Published : 06 Jan 2026, 08:33 PM
গত ১৮ ডিসেম্বর ফেইসবুকে একটি ছবি পোস্ট করেন ইমরুল কায়েস। সিডনি থেকে মেলবোর্নে যাচ্ছিলেন তিনি। কয়েক ঘণ্টা পর আরেকটি ছবি পোস্ট করেন তিনি মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ডের গ্যালারি থেকে। সাবেক এই জাতীয় ক্রিকেটার মেলবোর্নে ছুটে গিয়েছিলেন এক ‘ছোট ভাইয়ের’ খেলা দেখতে। নামটি নিশ্চয়ই অনুমান করতে পারছেন। বিগ ব্যাশে বাংলাদেশের প্রতিনিধি রিশাদ হোসেনের ম্যাচ ছিল সেখানে।
দেশে এখন চলছে বিপিএলের মৌসুম। এর মধ্যে মুস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়া নিয়ে চলছে তোলপাড়। কিন্তু রিশাদ এসব থেকে আপাতত অনেক দূরে। ভৌগলিকভাবে তিনি আছেন অন্য মহাদেশে, তবে ক্রিকেটীয় বাস্তবতায় আদতে তিনি আছে অন্য এক জগতে। সেই দুনিয়া রিশাদ দারুণভাবেই উপভোগ করছেন, অস্ট্রেলিয়া থেকে দেশে ফিরে জানালেন ইমরুল।
ইমরুল এখন বছরের একটা উল্লেখযোগ্য সময় থাকেন অস্ট্রেলিয়াতেই। সিডনিতে কোচিং কোর্স করছেন, কোচিং করাচ্ছেন, একাডেমি নিয়েও কাজ করছেন। রিশাদ যখন বিগ ব্যাশ খেলতে গেলেন, তার খেলা দেখার সুযোগটি তো আর ছাড়া যায় না!
রিশাদ এখনও ব্যস্ত আছেন বিগ ব্যাশে। ইমরুল দেশে ফিরেছেন বিপিএলের ডাকে। দেশের ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের এই টুর্নামেন্টে আগের সব আসরেই খেলেছেন তিনি। এবার আছেন ভিন্ন ভূমিকায়। সিলেট টাইটান্সের ব্যাটিং কোচ তিনি। আসরের শুরু থেকে না থাকলেও দিন চারেক হলো ফিরেছেন দেশে।
সিলেটে মঙ্গলবার দলের অনুশীলনের ফাঁকে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হলেন ইমরুল। অবধারিতভাবেই উঠে এলো রিশাদের প্রসঙ্গ। ইমরুল জানালেন, অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী বাংলাদেশিরা উচ্ছ্বসিত এই লেগ স্পিনারকে সেখানে পেয়ে।
“আমি সিডনি থেকে মেলবোর্নে গিয়েছি রিশাদের খেলা দেখতে। এটা ভালো লাগার একটা বিষয় যে, রিশাদ খেলছে। সে আমার মানে ছোট ভাই, বাংলাদেশ থেকে খেলতে গিয়েছে এবং বিগ ব্যাশের মতো জায়গায় খেলছে… এটা শুধু আমার জন্য নয়, প্রত্যেকটি বাংলাদেশি, যারা ওখানে আছে, তারা খুবই গর্বিত। রিশাদের জন্যই তারা হোবার্টকে সাপোর্ট করে। সমর্থনের দিক থেকেও তারা লাভবান হচ্ছে।”
সাকিব আল হাসানের ১১ বছর পর রিশাদকে দিয়েই বিগ ব্যাশে একজন প্রতিনিধি পেয়েছে বাংলাদেশ। ২৩ বছর বয়সী লেগ স্পিনার খেলছেন গত আসরের চ্যাম্পিয়ন হোবার্ট হারিকেন্সের হয়ে।
