০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩

বাংলাদেশের বিপক্ষে টানা ১২ হার রুখতে মরিয়া ছিল উইন্ডিজ

ছয় বছরে টানা ১১ ওয়ানডে হারার পর অবশেষে বাংলাদেশের বিপক্ষে জিততে পেরেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ, দলের পারফরম্যান্সে খুশি অধিনায়ক শেই হোপ।

বাংলাদেশের বিপক্ষে টানা ১২ হার রুখতে মরিয়া ছিল উইন্ডিজ
ওয়েস্ট ইন্ডিজের জয়ের দুই নায়ক শেই হোপ ও শেরফেইন রাদারফোর্ড। ছবি: ক্রিকেট উইন্ডিজ।

ক্রীড়া প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 09 Dec 2024, 02:46 PM

Updated : 26 Aug 2026, 11:05 AM

সিরিজ শুরুর আগেই শেই হোপ বলেছিলেন, র‌্যাঙ্কিংয়ে ওপরে থাকা দলকে হারিয়ে নিজেদের র‌্যাঙ্কিংয়ে উন্নতি করতে চান তারা। আরেকটি কারণেও জয়ের জন্য তারা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। একসময় গোটা ক্রিকেটে বিশ্বে ছড়ি ঘোরানো প্রবল প্রতাপশালী সেই ওয়েস্ট ইন্ডিজ আর নেই। তবে তাই বলে বাংলাদেশের বিপক্ষে টানা ১১ ওয়ানডেতে পরাজয়ও তো মেনে নেওয়ার মতো নয়! অবশেষে সেই ধারায় ছেদ টানতে পেরে দারুণ খুশি অধিনায়ক শেই হোপ।

এই হোপের ১৪৬ রানের অসাধারণ ইনিংসেই ২০১৮ সালে মিরপুরে বাংলাদেশকে হারিয়েছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। এরপর গত ছয় বছরে টানা ১১ ওয়ানডতে আর সেটির পুনরাবৃত্তি তারা করতে পারেননি। সেন্ট কিটসে রোববার ৫ উইকেটের দাপুটে জয়ে প্রায় ভুলে যাওয়া সেই স্বাদ পেয়েছেন হোপরা।

সিরিজের প্রথম লক্ষ্য পূরণ করতে পেরে খুশি হোপ। দলের সামগ্রিক পারফরম্যান্স সন্তুষ্ট করেছে অধিনায়ককে। 

“(সবচেয়ে ভালো লেগেছে) ছেলেরা যেভাবে মাঠে নেমেছে এবং ১১ ম্যাচের ওই ধারা যেভাবে বদলে দিতে চেয়েছে…। ব্যাপারটির নিয়ে আমরা কথা বলেছিলাম। ব্যাটে-বলে যে ধারাবাহিকতা আমরা দেখাতে পেরেছি, সেটিও দারুণ। ফিল্ডিংয়ে আমাদের আরও তীক্ষ্ন হতে হবে। তবে সব মিলিয়ে আমি খুশি।”

পাঁচে নেমে ৮০ বলে ১১৩ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলে ক্যারিবিয়ানদের জয়ের নায়ক শেরফেইন রাদারফোর্ড। গত বছর ওয়ানডে ক্রিকেটে পা রাখার পর থেকেই দারুণ ধারাবাহিক বাঁহাতি এই ব্যাটসম্যান। এই সংস্করণে ৮ ইনিংসে এখন তার ৫ ফিফটি, ১ সেঞ্চুরি। ব্যাটিং গড় ৭৩.৮৩, স্ট্রাইক রেট ১১১.৩০। 

একসময় যার পরিচয় ছিল শুধুই টি-টোয়েন্টি ব্যাটসম্যান, তিনি ওয়ানডেতেও অসাধারণ শুরু করেছেন। অনেক ঘাম ঝরিয়েই ২৬ বছর বয়সী ব্যাটসম্যান নিজেকে তৈরি করেছেন, বললেন তার অধিনায়ক। 

“নিজের ব্যাটিংয়ের অনেক উন্নতি করেছে সে। ব্যাট হাতে বলা যায়, সামনে থেকে আমাদের নেতৃত্ব দিচ্ছে সে। সবার কাছ থেকেই ধারাবাহিকতা চাই আমরা। প্রতিবার মাঠে গিয়েই সেটি দেখাচ্ছে সে। দারুণ সব শট খেলছে। অনেক পরিশ্রম করেছে নিজের খেলায় উন্নতি করতে। সব কিছুর ফল সে পাচ্ছে, এটা দেখে ভালো লাগছে।”

রাদারফোর্ডের আগেই শতরানের হাতছানি ছিল স্বয়ং হোপের সামনে। কিন্তু মেহেদী হাসান মিরাজের আলগা একটি বলে ছক্কার চেষ্টায় তিনি আউট হয়ে যান ৮৮ বলে ৮৬ রান করে। 

বাংলাদেশের বিপক্ষে এমনিতেই তার রেকর্ড দারুণ। ১৪ ইনিংসে তাদের বিপক্ষে এখন তার সেঞ্চুরি ৩টি, ফিফটি ৫টি। এই ইনিংসটি অনায়াসেই তিন অঙ্কে যেতে পারত। তবে ব্যক্তিগত অর্জন নিয়ে আক্ষেপ নেই হোপের, তার হতাশা অন্য জায়গায়। 

“আমি বেশি হতাশ দলকে ম্যাচ জিতিয়ে ফিরতে না পেরে। ষেরফেইন ক্রিজে যাওয়ার পরই আমি বলেছি, ম্যাচ শেষ করার অভ্যাস গড়তে হবে আমাদের। সেঞ্চুরি বা এসব কিছু এমনিতেই চলে আসবে, ম্যাচ জেতা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। শেরফেইন সেঞ্চুরি করেছে, ওর জন্য আমি খুশি। শীর্ষ চার ব্যাটারকে এভাবেই বড় স্কোর গড়তে হবে, নিজেদের মেলে ধরতে হবে।”

সিরিজে এগিয়ে গেলেও এখনই উচ্ছ্বাসে ভেসে যাওয়ার কিছু দেখছেন না হোপ। দলকে করণীয় মনে করিয়ে দিলেন ক্যারিবিয়ান অধিনায়ক। 

“রিল্যাক্সড হওয়ার সুযোগ নেই। দুদিনের মধ্যে আরেকটি ম্যাচ। ধারাবাহিক হতে হবে আমাদের। গত কয়েক মাস ধরে আমরা ভালো খেলছি। তবে এটা ধের রাখতে হবে। এই সিরিজে আরও দুবার তা করে দেখাতে হবে।”

সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচ মঙ্গলবার।