রাম, তানজিদকে ডাকছে সেঞ্চুরি

আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে শতরানের কাছে তানজিদ হাসান, আসাদুল্লাহ হিল গালিবের ক্যারিয়ার সেরা বোলিংয়ে বিধ্বস্ত চট্টগ্রাম।

গালিবের তোপে ৫৯ রানেই শেষ চট্টগ্রাম, তানজিদকে ডাকছে সেঞ্চুরি
ক্যারিয়ার সেরা বোলিং করেছেন আসাদুল্লাহ আল গালিব। ছবি: গালিবের ফেইসবুক।

ক্রীড়া প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 17 Nov 2025, 10:47 PM

Updated : 26 Aug 2026, 05:08 PM

রঙিন পোশাকে বাংলাদেশের হয়ে ৭০টি ম্যাচ খেলে ফেলেছেন তানজিদ হাসান। টেস্ট দলে তার জায়গা হয়নি এখনও। তবে ঘরোয়া ক্রিকেটে তিনি সবচেয়ে উজ্জ্বল সাদা পোশাকেই। এবারের জাতীয় লিগে প্রথম ম্যাচেও তাকে দেখা গেল সেই রূপে। সহজাত আগ্রাসী ব্যাটিংয়েই ছুটে চলেছেন তিনি সেঞ্চুরির দিকে।

দিনের আরেক ম্যাচে আসাদুল্লাহ গালিবের আগুনে বোলিংয়ে ৫৯ রানেই গুটিয়ে গেছে চট্টগ্রাম বিভাগ। জাতীয় লিগের ইতিহাসে যা তাদের সর্বনিম্ন দলীয় স্কোর। ক্যারিয়ার সেরা বোলিংয়ে ২১ রানে ৬ উইকেট নিয়েছেন আসাদুল্লাহ হিল গালিব, ময়মনসিংহ বিভাগ ম্যাচ জিতে নিয়েছে ২৫১ রানে।

ময়মনসিংহের মতো তিন দিনেই ম্যাচ জিতে গেছে রংপুর বিভাগও। মুকিদুল ইসলামের দারুণ বোলিংয়ের পর ৮০ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেছেন মিম মোসাদ্দেক।

বিধ্বস্ত চট্টগ্রাম

আগের রাউন্ডেও পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে ছিল চট্টগ্রাম বিভাগ। সেই দলই এবার বাজেভাবে হেরে আসরে প্রথম পরাজয়ের স্বাদ পেল। জাতীয় লিগের নতুন দল ময়মনসিংহ টানা তিন ড্রয়ে পর দেখা পেল প্রথম জয়ের। 

কক্সবাজার আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ২ উইকেটে ৮২ রান নিয়ে তৃতীয় দিন শুরু করে ময়মনসিংহ। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে অভিষেকে ফিফটির স্বাদ পান আজিজুল হাকিম। বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দলের অধিনায়ক আউট হন ৬৫ রানে।

এছাড়া অভিজ্ঞ আল আমিন করেন ৩১ রান। আর কোনো ব্যাটসম্যান সেভাবে দাঁড়াতে পারেননি। ৩৪ রানের মধ্যে শেষ ৬ উইকেট হারিয়ে ময়মনসিংহ গুটিয়ে যায় ২৩২ রানে। 

চট্টগ্রামের ২০ বছর বয়সী বাঁহাতি স্পিনার আশরাফুল আলম রোহান ৬ উইকেট নেন ৭৩ রানে।

প্রথম ইনিংসে ৭৮ রানে পিছিয়ে থাকা চট্টগ্রামের লক্ষ্য দাঁড়ায় ৩১১। তারা পারেনি কোনো সম্ভাবনা জাগাতেও।

ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারেই দুটি উইকেট শিকার করেন আসাদুল্লাহ গালিব। এই পেসারের সঙ্গে আরেকপাশে শুভাগত হোমও দারুণ বোলিং করেন। ধসে পড়ে চট্টগ্রামের ব্যাটিং। গুটিয়ে যায় তারা ৫৯ রানেই।

জাতীয় লিগে তাদের আগের সর্বনিম্ন ছিল ২০১১ সালে ৭২।

গালিব ৬ উইকেট নিলেও প্রথম ইনিংসের ফিফটির সঙ্গে ম্যাচে ৭ উইকেট নিয়ে ম্যান অব দা ম্যাচ ময়মনসিংহের অধিনায়ক শুভাগত হোম। 

সংক্ষিপ্ত স্কোর: 

