Published : 08 Jun 2026, 08:16 PM
ইনিংস শুরুতে নেমে দলকে পথ দেখালেন জাকির হাসান। চমৎকার ব্যাটিংয়ে উপহার দিলেন সেঞ্চুরি। সঙ্গে ইফতেখার হোসেনের পঞ্চাশোর্ধ ইনিংস ও অন্যদের অবদানে বড় সংগ্রহ গড়ল বাংলাদেশ ইমার্জিং দল। রান তাড়ায় তিন অঙ্কের উষ্ণ ছোঁয়া পেলেন ওয়েসলি মাধেভেরেও। কিন্তু বাকিদের ব্যর্থতায় লক্ষ্যের ধারেকাছেও যেতেও পারল না জিম্বাবুয়ে ‘এ’ দল।
বগুড়ার শহীদ চান্দু স্টেডিয়ামে সোমবার ৮৫ রানের বড় জয়ে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে এগিয়ে গেছে বাংলাদেশ। ৩৬৪ রানের পুঁজি গড়ে প্রতিপক্ষকে ২৭৯ রানে গুটিয়ে দিয়েছে তারা।
স্বাগতিকদের জয়ের নায়ক জাকির পাঁচটি ছক্কা ও নয়টি চারে ৯৭ বলে ১১৯ রান করেন। তিনে নেমে ৭০ রান করতে তিনটি ছক্কা ও ছয়টি চার মারেন ইফতেখার। এছাড়া ত্রিশোর্ধ রান করেন অমিত হাসান, ইয়াসির আলি চৌধুরি ও সামিউন বাশির।
ওপেনার ম্যাথিউ ক্যাম্পবেলের এক ছক্কা ও পাঁচটি চারে ৫২ রানের ইনিংসের পর জিম্বাবুয়েকে টানেন মাধেভেরে। ছয়ে নেমে তিনটি ছক্কা ও ১৩টি চারে ১১৬ রান করেন তিনি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত বিফলে গেল তার সেঞ্চুরি।
পেসার রোহানাত উদ দ্দৌলা বর্ষণ ও বাঁহাতি স্পিনার সামিউন তিনটি করে উইকেট নেন। দুটি উইকেট প্রাপ্তি রহস্য স্পিনার আলিস আল ইসলামের।
টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে তৃতীয় ওভারেই শাহাদাত হোসেনকে হারায় বাংলাদেশ। সেই ধাক্কা সামলে ওঠে তারা জাকির ও ইফতেখারের ব্যাটে। দ্বিতীয় উইকেটে ১৫৮ রানের যুগলবন্দিতে দলকে বড় সংগ্রহের ভিত গড়ে দেন তারা। ২৩তম ওভারে, ৪২ বলে ফিফটি করা ইফতেখারের বিদায়ে ভাঙে তাদের বন্ধন।
শুরুতে একবার জীবন পাওয়া জাকির পঞ্চাশে পা রাখেন ৪৭ বলে। পরে ইনিংসকে আরও টেনে নিয়ে ৮৪ বলে সেঞ্চুরি স্পর্শ করেন বাংলাদেশের অধিনায়ক। অমিতের সঙ্গে তার ৬২ রানে জুটিতে দুইশ ছাড়ায় দলটির রান।
শতকের পর বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি জাকির, আন্তুম নাকভির বলে ক্যাচ দিয়ে বিদায় নেন। কয়েক ওভার পর অমিতেরও (৩ চারে ৩১) বাজে বিদায় ঘণ্টা। ইয়াসিরের ব্যাট থেকে আসে চারটি চারে ৩৪ রান।
শেষ দিকে ঝড় তোলেন সামিউন। তিনটি করে ছক্কা-চারে ১৮ বলে ৪১ রান করেন তিনি।
লক্ষ্য তাড়ায় জিম্বাবুয়ের শুরুটা হয় আশা জাগানিয়া। ইনোসেন্ট কাইয়া ও ক্যাম্পবেলের শুরুর জুটিতে ৬০ রান পায় তারা। কাইয়াকে এলবিডব্লিউ করে এই জুটি ভাঙেন আলিস। নিজের পরের ওভারে টাডিওয়ানাশে মারুমানিকেও ফিরিয়ে দেন তিনি।
নাকভিকে বিদায় করেন বর্ষণ। ফিফটি করা ক্যাম্পবেলের প্রতিরোধ ভাঙেন সামিউন। রয় কাইয়ার স্টাম্পও ভেঙে দেন তিনি। ১১৬ রানে পাঁচ উইকেট হারিয়ে ফেলে জিম্বাবুয়ে।
চাপে পড়া দলের একপ্রান্ত ধরে রেখে লড়াই চালিয়ে যান মাধেভেরে। ৫৪ বলে ফিফটি করার পর দ্রুত রান বাড়ান তিনি। ৮৬ বলে সেঞ্চুরি স্পর্শ করেন এই ব্যাটসম্যান। পঞ্চাশ থেকে শতকে পা রাখতে তার লাগে কেবল ৩২ বল।
৪৯তম ওভারে মাধেভেরেকে ফিরিয়ে জিম্বাবুয়ের ইনিংস গুটিয়ে দেন আব্দুল গাফফার সাকলাইন।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
বাংলাদেশ ইমার্জিং দল: ৫০ ওভারে ৩৬৪ (শাহাদাত ৬, জাকির ১১৯, ইফতেখার ৭০, অমিত ৩১, ইয়াসির ৩৪, আকবর ২৭, সামিউন ৪১, সাকলাইন ৩, খালেদ ৮*, বর্ষণ ১০, আলিস ০; মাসুকু ১০-০-৭০-৩, গুয়ান্ডু ৬-০-৫১-১, মাপোসা ৭-০-৬৩-১, নাকভি ৯-০-৫৭-২, মাধেভেরে ৩-০-২২-০, ফ্রোস্ট ১০-০-৬৮-২, বার্ল ৫-০-৩১-০)
জিম্বাবুয়ে ‘এ’ দল: ৪৮.৫ ওভারে ২৭৯ (ইনোসেন্ট কাইয়া ২৬, ক্যাম্পবেল ৫২, মারুমানি ৭, নাকভি ৮, রয় কাইয়া ৭, মাধেভেরে ১১৬, বার্ল ২০, ফ্রোস্ট ২, মাপোসা ১৬, গুয়ান্ডু ২, মাসুকু ০*; খালেদ ৯-০-৫৪-১, বর্ষণ ১০-০-৭২-৩, আলিস ১০-০-৫৯-২, সাকলাইন ৯.৫-০-৩৮-১, সামিউন ১০-০-৫২-৩)
ফল: বাংলাদেশ ইমার্জিং দল ৮৫ রানে জয়ী
ম্যান অব দা ম্যাচ: জাকির হাসান