Published : 22 Dec 2025, 10:25 AM
জয়ের জন্য উইকেট বাকি তখন মোটে একটি। দারুণ বোলিং করছিলেন স্পিনাররা। উইকেটে বল টার্ন ও গ্রিপও করছিল। তবু ৮০ ওভার শেষ হতেই নতুন বল নিলেন নিউ জিল্যান্ড অধিনায়ক টম ল্যাথাম। বল তুলে দিলেন তিনি জেকব ডাফির হাতে। তার সামনে তখন যে ৫ উইকেটের হাতছানি! নতুন স্পেলে বোলিংয়ে এসে সেই লক্ষ্য পূরণ করতে স্রেফ তিনটি বল লাগল তার।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের শেষ ব্যাটসম্যানকে ফিরিয়ে ম্যাচ শেষ করার পাশাপাশি নিজের ৫ উইকেটও পূর্ণ করলেন ডাফি। রেকর্ড গড়ার দিনটি স্মরণীয় করে রাখলেন তিনি আরেকটি মাইলফলকে। মাউন্ট মঙ্গানুই টেস্টে ৩২৩ রানের জয়ে সিরিজ জয়ও নিশ্চিত করল নিউ জিল্যান্ড।
রানের হিসেবে ক্যারিবিয়ানদের বিপক্ষে কিউইদের সবচেয়ে বড় জয় এটিই। আগেরটি ছিল ২০১৭ সালে হ্যামিল্টনে ২৪০ রানে।
সিরিজের প্রথম টেস্টে শেষ ইনিংসে বীরোচিত পারফরম্যান্সে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ম্যাচ ড্র করলেও পরের দুই টেস্টেই তাদের ব্যাটিং ভেঙে পড়ল শেষ ইনিংসেই। আগের ম্যাচে দ্বিতীয় ইনিংসে ১২৮ রানে গুটিয়ে যাওয়ার পর এবার তাদের দ্বিতীয় ইনিংস শেষ ১৩৮ রানেই। নিউ জিল্যান্ড সিরিজ জিতে নিল ২-০ ব্যবধানে।
৪২ রানে ৫ উইকেট নিয়ে শেষ করলেন ডাফি। সিরিজের তিন টেস্টে তার উইকেট ২৩টি। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে এক সিরিজে যা নিউ জিল্যান্ডের রেকর্ড। ২০ উইকেটের আগের রেকর্ড ছিল ২০১৩ সালে ট্রেন্ট বোল্টের।
আরও বড় একটি অজর্ন তার ধরা দিয়েছে এ দিন আগেই। ছাড়িয়ে গেছেন তিনি কিংবদন্তি স্যার রিচার্ড হ্যাডলিকে!
তিন সংস্করণ মিলিয়ে এ বছর ৮১ উইকেট নিলেন ডাফি। এক পঞ্জিকাবর্ষে যা নিউ জিল্যান্ডের রেকর্ড। আগের রেকর্ডটি ছিল হ্যাডলির। ১৯৮৫ সালে ২৩ ম্যাচে ৭৯ উইকেট নিয়েছিলেন তিনি। তাকে ছাড়িয়ে যেতে ডাফির লাগল ৩৬ ম্যাচ।

বে ওভালে ওয়েস্ট ইন্ডিজ দিনটি শুরু করেছিল ম্যাচ ড্র করার আশায়। আগের দিন অবিচ্ছিন্ন থাকা উদ্বোধনী জুটি নতুন দিনের শুরুটাও খারাপ করেনি। আগের মতোই একপ্রান্ত আগলে রাখেন জম ক্যাম্পবেল, আরেক প্রান্তে শট খেলেন ব্র্যান্ডন কিং।
দিনের প্রথম ১৬ ওভার নিরাপদে কাটিয়ে দেন দুজন। ১০ চারে ৬৩ বলে ফিফটি করে ফেলেন কিং।
তার বিদায়েই ভাঙে ৮৭ রানের উদ্বোধনী জুটি। ডাফির শর্ট বলে উইকেট হারান তিনি ৬৩ রানে। পরের ওভারেই এজাজ প্যাটেল ফিরিয়ে দেন ১০৫ বলে ১৬ রান করা ক্যাম্পবেলকে।
এরপর যেন তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে ক্যারিবিয়ান ইনিংস। পরের ৫ ব্যাটসম্যানের কেউই ৫ রানের বেশি করতে পারেননি।
অধিনায়ক রস্টন চেইস ফেরেন ৫ রানে। নেতৃত্বের ১৬ ইনিংসে তার ফিফটি নেই, ব্যাটিং গড় স্রেফ ১৩.৮১।
এরপর টেভিন ইমলাখ (৯০ বলে ১৫*) ঘণ্টা দুয়েক লড়াই করে পড়ে থাকেন এক প্রান্তে। দশে নেমে অ্যান্ডারসন ফিলিপ ৫০ মিনিট খেলে করেন ১০ রান। ম্যাচ তাতে শেষ সেশনে গড়ায়। কিন্তু ক্যারিবিয়ানদের রক্ষা হয়নি।
রেকর্ডময় টেস্টে ডাবল সেঞ্চুরি ও সেঞ্চুরি করে ম্যান অব দা ম্যাচ ডেভন কনওয়ে। রেকর্ড গড়া পারফরম্যান্সে সিরিজের সেরা ডাফি।
এই সিরিজ দিয়েই আইসিসি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের বর্তমান চক্রে যাত্রা শুরু হলো নিউ জিল্যান্ডের। তিন ম্যাচে দুটি জয় তাদের। আট ম্যাচ খেলে সাতটি হার ও একটি ড্র নিয়ে পয়েন্ট তালিকার তলানিতে ক্যারিবিয়ানরা।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
নিউ জিল্যান্ড ১ম ইনিংস: ৫৭৫/৮ (ডি.)
ওয়েস্ট ইন্ডিজ ১ম ইনিংস: ৪২০ ।
নিউ জিল্যান্ড ২য় ইনিংস: ৩০২/৬ (ডি.)
ওয়েস্ট ইন্ডিজ ২য় ইনিংস: (লক্ষ্য ৪৬২, আগের দিন ৪৩/০) ৮০.৩ ওভারে ১৩৮ (ক্যাম্পবেল ১৬, কিং ৬৭, হজ ০, হোপ ৩, আথানেজ ২, গ্রেভস ০, চেইস ৫, ইমলাখ ১৫*, রোচ ৪, ফিলিপ ১০, সিলস ০; ডাফি ২২.৩-১০-৪২-৫, ফোকস ৫-০-২০-০, এজাজ ৩২-২১-২৩-৩, রাই ১৪-৬-২৬-০, ফিলিপস ৫-২-১৪-১, রাভিন্দ্রা ২-২-০-১)।
ফল: নিউ জিল্যান্ড ৩২৩ রানে জয়ী।
সিরিজ: তিন ম্যাচ সিরিজে নিউ জিল্যান্ড ২-০ ব্যবধানে জয়ী।
ম্যান অব দা ম্যাচ: ডেভন কনওয়ে।
ম্যান অব দা সিরিজ: জেকব ডাফি।