Published : 20 Dec 2024, 06:37 PM
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ব্রিজবেন টেস্ট শেষে আচমকাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় বলে দেন রাভিচান্দ্রান অশ্বিন। অবসর ঘোষণার পর অন্য অনেকের মতো তাকে ফোন করেছিলেন দুই কিংবদন্তি কাপিল দেব ও সাচিন টেন্ডুলকার। বিষয়টি ৩৮ বছর বয়সী এই ক্রিকেটারের হৃদয় ছুঁয়ে গেছে। পূর্বসূরিদের প্রতি জানিয়েছেন তিনি কৃতজ্ঞতা।
চলতি অস্ট্রেলিয়া সফরে প্রথম তিন টেস্টের মধ্যে অশ্বিন একাদশে সুযোগ পান কেবল অ্যাডিলেইডে দ্বিতীয় ম্যাচে। গ্যাবায় ড্র হওয়া তৃতীয় টেস্ট শেষে সংবাদ সম্মেলনে এসে হুট করে জাতীয় দলকে বিদায় বলে দেন এই অফ স্পিনিং অলরাউন্ডার।
সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ শুক্রবার আবেগঘন পোস্টে কল লিস্টের স্ক্রিনশট তুলে ধরেন অশ্বিন। কাপিল ও টেন্ডুলকারের ফোন কল পেয়ে ভীষণ আপ্লুত তিনি।
“২৫ বছর আগে কেউ যদি আমাকে বলত যে, আমার কাছে একটা স্মার্টফোন থাকবে এবং ভারতীয় ক্রিকেটার হিসেবে আমার ক্যারিয়ারের শেষ দিনে কল লিস্ট এরকম দেখাবে, তাহলে আমার হার্ট অ্যাটাকই হয়ে যেত। ধন্যবাদ সাচিন টেন্ডুলকার ও কাপিল দেব পাজি (বড় ভাই)।”
হুট করে অশ্বিনের অবসরের ঘোষণায় বিস্মিত হয়েছেন অনেকে। ভারতের ১৯৮৩ বিশ্বকাপ জয়ী অধিনায়ক কাপিলও আছেন এই তালিকায়।
“ভারতের সেরা ক্রিকেটারদের একজন যেভাবে খেলাটা ছেড়ে দিল, তা দেখে আমি স্তম্ভিত হয়ে গেছি। সমর্থকরা হতাশ তো বটেই, অশ্বিনের মুখেও বেদনার ছাপ দেখতে পেয়েছি। তাকে দেখে খুশি মনে হয়নি, আর এটা দুঃখজনক। আমার মতে, আরও ভালো বিদায় তার প্রাপ্য ছিল।”
“সে অপেক্ষা করতে পারত, দেশের মাটিতে খেলে অবসর নিতে পারত। জানি না, কেন সে এই সিদ্ধান্ত নিল। তার দিকটাও শুনতে চাই আমি। সেই সম্মানটা তাকে দিন।”
অশ্বিনকে প্রশংসায় ভাসিয়ে তাকে শুভকামনা জানান আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সবচেয়ে বেশি রান ও সেঞ্চুরির রেকর্ডধারী টেন্ডুলকার।
“অশ্বিন, তুমি যেভাবে তোমার মন ও হৃদয়ের সঙ্গে নিখুঁত সমন্বয় স্থাপন করে ক্রিকেট খেল, আমি সবসময় তার প্রশংসা করি। নিখুঁত ক্যারম বল করা থেকে গুরুত্বপূর্ণ রান করা, তুমি সবসময় জয়ের জন্য পথ খুঁজে বের করেছো। উদীয়মান প্রতিভা থেকে ভারতের সেরা ম্যাচ উইনারদের একজন হয়ে উঠতে দেখাটা খুবই চমৎকার। তোমার কীর্তি সবাইকে অনুপ্রাণিত করবে। তোমার দ্বিতীয় ইনিংসের জন্য অনেক শুভকামনা।”
বছরের পর বছর ধরে আলো ঝলমলে পারফরম্যান্সে অশ্বিন নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন ভারতের সর্বকালের সেরা ক্রিকেটারদের একজন হিসেবে। ১০৬ টেস্টে তার উইকেট ৫৩৭টি। ভারতের হয়ে তার চেয়ে বেশি টেস্ট উইকেট আছে কেবল অনিল কুম্বলের, ৬১৯টি।
ব্যাট হাতেও কম উজ্জ্বল নয় তার টেস্ট ক্যারিয়ার। ৬ সেঞ্চুরি ও ১৪ ফিফটিতে ৩ হাজার ৫০৩ রান করেছেন ২৫.৭৫ গড়ে।
ওয়ানডেতে ১১৬ ম্যাচে তার উইকেট ১৫৬টি, টি-টোয়েন্টিতে ৬৫ ম্যাচে ৭২টি। ভারতের ২০১১ বিশ্বকাপ ও ২০১৩ চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি জয়ী দলের সদস্য তিনি।