Published : 15 Apr 2026, 08:59 PM
রক্তাক্ত মুখের ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দিয়ে, আঘাত পাওয়ার কথা নিজেই বলেছিলেন বেন স্টোকস। অস্ত্রোপচার করিয়ে এখন সেরে ওঠার পথে আছেন তিনি। দুর্ঘটনার দুই মাস পর এসে সেই ভয়াবহ সেই সময় নিয়ে মুখ খুলেছেন ইংলিশ টেস্ট অধিনায়ক।
গত ফেব্রুয়ারির শুরুতে ডারহামের একাডেমির ক্রিকেটারদের সঙ্গে নেটে অনুশীলনের সময় বল এসে স্টোকসের মুখে আঘাত করে। তার ডান গাল কেটে যায়, চোখের নিচে ফুলে কালচে হয়ে যায়। নাক দিয়েও রক্ত ঝরে।
ওই দুর্ঘটনায় ‘চিকবোন’ ভেঙে গেলে সপ্তাহখানেক পরই শল্যবিদের ছুরিকাঁচির নিচে যেতে হয় ৩৪ বছর বয়সী স্টোকসকে। এখন অনেকটা সুস্থ তিনি। আবারও মাঠে ফেরার পরিকল্পনা করছেন ইংলিশ তারকা অলরাউন্ডার।
আগে রেকর্ড করা একটি ভিডিও বুধবার প্রকাশ করে ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড (ইসিবি)। সেখানে অ্যাশেজ ব্যর্থতাসহ অনেক কিছু নিয়ে কথা বলেন স্টোকস। নিজের সঙ্গে ঘটে যাওয়া দুই মাস আগের সেই দুর্ঘটনা নিয়েও নিজের ভাবনা তুলে ধরেন তিনি।
স্টোকসের মতে, আরও বাজে কিছু হতে পারত তার। ভাগ্যবান ছিলেন বলেই এখনও এই অবস্থায় আছেন তিনি।
“বলটা সরাসরি আমার মুখে আঘাত করে। খুবই মারাত্মক ছিল, তবে মজার ব্যাপার হলো, খারাপ পরিস্থিতির মধ্যে এটাই হয়তো ভালো ফল ছিল।”
“যদি মাথা না ঘোরাতাম, কয়েক ইঞ্চি এদিক-সেদিক হলেই সম্ভবত এই সাক্ষাৎকার দিতে পারতাম না। যদিও এটা ঠিক করতে মুখে বড় ধরণের অস্ত্রোপচার করাতে হয়েছে, সব কিছু বিবেচনা করলে, আমি ভাগ্যবান ছিলাম, এর জন্য কৃতজ্ঞ। ভীতিকর পরিস্থিতি ছিল, তবে ভাগ্যক্রমে আমি এখনও এখানে আছি এবং সবকিছু ঠিক আছে।”
চলমান কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপের শুরু থেকে খেলার পরিকল্পনা ছিল স্টোকসের। কিন্তু মুখের ওই চোটে মাঠের বাইরে থাকতে হয়েছে তাকে দীর্ঘদিন। জুনে নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজের আগে তিনটি প্রথম শ্রেণির ম্যাচ খেলার পরিকল্পনা করছেন তিনি।
ডারহামের হয়ে আগামী মে মাসে দুটি প্রথম শ্রেণির ম্যাচ খেলার কথা ভাবছেন স্টোকস। আগামী ৮ মে উস্টারশায়ারের বিপক্ষে ও ১৫ মে কেন্টের বিপক্ষে শুরু হতে যাওয়া ম্যাচ দুটি খেলতে চান তিনি।
আগামী ২২ মে দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’ দলের বিপক্ষে ইংল্যান্ড লায়ন্সের প্রথম শ্রেণির ম্যাচ শুরু হবে। এই লড়াইয়েও মাঠে থাকার পরিকল্পনা করছেন স্টোকস।
মুখে আঘাতের কারণে স্টোকসের মাঠে ফেরা ‘প্রায় এক মাস থেকে পাঁচ সপ্তাহ’ পিছিয়ে গেছে। লায়ন্সের হয়ে ম্যাচটিতে তার খেলা নির্ভর করবে, তখন তিনি কেমন অনুভব করছেন এবং ডারহামের হয়ে তার ওয়ার্কলোডের ওপর।
“যদি কাঙ্ক্ষিত ওয়ার্কলোড সামলাতে পারি এবং মাঠে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি, তবে আশা করছি গ্রীষ্মের সিরিজের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত থাকব।”
লর্ডসে আগামী ৪ জুন শুরু হবে ইংল্যান্ড-নিউ জিল্যান্ডের টেস্ট সিরিজ।