Published : 21 Jan 2026, 10:17 PM
তিনটি ট্রানজিট পেরিয়ে দীর্ঘ পথ মাড়িয়ে ম্যাচের দিন সকালে ঢাকায় পা রেখেছেন কেন উইলিয়ামসন। জাতীয় দলের খেলা বাদ দিয়ে বিপিএল খেলতে রয়ে গেছেন জিমি নিশাম। সেই দুজনই করলেন বাজিমাত। বিপর্যয়ের মধ্যে দুর্দান্ত জুটিতে দলকে এগিয়ে নিলেন দুজন। পরে বল হাতে ইনিংসের শুরু আর শেষে দারুণ পারফরম্যান্স উপহার দিলেন বিনুরা ফার্নান্দো। তিন বিদেশির নৈপুণ্যে রাজশাহী পৌঁছে গেল ফাইনালে।
বিপিএলের দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে সিলেট টাইটান্সকে ১২ রানে হারিয়ে শিরোপার মঞ্চে পা রাখল রাজশাহী ওয়ারিয়র্স।
মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে বুধবার রাজশাহী ২০ ওভারে তোলে ১৬৫ রান।
৮০ রানে ৫ উইকেট হারানোর পর ৭৭ রানের জুটি গড়েন উইলিয়ামসন ও নিশাম।
দুই ছক্কায় ৩৮ বলে ৪৫ রানে অপরাজিত থাকেন নিউ জিল্যান্ডের ইতিহাসের সফলতম ব্যাটসম্যান উইলিয়ামসন। আগের পাঁচ ইনিংসে মাত্র ৩৬ রান করা নিশাম এবার করেন ২৬ বলে ৪৪।
সিলেট ২০ ওভারে করতে পারে ১৫৩ রান।
ক্যারিয়ার সেরা বোলিংয়ে ১৯ রানে ৪ উইকেট নিয়ে ম্যাচের সেরা বিনুরা ফার্নান্দো। বিপিএলে প্রথমবার ৪ উইকেটের স্বাদ পেলেন শ্রীলঙ্কান পেসার।
ম্যাচের শুরুটা রাজশাহী করে দাপটে। ম্যাচের প্রথম বলে ক্রিস ওকসকে বাউন্ডারিতে শুরু করেন সাহিবজাদা ফারহান। প্রথম দুই ওভারে দুই বাউন্ডারির পর দ্বিতীয় ওভারে দুটি চার ও একটি ছক্কা মারেন তিনি খালেদকে।
শুরুর সেই গতি ধরে রাখতে না পেরে সাহিবজাদা বিদায় নেন ২১ বলে ২৬ রান করে। তবে জ্বলে ওঠেন তার সঙ্গী তানজিদ হাসান। নাসুম আহমেদকে গ্যালারিতে পাঠানোর পর এক ওভারে তিনটি ছক্কা মারেন তিনি মইন আলিকে।
পাওয়ার প্লেতে সিলেট তোলে ৬১ রান।
আরেকটি ছক্কার চেষ্টায় তানজিদের ইনিংস শেষ হয় ১৫ বলে ৩২ করে। এরপর ছোট একটা ধসে টালমাটাল হয়ে ওঠে রাজশাহীর ইনিংস।
মেহেদী হাসান মিরাজের বলে সুইপ শটে চার মারার পরের বলে আবার সুইপ খেলে বোল্ড হন নাজমুল হোসেন শান্ত। পরের বলেই দুর্দান্ত এক ফিরতি ক্যাচ নিয়ে মুশফিকুর রহিমকে বিদায় করেন মিরাজ।
এই নিয়ে পরপর দুই ম্যাচে ‘গোল্ডেন ডাক’ পেলেন মুশফিক।
এরপর এসএম মেহরবও ফেরেন শূন্যতে। ১৮ রানের মধ্যে ৪ উইকেট হারিয়ে রাজশাহীর রান হয়ে যায় ৫ উইকেটে ৮০।
সেখান থেকেই উইলিয়ামসন ও নিশামের জুটি।
শুরুতে দারুণ এক ইনসাইড আউট শটে নাসুমকে ছক্কার পর উইকেট ধরে রাখায় মন দেন উইলিয়ামসন। নিশাম শুরু থেকেই সহজাত ব্যাটিংয়ে বাড়াতে থাকেন রান।
দারুণ এই জুটি ভাঙে ১৯তম ওভারে। ক্রিস ওকসকে ছক্কা মারার এক বল পর আউট হয়ে যান নিশাম।
