Published : 02 Jun 2026, 09:13 PM
লিগে আগের দুই ম্যাচে বড় ইনিংস খেলতে না পারা তানজিদ হাসান এবার নিজেকে মেলে ধরলেন। ঝড়ো ব্যাটিংয়ে উপহার দিলেন সেঞ্চুরি। তিন অঙ্কের উষ্ণ ছোঁয়া পেলেন তার সতীর্থ শাহাদাত হোসেনও। আসরের প্রথম দেড়শ রানের ইনিংস খেললেন আবদুল্লাহ আল মামুন।
ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের অষ্টম রাউন্ডে মঙ্গলবার ম্যাচ হয়েছে পাঁচটি। যার মধ্যে দুটি ম্যাচে এসেছে দুটি করে সেঞ্চুরি। সব মিলিয়ে, এ দিন দেশের ক্রিকেটের এই প্রতিযোগিতায় শতকের দেখা মেলে মোট ছয়টি।
আগের দিনের বৃষ্টিতে মাঠ ভেজা থাকায় মুখোমুখি লড়াইয়ে নামতে পারেনি বসুন্ধরা স্ট্রাইকার্স ও রূপগঞ্জ টাইগার্স।
ব্যাটসম্যানদের দাপটের দিনে গাজী গ্রুপের রহস্য স্পিনার মোহাম্মদ রুবেল এবং ঢাকা লিওপার্ডসের মঈন খান পেয়েছেন পাঁচ উইকেটের স্বাদ।
ব্রাদার্স ইউনিয়নের বিপক্ষে আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে ১১৯ রান করেন প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাবের তানজিদ। তার ৯৩ বলের ইনিংসটি গড়া পাঁচটি ছক্কা ও ১৩টি চারে। লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে এনিয়ে ষষ্ঠবার তিন অঙ্কের স্বাদ পেলেন জাতীয় দলের এই ওপেনার।
আসরে দ্বিতীয় সেঞ্চুরিতে চারটি ছক্কা ও ১০টি চারে ১০৫ রান করেন শাহাদাত। তানজিদের সঙ্গে তার ২১০ রানের শুরুর জুটিতে বড় সংগ্রহের ভিত পায় প্রাইম ব্যাংক। পরে শামীম হোসেনের ৩১ বলে ছয়টি ছক্কায় ৫১ রানের বিস্ফোরক ইনিংসে ৫ উইকেটে ৩৬৯ রান তোলে দলটি।
বিশাল লক্ষ্য তাড়ায় ৬৭ রান তুলতেই ৪ উইকেট হারায় ব্রাদার্স। বৃষ্টিতে খেলা বন্ধ হওয়ার আগে ২১ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে ৮৬ রান তোলে দলটি। পরে বৃষ্টি না থামায় ডাকওয়ার্থ-লুইস ও স্টার্ন পদ্ধতিতে ১৫৫ রানের বড় জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে প্রাইম ব্যাংক।
প্রাইম ব্যাংকের হয়ে স্রেফ ১৫ রান দিয়ে তিন উইকেট নেন রহস্য স্পিনার আলিস আল ইসলাম।
অগ্রণী ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাবের বিপক্ষে ১২টি করে ছক্কা-চারে ক্যারিয়ার সেরা ১৫১ রানের ইনিংস খেলে মামুন। সঙ্গে মিজানুর রহমানের ৫৮ রানের সৌজন্যে ৩২৬ রান তোলে সিটি ক্লাব।
পরে মাহফিজুল ইসলামের চমৎকার সেঞ্চুরি ও সাদমান ইসলামের পঞ্চাশ ছোঁয়া ইনিংসে ২ বল বাকি থাকতে জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় অগ্রণী ব্যাংক।
আসরে দ্বিতীয় সেঞ্চুরিতে ১৪৭ রান করেন ওপেনার মাহফিজুল। তার ১৪১ বলের ক্যারিয়ার সেরা ইনিংসটি গড়া পাঁচটি ছক্কা ও ১২টি চারে। আরেক ওপেনার সাদমান করেন ৭৮ রান।
বিকেএসপির তিন নম্বর মাঠে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ওভারেই সাদিকুর রহমানকে হারায় সিটি ক্লাব। দ্বিতীয় উইকেটে মামুন ও মিজানুরের ১৫৩ রানের জুটিতে সেই ধাক্কা কাটায় তারা। পরে তিনশ ছাড়ানো পুঁজি গড়ে দলটি।
