Published : 16 Jan 2026, 09:54 AM
এই যুগে ব্যাপারটি একটু বিস্ময়কর ও অস্বাভাবিকই বলতে হবে। সারাদিন চেষ্টা করেও পরিচালক এম নাজমুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারনি বিসিবি, দাবি আরেক বোর্ড পরিচালক ইফতেখার রহমানের। প্রশ্নটাও তাই উঠে যাচ্ছে, কারণ দর্শানোর নোটিশের এই ৪৮ ঘণ্টা যদি লাপাত্তা থাকেন নাজমুল!
ক্রিকেটারদের নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করা বোর্ড পরিচালককে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয় বৃহস্পতিবার দুপুরে। রাতে সংবাদ সম্মেলনে ইফতেখার জানান, গঠনতন্ত্র অনুযায়ী প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হবে।
“যে পরিচালক ওসব মন্তব্য করেছিল, তাকে তার কমিটি (অর্থ কমিটির চেয়ারম্যান) থেকে অপসারণ করা হয়েছে। আমরা তো গঠনতন্ত্রের অধীনে চলি। তাকে প্রক্রিয়া অনুযায়ী তাকে শোকজ করা হয়েছে। তাকে ৪৮ ঘণ্টা সময় দেওয়া হয়েছে। ১৭ তারিখ দুপুরে শেষ হবে (সময়), তার জবাব পেতে।”
“এরপর এটা ডিসিপ্লিনারি কমিটিতে যাবে। একদম গঠনতন্ত্রে লেখা আছে। ডিসিপ্লিনারি কমিটিতে যাবে এবং এই প্রক্রিয়াটি থাকবে।"
কিন্তু একই সংবাদ সম্মেলনে ইফতেখার এটিও বলেছেন, “এর মধ্যে আমরা চেষ্টা করেছি উনার সঙ্গে সারাদিন যোগাযোগ করতে। আমরা চেয়েছিলাম (তাকে) আজকে এখানে আনার জন্য। কিন্তু উনার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারা যায়নি।”
তাহলে কারণ দর্শানোর এই ৪৮ ঘণ্টা শেষ হলেও যদি তার কোনো সাড়া না মেলে? ইফতেখার এবারও বললেণ গঠনতন্ত্র অনুসরণের কথা।
“লাপাত্তা থাকলে… (জবাব) না দিলে, তার মানে আপনি জানেন… আদালতে যদি মামলা করা হয়, আপনি যদি হাজিরা না দেন, এটা ফল তো আমার ব্যাখ্যা করার দরকার নেই।”
“আমাদের ডিসিপ্লিনারি কমিটির চেয়ারম্যান হচ্ছে মিতু (ফায়াজুর রহমান)। তাদের সঙ্গেও আমরা কথা বলেছি। আমরা নিয়ম অনুসরণ করব। উনি জবাব না দিলে, এটার ফল তো উনাকে ভোগ করতে হবে।”
সেই ফল মানে কি অপসারণ? ইফতেখারের ছোট্ট উত্তর, ‘হ্যাঁ।’
নাজমুলের মন্তব্যকে ঘিরে তৈরি হওয়া উত্তপ্ত অবস্থা থেকেই দেশের ক্রিকেটে আগুন লেগে গিয়েছিল। গত বুধবার বিসিবিতে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তিনি আপত্তিকর মন্তব্য করেন ক্রিকেটারদেরকে নিয়ে। ওইদিন রাতেই অনলাইন সংবাদ সম্মেলনে ক্রিকেটারদের সংগঠন কোয়াবের সভাপতি মোহাম্মদ মিঠুন ঘোষণা দেন, বৃহস্পতিবার বিপিএলের প্রথম মাচের আগেই নাজমুল পদত্যাগ না করলে বিপিএলে খেলা বন্ধ করে দেবেন তারা।
নাজমুল পদত্যাগ করেননি। দিনের দুটি খেলার একটিও হয়নি।
অর্থ কমিটির চেয়ারম্যানের পদ থেকে তাকে সরিয়ে দেয় বিসিবি। কিন্তু তাতেও খেলায় ফিরতে রাজী হননি ক্রিকেটাররা। দুই পক্ষের অনেক টানাপোড়েনের পর সমঝোতা হয় রাতের বৈঠকে, যেটি শেষ হয় প্রায় মাঝরাতে।
বিসিবি পরিচালক ও বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলেল সদস্য সচিব ইফতেখার অকপটেই বললেন, নাজমুলের বক্তব্যে তার বিন্দুমাত্র সায় নেই।
“আপনি যদি আমাকে গভর্নিং কাউন্সিলের সদস্য সচিব না ধরেন, সাবেক ক্রিকেটার হিসেবে আমাকে প্রশ্ন করেন, আমি কিন্তু বলব, উনি (নাজমুল) বিরাট ভুল করেছেন। কোনো মানুষেরই কাউকে ছোট করা অধিকার নেই।”
কারণ দর্শানোর নোটিশের সময় শেষ হওয়ার পর নাজমুলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা আদৌ নেওয়া হবে কি না, এই প্রশ্নও উঠল। এর মধ্যেই দুটি ব্যবস্থা নেওয়ার উদাহরণ তুলে ধরেই আশ্বাস দিলেন ইফতেখার।
“এমনিতেও উনাকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে (অর্থ কমিটি থেকে)… আজ পর্যন্ত আমি শুনিনি বিসিবিতে যে কোনো পরিচালককে কারণ দর্শাতে বলা হয়েছে বা (কমিটি থেকে) সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। বিসিবির দুটি রেকর্ড তো এর মধ্যেই হয়ে গেছে!”
“আমরা সর্বাত্মক চেষ্টার করব উনাকে বোঝানোর যে, ‘এটাকে আপনি শেষ করেন। আমরাও মনে করি যে আপনি ভুল বিবৃতি দিয়েছেন।’ তবে ব্যক্তিগতভাবে যার সিদ্ধান্ত, তারই সিদ্ধান্ত নিতে হবে।”