Published : 16 May 2026, 08:16 PM
বাঁহাতি স্পিনার আবু হাসিমকে লেগ সাইডে খেলার চেষ্টায় পারলেন না মোহাম্মদ নাঈম শেখ। বলটা বিশাল টার্ন করে তার ব্যাট ও প্যাডের ফাঁক দিয়ে আঘাত করল স্টাম্পে। মাথা নিচু করে মাঠ ছাড়লেন নাঈম। এক ম্যাচ আগেই দারুণ সেঞ্চুরি করা ব্যাটসম্যান এবার সেই স্বাদ পেলেন না স্রেফ এক রানের জন্য!
ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের পঞ্চম রাউন্ডে মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের হয়ে ৯৯ রানে আউট হয়েছেন জাতীয় দলের বাইরে থাকা ওপেনার নাঈম। তাদের বিপক্ষেই সফল রান তাড়ায় প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাবের হয়ে সেঞ্চুরি করেছেন জাতীয় দলের বাইরে থাকা আরেক ব্যাটসম্যান শাহাদাত হোসেন।
এ দিন সেঞ্চুরি করেছেন আরও চার ক্রিকেটার- মোহাম্মদ মিঠুন, আশিকুর রহমান শিবলি, মাহমুদুল হাসান ও সাদিকুর রহমান।
সিটি ক্লাবের হয়ে দারুণ বোলিংয়ে ৬ উইকেট নিয়েছেন আব্দুল গাফ্ফার সাকলাইন।

বসুন্ধরা স্পোর্টস সিটি ক্রিকেট গ্রাউন্ডে শনিবার মোহামেডানকে ৩ উইকেটে হারায় প্রাইম ব্যাংক। ৩০৪ রানের লক্ষ্য পাঁচ বল বাকি থাকতে পেরিয়ে যায় তারা।
নাঈমের ১০৭ বলে ৯৯ রানের ইনিংসটি গড়া ৯ চার ও দুই ছক্কায়। এছাড়া দলটির হয়ে পারভেজ হোসেন ৬৫ বলে ৫২ ও আফিফ হোসেন ৪৯ বলে ৪৯ রান করেন।
৩০ রানে চার উইকেট নিয়ে প্রাইম ব্যাংকের সফলতম বোলার আবু হাসিম।
রান তাড়ায় দলের ইনিংস শুরু করে ৪৭তম ওভারে আউট হওয়ার আগে ১১৮ রান করেন শাহাদাত। ১২৩ বলে ১০ চার ও দুই ছক্কায় গড়া ইনিংসে ম্যাচ সেরা তিনিই। তিন ছক্কা ও এক চারে ২১ বলে ৩৭ রানের ইনিংসে দলের জয় নিয়ে ফেরেন শামীম হোসেন।
মোহামেডানের হয়ে ৫০ রানে ৪ উইকেট নিয়েছেন মোহাম্মদ সাইফ উদ্দিন।
ক্রিকেটার্স একাডেমিতে ব্রাদার্স ইউনিয়নের বিপক্ষে আট ছক্কা ও তিন চারে ৮৬ বলে ১১২ রান করেন ঢাকা লিওপার্ডস অধিনায়ক মিঠুন। তার দলের জয় ১২০ রানে। তাদের ৩৫১ রানের জবাবে ২৩১ রানে গুটিয়ে যায় ব্রাদার্স।

