Published : 13 Jul 2024, 01:59 PM
কখনও কখনও লোকে বিস্ময়ে কথা হারিয়ে ফেলে, কখনও মুগ্ধতায়। জেমস অ্যান্ডারসনকে নিয়ে এই অবস্থা বেন স্টোকসের। বিদায়ী পেসারকে স্তুতির জোয়ারে ভাসিয়েছেন ইংল্যান্ড অধিনায়ক। তারপরও মনে হচ্ছে, কোনো প্রশংসাই আসলে যথেষ্ট নয় অ্যান্ডারসনের মতো একজনকে নিয়ে।
১৮৮ টেস্টে ৭০৪ উইকেট নিয়ে থেমেছে অ্যান্ডারসনের ক্যারিয়ার। একজন পেস বোলারের জন্য এই সংখ্যাগুলি একসময় ছিল অকল্পনীয়। ভবিষ্যতেও নিশ্চিতভাবেই সবার জন্য এটি অভাবনীয় হয়েই থাকবে। কিন্তু সেই অতীত ও বর্তমানের মাঝে অবিশ্বাস্য ‘বাস্তব’ হয়েই ছিলেন অ্যান্ডারসন।
২১ বছর তিনি পথ চলেছেন টেস্ট ক্রিকেটের আঙিনায়। পেস বোলার হিসেবে যা রেকর্ড। ৪০ হাজার ৩৭টি বৈধ ডেলিভারি করেছেন। ৩৪ হাজার ডেলিভারিও করতে পারেননি টেস্ট ইতিহাসের আর কোনো পেসার। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তিনি বৈধ ডেলিভারি করেছেন মোট ৫০ হাজার ৪৩টি। পেসারদের মধ্যে দুইয়ে থাকা গ্লেন ম্যাকগ্রা করেছেন ৪২ হাজার ২৬৬ ডেলিভারি।
ইংল্যান্ডের রেকর্ড ৮৩টি টেস্ট জয়ের স্বাক্ষী এই অ্যান্ডারসনই। আরও কত কত রেকর্ড আর অর্জন আছে, বলেও শেষ করা যাবে না।
বলে শেষ করতে পারছেন না যেমন স্টোকসও। বিদায়ী গ্রেটের অনেক প্রশংসা করেও মন ভরছে না ইংলিশ অধিনায়কের।
“কত কত মানুষের জন্য যে জিমি অবিশ্বাস্য প্রেরণার উৎস! অনেক তরুণ ক্রিকেটার ওকে দেখে অনুপ্রেরণা পেয়েছে ও পায়, ওর মতো হতে চায়, যদিও কাজটা ভীষণ কঠিন। যে পরিমাণ ম্যাচ সে খেলেছে, যতগুলি উইকেট নিয়েছে, একদম অকল্পনীয় তা।”
“কখনও কখনও ভাষা হারিয়ে ফেলতে হয় এবং আমাকে যদি ১৫ মিনিট সময়ও দেন, তারপরও ওর প্রশংসা পর্যাপ্ত হবে না।”
স্টোকসের টেস্ট ক্যারিয়ার যখন শুরু, অ্যান্ডারসনের ক্যারিয়ারের তখন ১০ বছর পেরিয়ে গেছে। এক সময় সমর্থক হিসেবে, পরে উঠতি ক্রিকেটার হিসেবে, আরও পরে সতীর্থ হিসেবে এবং একটা সময় অধিনায়ক হিসেবে তিনি দেখেছেন এই পথচলা। স্টোকসের মতে, নিজেকে ছাড়িয়ে যাওয়ার নিয়ত চেষ্টাই সাফল্যের দিকে ধাবিত করেছে অ্যান্ডারসনকে।
“৪১ বছর বয়সেও বোলার হিসেবে প্রতিনিয়ত উন্নতির চেষ্টা করে গেছে। ওর ক্যারিয়ার যেভাবে এগিয়েছে, ও ক্রমে শুধু ভালো থেকে আরও ভালো হয়ে উঠেছে এবং এতেই ফুটে ওঠে, উন্নতির তাড়না কতটা ছিল ওর। সবসময়ই দলে অবদান রাখতে চেয়েছে এবং প্রতিবার মাঠে পা রেখে তা করে দেখিয়েছে। অনুপ্রেরণার জন্য সে দারুণ একজন।”
অবসর নিলেও ইংল্যান্ড দলের সঙ্গে সম্পর্ক এখনই শেষ হচ্ছে না অ্যান্ডারসনের। আগেই জানানো হয়েছিল, এই মৌসুমে দলের ‘ফাস্ট বোলিং মেন্টর’ হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন তিনি। তরুণ পেসারদের জন্য এটিকে শেখার বড় সুযোগ মনে করছেন স্টোকস।
“আমাদের সৌভাগ্য যে আমরা জিমিকে ড্রেসিং রুমে রাখতে পারছি। তরুণ পেসারদের নিয়ে যে আলোচনা চলছে, গাস (অ্যাটকিনসন) এসেছে দলে, ডিলন (পেনিংটন), (ম্যাথু) পটস উঠে আসছে…ও আরও যারা আছে, ওরা জিমির মতো একজনকে এই পুরো গ্রীষ্মে কাছে পাবে, কথা বলতে পারবে, ওর ক্যারিয়ারের বিশাল অভিজ্ঞতার ভাণ্ডার থেকে কিছু নিতে পারবে, ওদের জন্য এটা দারুণ।”
ক্যারিয়ারের শেষ টেস্টেও তার বোলিং ছিল যথেষ্ট ধারাল। শেষ ইনিংসেও দারুণ বোলিংয়ের প্রদর্শনীতে তিন উইকেট শিকার করেছেন তিনি। কিংবদন্তিকে মাথা উঁচু করে বিদায় নিতে দেখে দারুণ খুশি স্টুয়ার্ট ব্রড। নতুন বলের জুটিতে অ্যান্ডারসনের দীর্ঘদিনের সঙ্গী ধারাভাষ্যকক্ষে ছিলেন এই টেস্টে। সাবেক এই পেসারের মতে, এমন বিদায়ই প্রাপ্য ছিল তার বন্ধুর।
“এই সপ্তাহে ওকে দেখে মনে হয়েছে, এখনও সবসময়ের মতোই ভালো ও এবং এই অনুভূতি নিয়ে শেষ করতে পারাটা দারুণ ব্যাপার। ১৮৮ টেস্ট ধরে যা করে এসেছে, শেষ ম্যাচেও তা করতে পারা এবং জয় নিয়ে মাঠ ছাড়তে পারা বিশেষ কিছু।”