Published : 06 Jul 2026, 01:15 PM
“আপনার প্রথম হ্যাটট্রিক এটি?” কৌতূহলী সঞ্চালকের জিজ্ঞাসা। ম্যাচ-সেরা পুরস্কার নিতে আসা দাসুন শানাকা চওড়া হাসিতে বললেন, “হ্যাঁ, অবশ্যই। জীবনের প্রথম হ্যাটট্রিক!” সঞ্চালকের আরেকটি জিজ্ঞাসা, “একজন শ্রীলঙ্কানও চার বলে চার উইকেট নিয়েছিলেন, মনে আছে?” শানাকার ঝটপট উত্তর, “অবশ্যই, ওয়ান অ্যান্ড ওনলি গ্রেট লাসিথ মালিঙ্গা, আমার অধিনায়ক….!”
শানাকার কীর্তিটা বোঝাই যাচ্ছে। বোলার হিসেবে তিনি মালিঙ্গার ধারেকাছে নন। তবে একটি জায়গায় দুজনের নাম এখন পাশাপাশিই। মেজর লিগ ক্রিকেটের রোমাঞ্চকর ম্যাচে টানা চার বলে উইকেট নিয়েছেন শানাকা। ক্রিকেটের পরিভাষায় এটিকে বলা হয় ‘ডাবল হ্যাটট্রিক।’
টেক্সাস সুপার কিংসের বিপক্ষে শেষ ওভারে শানাকার দারুণ ওই কীর্তিতেই ৯ রানে ম্যাচ জিতে নেয় সিয়াটল ওর্কাজ।
ক্যালিফোর্নিয়ার পোনোমায় জয়ের জন্য শেষ ওভারে টেক্সাসের প্রয়োজন ছিল ১৫ রান। শানাকার ওভারের প্রথম বলে পয়েন্টের ওপর দিয়ে চার মারেন শুভাম রাঞ্জানে। পরের বলে লো ফুল টসে লং অনে পাঠিয়ে নেন একটি রান।
টেক্সাসের তাতে খুশিই হওয়ার কথা। স্ট্রাইকে তখন ডোনোভান ফেরেইরার মতো আগ্রাসী ব্যাটসম্যান। খেলছিলেন তিনি ১৫ বলে ২২ রানে।
কিন্তু শানার স্লোয়ারে স্লগ করতে গিয়ে বোল্ড হয়ে যান ফেরেইরা। পরের বলটি ছিল স্লোয়ার ও লেংথ ডেলিভারি। নতুন ব্যাটসম্যান কেলভিন স্যাভেজ সোজা ক্যাচ তুলে দেন লং অনে শিমরন হেটমায়ারের হাতে।
২ বলে লাগে তখন ১০ রান। হ্যাটট্রিক ডেলিভারিতেও নতুন ব্যাটসম্যানকে শট খেলতেই হতো। অফ স্টাম্পের বাইরে আবার স্লোয়ার করেন শানাকা। গায়ের জোরে হাঁকানোর চেষ্টা করেন অ্যাডাম মিল্ন। তার ব্যাটের কানায় লেগে বল যায় কিপারের গ্লাভসে।
হ্যাটট্রিকের আনন্দে মেতে ওঠেন শানাকা।
তার উচ্ছ্বাসের বাকি ছিল আরও। ওভারের শেষ ডেলিভারিও শানাকা করেন স্লোয়ার। শেষ ব্যাটসম্যান আমশি ডি সিলভা স্লগ করতে গিয়ে বল তুলে দেন ওপরে। লং অন থেকে অনেকটা সামনে ছুটে ডাইভ দিয়ে দারুণ ক্যাচ নেন হেটমায়ার।
চার বলে চার উইকেট!
১২১ রানের পুঁজি নিয়েও ৯ রানে জিতে যায় সিয়াটল। আরেকপ্রান্ত থেকে সতীর্থদের আসা-যাওয়া দেখে রাঞ্জানে অপরাজিত থাকেন ৪০ রানে।
টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ডাবল হ্যাটট্রিক বা টানা চার বলে উইকেটের ষোড়শ নজির এটি। এর মধ্যে শ্রীলঙ্কান আছে আর কেবল মালিঙ্গা। ২০১৯ সালে নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে এই পারফরম্যান্স উপহার দিয়েছিলেন তিনি।
একমাত্র বোলার হিসেবে দুই দফায় টানা চার বলে উইকেট শিকার করেছেন কার্টিস ক্যাম্ফার। আইরিশ অলরাউন্ডার এর মধ্যে একটিতে টানা পাঁচ বলে নিয়েছেন উইকেট, যে কীর্তি নেই আর কারও।
টানা চার বলে উইকেট শিকারে বাংলাদেশের একমাত্র প্রতিনিধি আল আমিন হোসেন। ২০১৩ সালে বিজয় দিবস টি-টোয়েন্টি কাপে ইউসিবি-বিসিবি একাদশের হয়ে আবাহনী লিমিটেডের বিপক্ষে টানা চার বলে আউট করেছিলেন নাজমুল হোসেন মিলন, সোহরাওয়ার্দী শুভ, নাঈম ইসলাম জুনিয়র ও নাবিল সামাদকে।