Published : 29 Jun 2026, 06:33 PM
একটি ম্যাচও জিততে পারেনি সৌদি আরব, পার করতে পারেনি গ্রুপ পর্বের বৈতরণী; বিশ্বকাপে দলের ভরাডুবির দায় নিজের কাঁধে নিয়েছেন ইয়াসের আল-মিসেহাল। আর তাই দেশটির ফুটবল ফেডারেশনের প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব ছেড়ে দিয়েছেন তিনি।
চার বছর আগের কাতার বিশ্বকাপে চমক দেখিয়েছিল সৌদি আরব। গ্রুপ পর্বের লড়াইয়ে তারা হারিয়ে দিয়েছিল পরে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হওয়া আর্জেন্টিনাকে। অবশ্য অন্য দুই ম্যাচ হেরে সেবারও গ্রুপ পর্ব পার করতে পারেনি তারা।
উত্তর আমেরিকা বিশ্বকাপে শুরুটা ভালোই করে সৌদি আরব। দুইবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন উরুগুয়েকে রুখে দেয় তারা। কিন্তু পরের ম্যাচে আরেক সাবেক বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন স্পেনের বিপক্ষে ৪-০ গোলে বিধ্বস্ত হয় দলটি। শেষ ম্যাচে নবাগত কেইপ ভার্ডের বিপক্ষে জিততে পারেনি তারা।
দুই ড্রয়ে ২ পয়েন্ট নিয়ে ‘এইচ’ গ্রুপের তলানিতে থেকে আসর শেষ করে সৌদি আরব।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিজের পদত্যাগের ঘোষণা দেন সৌদি আরব ফুটবলের প্রধান আল-মিসেহাল।
“বিশ্বকাপের পরবর্তী রাউন্ডে জাতীয় দলের উঠতে না পারার এই ব্যর্থতায় আমাদের সবার প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। আমি এর পুরো দায় নিজের কাঁধে নিচ্ছি এবং আমাদের দলকে আরও ভালো অবস্থানে দেখতে চেয়েছিলেন- এমন সবার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি।”
“দায়িত্ববোধের জায়গা থেকে একটি নতুন অধ্যায়ের সুযোগ তৈরি করে দেওয়া উচিত, আমার এই বিশ্বাস থেকে বর্তমান মেয়াদের শেষ পর্যন্ত আর পদে না থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।”
দীর্ঘ সাত বছর ধরে সৌদি আরবের ফুটবল প্রধানের দায়িত্ব পালন করছিলেন আল-মিসেহাল। এছাড়া ২০৩৪ সালের বিশ্বকাপ আয়োজনের স্বত্ব পাওয়ার ক্ষেত্রে সৌদির সফল বিড প্রক্রিয়ায় তিনি ওতপ্রোতভাবে জড়িত ছিলেন।
এনিয়ে টানা তৃতীয় বিশ্বকাপে খেলল সৌদি আরব। আর সব মিলিয়ে এটি তাদের সপ্তম বিশ্বকাপ। টুর্নামেন্ট শুরুর দুই মাসেরও কম সময় আগে এহভে হোনাহর বদলে গিওর্গিওস দনিসকে প্রধান কোচের দায়িত্ব দেয় তারা। যা তাদের বিশ্বকাপের প্রস্তুতিতে স্বাভাবিকভাবেই বড় ধাক্কা দিয়েছিল। দনিসের কোচিংয়ে খুব বেশি দূর যেতে পারল না তারা।
গত কয়েক বছর ধরে ফুটবলের মান বাড়াতে বিপুল অর্থ ব্যয় করছে সৌদি সরকার। দেশটির ঘরোয়া লিগের মান উন্নত করতে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো ও নেইমারের মতো বিশ্বসেরা তারকাদের দলে ভিড়িয়েছিল সৌদির ক্লাবগুলো। এত কিছুর পরও এই ভরাডুবিতে স্বাভাবিকভাবেই হতাশ দেশটি।