জবাবে মাহফিজুল ও সাদমানের ১৪৮ রানের উদ্বোধনী জুটিতে শক্ত ভিত পেয়ে যায় অগ্রণী ব্যাংক। সাদমানের পর ইমরুল কায়েস (৩৩) ও নাসির হোসেনের (২৫) সঙ্গে কার্যকর জুটি গড়েন মাহফিজুল। দলকে জয় থেকে ১৮ রান দূরে রেখে ড্রেসিং রুমে ফেরেন তিনি।
লেজেন্ডস অব রূপগঞ্জের বিপক্ষে চারটি ছক্কা ও ছয়টি চারে ১০৬ বলে ১০১ রানের ইনিংস খেলেন তাওহিদ হৃদয়। সঙ্গে এনামুল হকের পাঁচটি করে ছক্কা-চারে ৭১ এবং আফিফ হোসেনের তিনটি করে ছক্কা-চারে ৭০ রানের ইনিংসে ৫ উইকেটে ৩৩৯ রান করে মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব।
লক্ষ্য তাড়ায় রূপগঞ্জ নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারায়। দলটির হয়ে একমাত্র ফিফটি করেন হাবিবুর রহমান সোহান। ১৫ বলে ফিফটি স্পর্শ করেন তিনি। পাঁচটি ছক্কা ও ছয়টি চারে ২৭ বলে ৫৯ রান করে বিদায় নেন এই আগ্রাসী ওপেনার।
সোহানের ওই ব্যাটিং ঝড়ের পর ৭৪ রানের ব্যবধানে ৬ উইকেট হারিয়ে ফেলে দলটি। অষ্টম উইকেটে মেহেদি হাসান ও নাসুম আহমেদ ৬৯ রানের জুটি গড়েন। যা কেবল হারের ব্যবধানই কমাতে পারে লেজেন্ডস অব রূপগঞ্জের। শেষ পর্যন্ত তাদেরকে ২৩২ রানে গুটিয়ে ১০৭ রানের জয় তুলে নেয় মোহামেডান।
মোহামেডানের হয়ে নিজের প্রথম ওভারে ২৬ রান হজম করা নাহিদ রানা ৭১ রান খরচায় নেন ৪ উইকেট।
বিকেএসপির চার নম্বর মাঠে গুলশান ক্রিকেট ক্লাবের বিপক্ষে মাহিদুল ইসলাম অঙ্কনের সেঞ্চুরিতে বড় সংগ্রহ পায় আবাহনী। পাঁচে নেমে ছয়টি ছক্কা ও আটটি চারে ১০২ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন অঙ্কন। সঙ্গে সাব্বির হোসেনের ৪৫ ও মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতের ৪৩ রানের ইনিংসে ৫ উইকেটে ৩১৫ রান করে আবাহনী।
ঢাকা লিগে ফিরেই সেঞ্চুরি করা নাজমুল হোসেন শান্ত এদিন ফেরেন দুটি ছক্কা ও তিনটি চারে ৬৩ বলে ৩৭ রান করে। এছাড়া মেহরব হাসান করেন ৪১ রান।
পরে বোলারদের সম্মিলিত চেষ্টায় গুলশানকে ১৪২ রানে গুটিয়ে ১৭৩ রানে বড় জয় তুলে নেয় আবাহনী।
গুলশানের হয়ে এদিন ৩০ রানের বেশি করতে পারেননি কেউ। আর আবাহনীর হয়ে সর্বোচ্চ তিনটি করে উইকেট নেন নাইমুর রহমান। দুটি করে শিকার ধরেন রকিবুল হাসান ও মেহরব।
প্রথমবার কোনো লিস্ট ‘এ’ টুর্নামেন্ট খেলছেন রুবেল। এনসিএল টি-টোয়েন্টি ও বিপিএলের মতো ঢাকা লিগেও চমক দেখানোর অপেক্ষায় ছিলেন। গাজী গ্রুপের হয়ে তার বোলিং চমকে ৮৫ রানে প্রথম উইকেট হারানো ঢাকা লিওপার্ডস অলআউট হয় ১৫৩ রানে।
স্রেফ ২৩ রান খরচায় ৬ উইকেট নেন রুবেল। লিস্ট ‘এ’ ক্যারিয়ারে সপ্তম ম্যাচ খেলতে নেমে পাঁচ উইকেটে স্বাদ পেলেন তিনি। দুটি প্রাপ্তি আজিজুল হাকিমের।
মইন খানের চমৎকার বোলিংয়ে অল্প পুঁজি নিয়েও লড়াই করে লিওপার্ডস। ৩৪ রান খরচায় পাঁচ শিকার ধরেন মইন। লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে এই প্রথম পাঁচ উইকেটের স্বাদ পেলেন অফ স্পিনিং অলরাউন্ডার।
শেষ রক্ষা অবশ্য হয়নি লিওপার্ডসের। মইনের ছোবল সামলে ১ উইকেটের শ্বাসরূদ্ধকর জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে গাজী গ্রুপ।