Published : 09 Dec 2025, 10:20 PM
অনেক প্রত্যাশা নিয়ে অস্ট্রেলিয়ায় পা রেখে প্রথম দুই টেস্টেই বাজেভাবে হেরে এখন সিরিজ হারের শঙ্কায় ইংল্যান্ড। বাকি তিন টেস্টের আগে সফরকারীদের সতর্ক করে দিয়ে অস্ট্রেলিয়ার বোলিং গ্রেট গ্লেন ম্যাকগ্রা বললেন, অ্যাডিলেইডে পরের ম্যাচে বেন স্টোকসরা জিততে না পারলে বিব্রতকরভাবে শেষ হতে পারে সিরিজ।
এবার সিরিজের শুরুটাই খুব বাজে হয় ইংল্যান্ডের। পার্থে প্রথম টেস্টে দুই দিনেই বিধ্বস্ত হয় তারা। ব্রিজবেনে দিবা-রাত্রির টেস্টে কিছুটা লড়াই করতে পারলেও শেষ পর্যন্ত তাদের সঙ্গী হয় আরেকটি বড় পরাজয়। দুই ম্যাচই ৮ উইকেটে জিতে সিরিজে এগিয়ে আছে অস্ট্রেলিয়া।
গত আট বছর ধরে অ্যাশেজ সিরিজের ট্রফি, বিখ্যাত সেই ‘ছাইদানি’ অস্ট্রেলিয়ার কাছে। সবশেষ ২০২৩ সালে ঘরের মাঠে সেটি পুনরুদ্ধারের সম্ভাবনা জাগিয়েও পারেনি ইংল্যান্ড। ২-২ সমতায় সিরিজ শেষ করে ট্রফি ধরে রাখে অস্ট্রেলিয়া।
২০১০-১১ মৌসুমের পর থেকে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে সিরিজ জয় তো দূরের কথা, এই সময়ে সেখানে কোনো টেস্ট ম্যাচই জিততে পারেনি ইংল্যান্ড। দীর্ঘ খরা কাটানোর আশার কথা এবার সিরিজ শুরুর আগে শুনিয়েছেন তাদের অনেকেই। কিন্তু সেই সম্ভাবনা এখন অনেকটাই ক্ষীণ।
অ্যাশেজ সিরিজে প্রথম দুই ম্যাচ হারের পর ট্রফি জয়ের নজির আছে কেবল একবার। সেই ১৯৩৬-৩৭ মৌসুমে যেটা করে দেখিয়েছিল ডন ব্র্যাডম্যানের নেতৃত্বাধীন অস্ট্রেলিয়া।
ইংল্যান্ডের আগ্রাসী ক্রিকেটের ‘বাজবল’ কৌশল নিয়েও হচ্ছে সমালোচনা। ম্যাকগ্রা আগেই বলেছেন, এবার হয়তো ইংল্যান্ডকে হোয়াইটওয়াশ করবে তার উত্তরসূরিরা। বিবিসিতে নিজের কলামে মঙ্গলবার সাবেক এই পেসার লেখেন, ইংল্যান্ডের খেলার ধরন নিয়ে আগে থেকে সংশয় ছিল অনেকের।
“এই সিরিজের ফয়সালা এখনও হয়নি, তবে তা খুব বেশি দূরেও নয়। ইংল্যান্ড যদি অ্যাডিলেইডে তৃতীয় টেস্ট জিততে না পারে, তাহলে এটা (সিরিজের শেষটা) বিব্রতকর হবে। যুক্তরাজ্যে ২০২৩ সালের অ্যাশেজের সময় আমি ইংল্যান্ডের খেলার ধরন কাছ থেকে দেখেছি। এই সফরে অস্ট্রেলিয়ায় তাদের সিরিজ জয়ের সম্ভাবনা নিয়ে যত আলোচনা হয়েছে, তার মধ্যে ইংল্যান্ডের খেলার ধরন নিয়েও অনেক সংশয় ছিল।”
অধিনায়ক প্যাট কামিন্স ও আরেক পেসার জশ হেইজেলউডকে ছাড়াই প্রথম দুই টেস্টে দাপুটে জয় তুলে নিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। ম্যাকগ্রার বিশ্বাস, অস্ট্রেলিয়া স্বপ্নেও ভাবেনি মাত্র ছয় দিন ক্রিকেট খেলার পর তারা সিরিজে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে থাকবে।
“পার্থে প্রথম টেস্টে তাদের (অস্ট্রেলিয়া) চাপে ফেলেছিল ইংল্যান্ড, তারপর অস্ট্রেলিয়া অবিশ্বাস্যভাবে ঘুরে দাঁড়ায়। ব্রিজবেনে দ্বিতীয় টেস্টের আগে তাদের আত্মবিশ্বাস আরও বেড়ে যায়, সেখানে তারা ইংল্যান্ডকে টেস্ট ক্রিকেট, বিশেষ করে দিবা-রাত্রির টেস্ট ক্রিকেট কীভাবে খেলতে হয়, তা শিখিয়েছে। যারা ইংল্যান্ডকে নিয়ে সংশয় প্রকাশ করতেন, তাদের সকলেই সঠিক প্রমাণিত হচ্ছেন।”