ময়মনসিংহ বিভাগ ১ম ইনিংস: ২৮৮ 

চট্টগ্রাম বিভাগ ১ম ইনিংস: ২১০

ময়মনসিংহ বিভাগ ২য় ইনিংস: ৭৭ ওভারে ২৩২ (আগের দিন ৮২/২) (আজিজুল ৬৬, মজিদ ১১, আইচ ১৮, আল আমিন ৩১, শুভাগত ৬, তাহজিবুল ১, আরিফ ২, মারুফ ১২*, গালিব ২; রুবেল ৬-১-১৬-০, ইফরান ৮-০-৩৪-১, রোহান ২৪-৪-৭৩-৬, নাঈম ৩৩-৬-৮৪-৩, ফাহাদ ৬-১-১১-০)।

চট্টগ্রাম বিভাগ ২য় ইনিংস: (লক্ষ্য ৩১১) ২০.১ ওভারে ৫৯ (সাদিকুর ০, পারভেজ ৬, পরান ০, শাহাদাত ১১, শামীম ১৩, ইরফান ১০, নাঈম ১, রোহান ৪, রুবেল ১, ইফরান ০, ফাহাদ ৪*; শুভাগত ৯.১-১-২৬-৩, গালিব ১০-১-২১-৬, আরিফ ১-০-৭-০)।

শতরানের কাছে তানজিদ

ঢাকা বিভাগের তাইবুর রহমান সেঞ্চুরি পাননি চার রানের জন্য। সেঞ্চুরির সম্ভাবনা জাগিয়ে দিন শেষ করেছেন রাজশাহীর তানজিদ হাসান।

রাজশাহীতে ৪ উইকেটে ২৫২ রান নিয়ে দিন শুরু করেন ঢাকা বিভাগ। ১১২ রানে অপরাজিত থাকা আশিকুর রহমান শিবলি আউট হয়ে যান আর ৯ রান করেই। আগের দিন আনিসুল ইসলাম ইমন আউট হয়েছিলেন ৯৭ রানে। এ দিন সেঞ্চুরি কাছে গিয়ে তাইবুর রহমানকে থমকে যেতে হয় সঙ্গীর অভাবে।

এক প্রান্ত থেকে দলর লিড বাড়িয়ে নেন তাইবুর। তাকে সেভাবে সঙ্গ দিতে পারেননি কেউ। শেষ উইকেটে সালাউদ্দিন সাকিলকে নিয়ে জুটিতে এগিয়ে যান তিনি শতরানের দিকে। তবে জুটি থামে ৩৭ রানে। রাজশাহী অধিনায়ক সাব্বির হোসেনের নিচু হওয়া বলে এলবিডব্লিউ হয়ে যান সাকিল।

তাইবুর অপরাজিত থাকেন ৯৬ রানে।

ব্যাটিংয়ে সেঞ্চুরির পর বল হাতে তিন উইকেট নেন সানজামুল ইসলাম। লেগ স্পিনার ওয়াসি সিদ্দিকও শিকার করেন তিন উইকেট।

৮৪ রানে পিছিয়ে থাকা রাজশাহী দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নেমে সাব্বির হোসেনকে হারায় দ্রুত। তানজিদকে কিছুক্ষণ সঙ্গ দিয়ে বিদায় নেন ওয়াসিও। এরপর ৯২ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে দিন শেষ করেন তানজিদ ও প্রিতম কুমার। 

৫ চার ও ৪ ছক্কায় ৮৪ বলে ৮৪ রানে অপরাজিত থাকেন তানজিদ, ৪৫ বলে ৪০ রানে অপরাজিত প্রিতম।

সংক্ষিপ্ত স্কোর: 

রাজশাহী বিভাগ ১ম ইনিংস:  ২৯৮ 

ঢাকা বিভাগ ১ম ইনিংস: ১১২.১ ওভারে ৩৮২ (আগের দিন ২৫২/৪) (শিবলি ১২১, তাইবুর ৯৬*, শাকিল ৮, নাজমুল অপু ১৩, এনামুল ২, সিয়াম ০, সাকিল ৬; রহিম ১৮-০-৭৯-১, ওয়ালিদ ১৬-০-৬৩-২, সানজামুল ২৯-৩-৮১-৩, ওয়াসি ২১-২-৬৫-৩, সাব্বির হোসেন ১১.১-১-২৯-১, নিহাদ ১৩-১-৪১-০, হৃদয় ৪-০-৭-০)।

রাজশাহী বিভাগ ২য় ইনিংস:  ৩২ ওভারে ১৫১/২ (তানজিদ ৮৪*, সাব্বির হোসেন ৪, ওয়াসি ১৯, প্রিতম ৪০*; সাকিল ৮-১-২৫-০, সিয়াম ১০-১-৫৭-১, এনামুল ৬-০-২০-০, নাজমুল অপু ৬-০-৩০-০, তাইবুর ২-০-১৫-০)।