ম্যাচ সেরা মিঠুন ছাড়াও লিওপার্ডসের হয়ে ছয় চারটি ও চার ছক্কায় ৪৪ বলে ৬৯ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলেন মইন খান। ব্রাদার্সের হয়ে আট নম্বরে গোলাম কিবরিয়ার ৪৬ বলে ৫১ রান ইনিংস সর্বোচ্চ।
আশিকের সেঞ্চুরিতে ২০৫ রানের বড় জয় পেয়েছে লেজেন্ডস অব রূপগঞ্জ। বিকেএসপির চার নম্বর মাঠে তাদের ৩৫৪ রানের জবাবে ১৪৯ রানে অলআউট হয় গুলশান ক্রিকেট ক্লাব।
অপরাজিত ৯৯ রানের ইনিংসে এবারের লিগ শুরু করেছিলেন আশিক। ২০ বছর বয়সী ওপেনার এবার লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে প্রথম সেঞ্চুরির স্বাদ পেলেন। ম্যাচ সেরা হন তিনিই।
রূপগঞ্জের হয়ে আঁটসাঁট বোলিংয়ে ৩২ রানে ৪ উইকেট নেন বাঁহাতি স্পিনার নাসুম আহমেদ।
মিরপুরে বসুন্ধরা স্ট্রাইকার্সকে চার উইকেটে হারায় আবাহনী লিমিটেড। অলরাউন্ড নৈপুণ্যে ম্যাচ সেরা হন দলটির অধিনায়ক মোসাদ্দেক হোসেন।
বোলিংয়ে ১০ ওভারে ৩৩ রানে ২ উইকেট, দুটি ক্যাচ ও ব্যাটিংয়ে ছয় নম্বরে নেমে পাঁচ ছক্কা ও তিন চারে ৫৪ বলে ৫৭ রানের ইনিংস খেলেন মোসাদ্দেক। ২১০ রানের লক্ষ্য ৬৪ বল হাতে রেখে পেরিয়ে যায় আবাহনী।
সাত নম্বরে চারটি চার ও দুটি ছক্কায় ৫৪ বলে ৫০ রানের ইনিংসে দলের জয় নিয়ে ফেরেন সাব্বির রহমান।
বসুন্ধরার হয়ে সর্বোচ্চ ৮১ রান করেন আমিনুল ইসলাম বিপ্লব। ৩৪ রানে চার উইকেট নিয়ে আবাহনীর সফলতম বোলার রোহানাত দৌলা বর্ষণ।
গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্সকে চার উইকেটে হারায় অগ্রণী ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাব। ২৫৩ রানের লক্ষ্য সাত বল বাকি থাকতে পেরিয়ে যায় তারা।
রান তাড়ায় ৯ চার ও এক ছক্কায় ৭৯ বলে অপরাজিত ৭৮ রানের ইনিংসে ম্যাচ সেরা হন নাসির হোসেন। ১০ চারে ৬৭ বলে ৭৮ রান করেন শুভাগত হোম। ৮৯ রানে পাঁচ উইকেট হারানোর পর, ষষ্ঠ উইকেট জুটিতে তারা যোগ করেন ১৩৯ রান।

সাইলাইনের চমৎকার বোলিংয়ের পর, সাদিকুরের সেঞ্চুরি ও মোহাম্মদ এনামুলের নব্বই ছোঁয়া ইনিংসে বড় জয় পেয়েছে সিটি ক্লাব। রূপগঞ্জ টাইগার্স ক্রিকেট ক্লাবকে ৬ উইকেটে হারিয়েছে তারা।
বিকেএসপির তিন নম্বর মাঠে মাহমুদুলের সেঞ্চুরি (১৪৪ বলে ১০৬), আব্দুল মজিদ (৮৫ বলে ৫২) ও আবদুল্লাহর (৩৭ বলে ৫০) ফিফটিতে ২৪৬ রান করে রূপগঞ্জ টাইগার্স। সেই রান সিটি ক্লাব পেরিয়ে যায় ৩৯.৩ ওভারে।
সাতটি চার ও তিন ছক্কায় ৯৫ বলে ১০৫ রানের ইনিংসে দলের জয় নিয়ে ফেরেন ওপেনার সাদিকুর। লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে তার প্রথম সেঞ্চুরি এটি। চার নম্বরে আটটি ছক্কা ও এক চারে ৮৫ বলে ৯০ রান করেন এনামুল।
তবে ম্যাচের সেরা তারা কেউ নন, ১০ ওভারে দুই মেডেনে ৩৭ রানে ৬ উইকেট নিয়ে পুরস্কারটি পান সাকলাইন। লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে আগের ৩০ ম্যাচে কখনও ৫ উইকেট ছিল না ২৮ বছর বয়সী এই পেস বোলিং অলরাউন্ডারের।