ইমরুল যে ম্যাচটি দেখতে গিয়েছিলেন, বিগ ব্যাশে রিশাদের দ্বিতীয় ম্যাচ ছিল সেটি। সেদিনই টুর্নামেন্টে প্রথম উইকেটের স্বাদ পান এই লেগ স্পিনার। দল হারলেও দুটি উইকেট তিনি নিয়েছিলেন।
পরের তিন ম্যাচেও দারুণ বোলিংয়ে ছয় উইকেট শিকার করেন তিনি। সবশেষ দুই ম্যাচে উইকেট পাননি। তবে অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেটে মহলে নাড়া দিয়েছেন তিনি প্রবলভাবেই। বর্তমান-সাবেক অনেক ক্রিকেটার ও বিশ্লেষক প্রশংসা করেছেন তার।

গত মৌসুমেও হোবার্ট হারিকেন্স রিশাদকে নিয়েছিল দলে। কিন্তু বিপিএলের কারণে মাত্র কয়েক দিনের ছাড়পত্র না পাওয়ায় শেষ পর্যন্ত তার যাওয়া হয়নি। এবার বিসিবি উপলব্ধি করেছে, বিপিএলের চেয়ে বিগ ব্যাশ খেললেই তার জন্য বেশি ভালো। শুধু মাঠের ক্রিকেটে নয়, অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটের সংস্কৃতি ও সামগ্রিক আবহ মিলিয়েই সমৃদ্ধ হওয়ার সুযোগটা বেশি।
ইমরুল বললেন, রিশাদ সেই স্বাদ পুরোপুরিই পাচ্ছেন এবং উপভোগ করছেন।
“আমি তার সঙ্গে কথা বলেছি। সে বলেছে, ‘ভাই, আমি খুব উপভোগ করছি, এখানকার কালচার, এখানকার সবকিছু।’ আমি বললাম, ‘তোর দলের সতীর্থ যারা আছে তারা, তাদের সাথে কেমন সম্পর্ক?’ সে বলল, ‘সবাই খুবই ফ্রেন্ডলি। এখানে সবকিছু পুরো আলাদা। এখানে খেলা মানে… এদের পরিবেশ আর আমাদের এশিয়ান পরিবেশ সবটুকু আলাদা আসলে। খেলার বাইরে অন্য কিছু নিয়ে আলোচনা নেই ওদের। স্রেফ মজা করে, খেলা শেষে মজা করে চলে যায়।’ আমাদের এখানে অনেক বিষয় নিয়ে নাড়াচাড়া হয় আসলে, যে জিনিসগুলো ক্রিকেটের জন্য ভালো নয়।”
“আমার মনে হয়, রিশাদ যে সুযোগটা পেয়েছে, এটা বাংলাদেশের জন্য অনেক বড়। সে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করছে সেখানে। আশা করি, ভবিষ্যতে অনেক ক্রিকেটার বিগ ব্যাশ খেলবে এবং আমাদের জন্য ভালো হবে।”
বিগ ব্যাশের পর রিশাদ দেশে ফিরবেন। আগামী মাসেই বাংলাদেশের জার্সি গায়ে লড়বেন বিশ্বমঞ্চে। গত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে দারুণ বোলিং করে এক আসরে দেশের সর্বোচ্চ উইকেটের রেকর্ড গড়েছিলেন। এবার বিগ ব্যাশের আত্মবিশ্বাসকে সঙ্গী করে তিনি আরও কার্যকর হবেন বলে মনে করেন ইমরুল।
“রিশাদ অবশ্যই এক্স ফ্যাক্টর হবে বাংলাদেশের জন্য, আমি মনে করি। যেহেতু সে একটা ভালো জায়গা থেকে খেলে আসছে, তার আত্মবিশ্বাস অনেক উঁচুতে আছে। আমার মনে হয়, সে যদি ওর বিশ্বাসটা রেখে বোলিং করতে পারে…যেহেতু আমাদের খেলা ভারতে, হয়তো বা উইকেট টার্নিংও হতে পারে। আমার মনে হয় খারাপ হবে না সে, বোলিংয়ে আমাদের জন্য ভালো অবদান রাখবে।”