Published : 20 Jun 2026, 12:07 AM
ওভাল টেস্টে আরেকটি দাপুটে দিন কাটল নিউ জিল্যান্ডের। পাঁচ উইকেট নিয়ে প্রথম ইনিংসে দলকে মূল্যবান লিড এনে দিলেন ম্যাট হেনরি। পরে ব্যাট হাতে ২২ গজে ছড়ি ঘোরালেন আরেক হেনরি, নিকোলস। তার দারুণ সেঞ্চুরিতে সাড়ে তিনশ ছাড়িয়ে গেল কিউইদের লিড।
তৃতীয় দিন শেষে দ্বিতীয় ইনিংসে নিউ জিল্যান্ডের সংগ্রহ ৩ উইকেটে ২৫২ রান। প্রথম ইনিংসের ১০০ রানের লিড মিলিয়ে ৩৫২ রানে এগিয়ে আছে সফরকারীরা।
লর্ডস টেস্টের পর কেন উইলিয়ামসন আচমকা অবসর না নিলে, ওভালে হয়তো খেলাই হতো না হেনরি নিকোলসের। সুযোগটা দারুণভাবে কাজে লাগালেন তিনি। একাদশ টেস্ট সেঞ্চুরিতে ১৬৪ বলে ১১৯ রানে অপরাজিত আছেন ৩৪ বছর বয়সী ব্যাটসম্যান।
নিজের আগের টেস্টেও সেঞ্চুরি করেছিলেন তিনি, গত বছরের অগাস্টে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে খেলেছিলেন অপরাজিত ১৫০ রানের ইনিংস।
এ দিন তৃতীয় উইকেটে নিকোলসের সঙ্গে ১৬১ রানের জুটির পথে ৭৬ রান করেন রাচিন রাভিন্দ্রা।
৬ উইকেটে ২২২ রান নিয়ে শুক্রবারের খেলা শুরু করে ইংল্যান্ড। প্রথম ঘন্টা না যেতেই তাদের স্কোর হয়ে যায় ৯ উইকেটে ২৩৮। টানা তিন ওভারে অভিষিক্ত জর্ডান কক্স (৫৫ বলে ২৭), জফ্রা আর্চার ও জশ টাংকে ফিরিয়ে পাঁচ উইকেট পূর্ণ করেন হেনরি।
৩৫ টেস্টের ক্যারিয়ারে সপ্তমবার এই স্বাদ পেলেন ৩৪ বছর বয়সী পেসার।
ইংল্যান্ড তখন আড়াইশর নিচে গুটিয়ে যাওয়ার শঙ্কায়। তবে পেসার ম্যাথু ফিশারের দারুণ ফিফটিতে ২৯১ পর্যন্ত যেতে পারে স্বাগতিকরা।
চার বছর আগে নিজের আগের একমাত্র টেস্টে এক ইনিংসে ব্যাটিং পেয়ে শূন্য রানে অপরাজিত ছিলেন ফিশার। এবার ৭৭ বলে ৫০ রান করে অপরাজিত থাকেন তিনি।
দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নেমে নিউ জিল্যান্ডের শুরুটা ভালো ছিল না। তৃতীয় ওভারে বিদায় নেন টম ল্যাথাম, নবম ওভারে ডেভন কনওয়ে। ২৮ রানে দুই ওপেনারকে হারিয়ে ফেলে তারা।
রাভিন্দ্রাও আউট হতে পারতেন দ্রুতই, কিন্তু বাঁ দিকে ঝাঁপিয়ে ক্যাচ ফেলে দেন অভিষিক্ত কিপার জেমস রু।
তখন ৭ রানে ছিলেন রাভিন্দ্রা। জীবন পেয়ে সুযোগ কাজে লাগান তিনি। নিকোলসের সঙ্গে জমে ওঠে তার জুটি। আর্চারকে পুল করার চেষ্টায় নিকোলসও একটি সুযোগ দিয়েছিলেন ৪২ রানে, কিন্তু এবারও ক্যাচ নিতে ব্যর্থ হন রু।

পরের ওভারেই বাউন্ডারি মেরে নিকোলস পঞ্চাশ পূর্ণ করেন ৭২ বলে। ফিফটি করতে রাভিন্দ্রার লাগে ৭৯ বল।
ইংল্যান্ডের মাথাব্যাথার কারণ হয়ে ওঠা জুটি ভাঙেন প্রথম ইনিংসের সফলতম বোলার, পার্টটাইমার জ্যাকব বেথেল। বাঁহাতি স্পিনারকে সুইপ করার চেষ্টায় এলবিডব্লিউ হন রাভিন্দ্রা।
ড্যারিল মিচেলের সঙ্গে জুটি বেঁধে, ৯৮ থেকে চার মেরে নিকোলস সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন ১৩৬ বলে। তার সঙ্গে অবিচ্ছিন্ন ৬৩ রানের জুটিতে দিন শেষ করেন মিচেল (৪৩ বলে ৩২*)।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
নিউ জিল্যান্ড ১ম ইনিংস: ৩৯১
ইংল্যান্ড ১ম ইনিংস: ৮৪ ওভারে ২৯১ (আগের দিন ২২২/৬) (কক্স ২৭, আর্চার ৮, ফিশার ৫০*, টাং ১, বেকার ৪; হেনরি ২৪-৩-৮০-৫, জেমিসন ২০-৬-৭৮-১, ও’রোক ২০-২-৬৮-২, স্মিথ ১৮-৫-৫৭-১, রাভিন্দ্রা ২-০-২-০)
নিউ জিল্যান্ড ২য় ইনিংস: ৫৬ ওভারে ২৫২/৩ (ল্যাথাম ৪, কনওয়ে ১১, নিকোলস ১১৯*, রাভিন্দ্রা ৭৬, মিচেল ৩২*; আর্চার ৮-০-৩৯-১, ফিশার ১২-৩-৪৫-০, টাং ১১-৩-৪৯-১, বেকার ৯-১-৪২-০, রুট ৬-০-২৫-০, বেথেল ৮-০-৩৪-১, ব্রুক ২-১-৯-০