রংপুরের জয়

টানা তিন ম্যাচে ড্রয়ের পর চতুর্থ রাউন্ডে জয়ের দেখা পেয়েছে রংপুর বিভাগ। মুকিদুল ইসলামের দুর্দান্ত বোলিংয়ে বরিশাল বিভাগকে হারিয়েছে তারা ৮ উইকেটে।

জয়ের পথ আগের দিনই তৈরি করে ফেলেছিল রংপুর। ৭ উইকেটে ৯০ রান দিয়ে দ্বিতীয় দিন শেষ করেছিল বরিশাল। তৃতীয় দিনে তাদের ইনিংস শেষ হয় ১৪১ রানে।

এ দিন তিনটি উইকেটই নিয়ে পাঁচ উইকেট পূর্ণ করেন মুকিদুল।

১৩৬ রানের লক্ষ্য তাড়ায় তেমন কোনো বেগ পেতে হয়নি রংপুরকে। চলতি আসরে আগের সাত ইনিংসে ফিফটি না পাওয়া মিম মোসাদ্দেক এবার ১২ চারে করেন ৮০ রান। তার ১৯ ম্যাচের ক্যারিয়ারের সেরা ইনিংস এটি। ৫৪ বলে ৪২ রানে অপরাজিত থাকেন নবিন। 

দুই ইনিংস মিলিয়ে আট উইকেট নিয়ে ম্যাচের সেরা মুকিদুল। 

সংক্ষিপ্ত স্কোর: 

বরিশাল বিভাগ ১ম ইনিংস: ১৯০ 

রংপুর বিভাগ ১ম ইনিংস: ২০২

বরিশাল বিভাগ ২য় ইনিংস: ৩৮.২ ওভারে ১৪১ (আগের দিন ৯০/৭) (তাসামুল ৩৪, রুয়েল ১৩, তানভির ১৯, ইয়াসিন ১৫* ; রবিউল ১৩-১-৪১-০, মেহেদি ৬-০-১৫-১, মুকিদুল ১২.২-১-৫৩-৫, রিশাদ ৭-১-২৬-৩)।

রংপুর বিভাগ ২য় ইনিংস: (লক্ষ্য ১৩৬) ৩০.২ ওভারে ১৩৯/২ (মিম ৮০*, জাভেদ ১২, নবিন ৪২*, নাসির ৪*; রুয়েল ৫-০-৪৩-০, ইয়াসিন ২-০-৩-০, তানভিল ১০-১-২৬-১, মইন ১০-২-৪৪-০, তাসামুল ১-০-১১-০, ইফতি ২.২-০-১২-১)।

রানে ফিরলেন জাকির

আগের তিন ম্যাচের পাঁচ ইনিংসে কোনো ফিফটি করতে পারেননি জাকির হাসান। বাংলাদেশ টেস্ট দল থেকে বাদ পড়া ব্যাটসম্যান অবশেষে রানের দেখা পেলেন।

মুবিন আহমেদ দিশানের সঙ্গে জাকিরের উদ্বোধনী জুটি সিলেট বিভাগকে অনেকটা এগিয়ে নেয় লিড নেওয়ার পথে। 

সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামের আউটার মাঠে ১৪১ রানের জুটি গড়েন দুজন। আগের ম্যাচে ১৪১ রানের ইনিংস খেলা দিশান এবার আউট হন ৭১ রানে। অধিনায়ক জাকির পরে ফেরেন ৭৮ রানে।

এরপর সব ব্যাটসম্যানই দুঅঙ্ক স্পর্শ করেন, তবে ফিফটি করতে পারেননি আর কেউ। তবু লিড নিয়ে আরেকটু এগিয়ে যায় সিলেট। 

দিনশেষে তারা এগিয়ে ৪৮ রানে, উইকেট বাকি আছে ৩টি। 

সংক্ষিপ্ত স্কোর: 

খুলনা বিভাগ ১ম ইনিংস: ২৫৯

সিলেট বিভাগ ১ম ইনিংস: ৮৯.৪ ওভারে ৩০৭/৭ (আগের দিন ২৮/০) (মুবিন ৭৮, দিশান ৭১, সৈকত ১২, অমিত ১৭, গালিব ১৪, নাসুম ২৩, রিহাদ ৩২, শাহানুর ২৩*, তানজিম ১৬*; সফর ১৯-১-৬৩-২, হালিম ১৪.৪-৪-৪৪-২, সামিউন ২৮-৩-৭৯-০, আফিফ ১২-১-৫০-১, মেহেদি রানা ১৪-২-৪৬-২, মিঠুন ২-০-১১-০)।