Published : 02 Sep 2025, 05:32 PM
আইসিসির ভবিষ্যৎ সফর সূচী অনুযায়ী, এশিয়া কাপের আগে ভারতের সঙ্গে সিরিজ খেলার কথা ছিল বাংলাদেশের। ক্রিকেটীয় দিক থেকে তো বটেই, আর্থিক দিক থেকেও সেটি হতে পারত বিপুল আয়ের একটি সিরিজ। সেখানে এখন সিরিজ চলছে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে, যেটির কারণে উল্টো আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে বিসিবির। তার পরও ক্রিকেটীয় দিক চিন্তা করেই সিরিজ আয়োজন করা হয়েছে, জানালেন বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল।
তিনটি করে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি খেলতে গত মাসে বাংলাদেশে আসার কথা ছিল ভারতীয় দলের। কিন্তু নানা বাস্তবতায় সেটি পিছিয়ে গেছে ১৩ মাস। এই সময়টায় তাই আর খেলা ছিল না বাংলাদেশ দলের। এশিয়া কাপের আগে ক্রিকেটারদের খেলার মধ্যে রাখতে তাই অনেকটা তাড়াহুড়ো করে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে সিরিজটি আয়োজন করে বিসিবি।
সিলেটে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথম দুটিতে বাংলাদেশের বিপক্ষে কোনো লড়াই করতেই পারেনি ডাচরা। তেমন কোনো চ্যালেঞ্জে পড়তে হয়নি লিটন কুমার দাসের দলকে। তাই প্রশ্নও উঠে যাচ্ছে, আদৌ প্রস্তুতি কতটা আদর্শ হচ্ছে তাদের।
সিলেট জেলা স্টেডিয়াম পরিদর্শনে গিয়ে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে সেই প্রশ্নেরই উত্তর দিলেন বিসিবি সভাপতি আমিনুল। ২০২৩ ওয়ানডে বিশ্বকাপে নেদারল্যান্ডসের সঙ্গে বাংলাদেশের পরাজয়ের কথা মনে করিয়ে দিলেন তিনি।
“৫০ ওভারের খেলা হয়েছিল ২০২৩ সালে কলকাতায়, আমরা কিন্তু হেরেছিলাম। শক্তির ব্যাপারের থেকেও বড় ব্যাপার হচ্ছে প্রস্তুতি। এখানে ভারতের আসার কথা ছিল, আসেনি। আর্থিকভাবে আমরা কিন্তু কিছুটা ক্ষতিতে আছি এই ইভেন্ট নিয়ে, তার পরও এই ইভেন্ট আমরা করছি এজন্য যে, শ্রীলঙ্কা-পাকিস্তানের সঙ্গে আমরা খেললাম, এরপর গ্যাপটা না রাখার জন্য আমরা নেদারল্যান্ডসকে পেয়েছি, তাদেরকেই এনেছি।”
“আমরা ভালো ক্রিকেট খেলছি এই মুহূর্তে। সামনে এশিয়া কাপ ও ২০২৬ সালে যে বিশ্বকাপ হবে, সেই প্রক্রিয়ায় থাকার পথে একটি আন্তর্জাতিক সিরিজ খেললাম এটি।”
ডাচদের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম দুই ম্যাচেই টস জিতে আগে বোলিং নিয়েছে বাংলাদেশ। ডাচরা বড় স্কোর গড়তে না পারায় ব্যাটসম্যানদের তেমন পরীক্ষায় পড়তে হয়নি। সেখানে বাংলাদেশ আগে ব্যাট করে বড় স্কোরের চ্যালেঞ্জটা নিতে পারত কি না, এই প্রশ্ন ছুটে গেল বিসিবি সভাপতির দিকে।
তবে তিনি সেই প্রশ্নকে আলিঙ্গন করলেন না।
“ (আগে) বোলিং-ফিল্ডিং, এটা সম্পূর্ণ নির্ভর করে দলীয় পরিকল্পনার ওপরে। এটা আন্তর্জাতিক খেলা, কেউ পরীক্ষা করতে চায় না। দলীয় পরিকল্পনা আমরা জানি না। তবে বাইরে থেকে যেটা মনে হয় আর কী। আমাদের কোনো নির্দেশনা সেখানে থাকে না। আমরা চাই দল ভালো খেলুক। তাদের সর্বস্ব দিক এবং এবং ক্রমবর্ধমানভাবে উন্নতি করুক।”
দলকে নিদের্শনা না দিলেও যোগাযোগটা নিবিড়ভাবেই রাখছেন বিসিবি সভাপতি। মঙ্গলবার সকালে সিলেটে টিম হোটেলে ক্রিকেটারদের সঙ্গে কথা বলেছেন তিনি লম্বা সময় নিয়ে। সেই আলোচনা থেকে আশার রসদ খুঁজে পাচ্ছেন আইসিসির ডেভেলপমেন্ট ম্যানেজার হিসেবে দীর্ঘদিন কাজ করা সাবেক এই ক্রিকেটার।
“আজকে সকালেও প্রায় দুই ঘণ্টা বিভিন্ন ক্রিকেটারের সঙ্গে আমরা কথা বলেছি। তাদের মধ্যে অন্যরকম আত্মবিশ্বাস দেখেছি আমি। তাদের চিন্তার করার যে ক্ষমতা আছে… যেহেতু আমি নিজেও একজন ক্রিকেট কোচ, চেষ্টা করেছি চিন্তা করার ক্ষেত্রে তাদেরকে ‘আনলকড’ করার।”
“কিছু ‘লক’ ছিল তাদের পরিকল্পনায়, ‘আনলক’ করার চেষ্টা করেছি। তাদের সম্ভাবনা যে কত, একটু বোঝার সহায়তা করেছি। এই দলটা তরুণ দল, তবে তাদেরকে দেখে মনে হচ্ছে যে, ভালো করছে। অনেক উন্নতি করার জায়গা আছে। আপনাদের দোয়া লাগবে।”