সালমান ইরশাদের করা শেষ ওভারে উইকেটের পতন হয় তিনটি। উইলিয়ামসন স্ট্রাইক পান কেবল এক বল। ফিফটি তাই ছুঁতে পারেননি তিনি।
রান তাড়ার শুরুতেই সিলেট টালমাটাল হয়ে পড়ে জোড়া ধাক্কায়। তৌফিক খান তুষারের বদলে একাদশে ফিরে জাকির হাসান বিদায় নেন প্রথম ওভারেই। এই বাঁহাতি ফেরানোর পর বিনুরা ফার্নান্দো শূন্য রানেই ফেরান আরিফুল ইসলামকে।
সিলেটের রান তাড়ায় প্রাণ ফেরে পারভেজ হোসেন ইমনের পাল্টা আক্রমণে। দলের রান যখন পঞ্চাশ পেরোয়, পারভেজের অবদানই তাতে ৪০।
মেহরবের বলে সুইচ হিটে বল গ্যালারির দোতলায় আছড়ে ফেলা শটটি ছাড়া স্যাম বিলিংস মূলত সঙ্গই দেন পারভেজকে।
পারভেজের রান আউটে এই জুটি থামে ৪৭ বলে ৬৯ রানে। দ্বিতীয় রানের চেষ্টায় পারভেজ রান আউটহয়ে যান ৩৪ বলে ৪৮ রান করে।
ফিফটি না পেলেও আসরে রান স্কোরারদের তালিকায় শীর্ষে উঠে যান পারভেজ।
প্রথম স্পেলে এক ওভারে ১৬ রান দেওয়া মোহাম্মদ রুবেল দ্বিতীয় স্পেলে ফিরে দুর্দান্ত এক ডেলিভারিতে বোল্ড করে দেন মইন আলিকে (৭)।
আফিফ হোসেন ক্রিজে গিয়েই অবশ্য টানা দুই বলে চার ও ছক্কা মারেন রুবেলকে।
পরে সিলেট আরেকটি বড় ধাক্কা খায় পরের ওভারে। আব্দুল গাফফার সাকলাইনের স্লোয়ারে স্লগ করে আউট হয়ে যান বিলিংস। ২৭ রানে উইলিয়ামসনের হাতে জীবন পেয়েও ইংলিশ ব্যাটসম্যান করতে পারেন ৩৭ রান (২৮ বলে)।
শুরুটা ভালো করলেও আফিফ পারেননি বড় কিছু করতে (১২ বলে ২১)। দলের প্রয়োজনের সময় বিপদ আরও বাড়িয়ে ১৩ বল খেলে মাত্র ৯ রান করতে পারেন অধিনায়ক মিরাজ।
এরপর সিলেটের যা কিছু আশা, সবটুকই ছিল ক্রিস ওকসকে ঘিরে। কিন্তু সমীকরণ ছিল তারও নাগালের বাইরে। আগের দিন শেষ বলে ছক্কায় দলকে জেতানো অলরাউন্ডার এ দিনও শেষ ওভারে ছক্কা মারেন। কিন্তু যথেষ্ট হয়নি তা।
শুক্রবারের ফাইনালে রাজশাহী লড়বে চট্টগ্রাম রয়্যালসের সঙ্গে। গ্রুপ পর্বে শীর্ষে ছিল এই দুটি দলই।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
রাজশাহী ওয়ারিয়র্স: ২০ ওভারে ১৬৫/৯ (সাহিবজাদা ২৬, তানজিদ ৩২, উইলিয়ামসন ৪৫*, শান্ত ৭, মুশফিক ০, মেহেরব ০, নিশাম ৪৪, সাকলাইন ১, তানজিম ৫, রুবেল ১; ওকস ৪-০-৩৮-১, খালেদ ৩-০-৪১-০, নাসুম ৪-০-২০-২, ইরশাদ ৪-০-২৩-৩, মইন ১-০-১৮-০, মিরাজ ৪-০-২৩-২)।
সিলেট টাইটান্স: ২০ ওভারে ১৫৩/৮ (পারভেজ ৪৮, জাকির ০, আরিফুল ০, বিলিংস ৩৭, মইন ৭, আফিফ ২১, মিরাজ ৯, ওকস ১৫*, খালেদ ৪, নাসুম ৬*; বিনুরা ৪-০-১৯-৪, তানজিম ৪-০-৩৩-১, রুবেল ৩-০-৩৩-১, সাকলাইন ৪-০-১৯-১, মেহরব ১-০-১৫-০, নিশাম ৪-০-৩২-০)
ফল: রাজশাহী ওয়ারিয়র্স ১২ রানে জয়ী।
ম্যান অব দা ম্যাচ: জিমি নিশাম।