Published : 23 Feb 2026, 08:28 PM
দলের জয়ের জন্য প্রয়োজন তখন ৩ রান। সেঞ্চুরির জন্য আফিফ হোসেনের লাগে ৪ রান। ম্যাচের উত্তেজনা শেষ বেশ আগেই। কৌতূহলের সবটুকু আফিফের সেঞ্চুরি নিয়ে। বোলার সাইফ হাসান তখন করলেন একটি ওয়াইড। রোমাঞ্চ জমে উঠল আরও। সেঞ্চুরি কি হবে? বাউন্ডারি ছাড়া উপায় নেই। পরের ডেলিভারিতে সুইপ খেললেন আফিফ। বল গেল ডিপ মিড উইকেট ফিল্ডারের দিকে। বাউন্ডারি হচ্ছে না!
কিন্তু সীমানা ফিল্ডার মোহাম্মদ নাঈম শেখের হাত থেকে ফসকে বল পেরিয়ে গেল সীমানা। দলের জয় আর আফিফের সেঞ্চুরি, ধরা দিল দুটিই।
শেষের ওই ঘটনাপ্রবাহই যা একটু নাটকের জন্ম দিল। ম্যাচ এমনিতে হলো একতরফাই। বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগের উদ্বোধনী দিনে মধ্যাঞ্চলকে ৭ উইকেটে হারাল দক্ষিণাঞ্চল।
রাজশাহীতে সোমবার মন্থর শুরুর পর মোহাম্মদ নাঈম শেখ, মাহফিজুল ইসলাম রবিন ও মাহিদুল ইসলাম অঙ্কনের ফিফটিতে মধ্যাঞ্চল তোলে ৫০ ওভারে ২৬৪ রান। সেই রান তাড়ায় দক্ষিণাঞ্চল জিতে যায় ২৭ বল বাকি রেখেই।
৮৬ বলে ১০০ রানে অপরাজিত থাকেন আফিফ। লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে তার আগের একমাত্র সেঞ্চুরি ছিল ২০২৩ সালে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে আবাহনী লিমিটেডের হয়ে।
মোহাম্মদ মিঠুনের সঙ্গে আফিফের ১৫৯ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে শেষ হয়ে যায় ম্যাচ।
দক্ষিণাঞ্চলের রান তাড়ার শুরুটা অবশ্য ছিল বড় ধাক্কায়। অভিজ্ঞ সৌম্য সরকার পান ‘গোল্ডেন ডাক।’ আবু হায়দার রনির বল আলতো করে তুলে দেন তিনি কাভারে।
তবে পরের জুটিতেই পথে ফেরে তাদের রান তাড়া। ৮১ রান যোগ করেন আনিসুল ইসলাম ইমন ও জাওয়াদ আবার।
দুজনের কেউই অবশ্য ফিফটি করতে পারেননি। ৬৪ বলে ৪৩ করে আউট হন আনিসুল, ৫৭ বলে ৪০ জাওয়াদ। ব্যস, ওই শেষ। আর উইকেট আদায় করতে পারেনি মধ্যাঞ্চল।
শুরুতে বেশি আগ্রাসী ছিলেন মিঠুন। ৪৩ বলে করে ফেলেন তিনি ফিফটি। আফিফের পঞ্চাশে বল লাগে ৫০টিই। তবে এরপর আরও দ্রুততায় ছুটে পরের পঞ্চাশ করে ফেলেন ৩৬ বলেই।
তার ইনিংসে ৮ চারের সঙ্গে ছক্কা ৫টি।
৭ চার ও ৩ ছক্কায় ৬৫ বলে ৭২ রানে অপরাজিত থাকেন মিঠুন।
সকালে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নামা মধ্যাঞ্চলের শুরুটা ছিল মন্থর। প্রথম ৯ ওভারে রান ছিল তাদের ১৯। মুস্তাফিজের রহমানের প্রথম স্পেল ছিল ৪-২-৬-০।
দশম ওভারে সৌম্য সরকারকে চার ও ছক্কা মেরে হাত খোলার আভাস দেন সাইফ হাসান। তবে আউট হয়ে যান তিনি পরের ওভারেই (৩৫ বলে ১৯)।
পরের জুটির শুরুও ছিল অনেক ধীরস্থির। ১৬ ওভার শেষে নাঈম শেখের রান ছিল ৪১ বলে ১৬।

সময়ের সঙ্গে সহজ হয়ে আসা উইকেটে ক্রমে বাড়তে থাকে রানের গতি। নাঈম ও মাহফিজুল ইসলাম রবিন গড়ে তোলেন ৯৩ রানের জুটি।
শুরুর মন্থরতা পরে অনেকটা পুষিয়ে দেন নাঈম। ৭ চার ও ২ ছক্কায় ৭৬ বলে ৬৯ করে বোল্ড হন তানভির ইসলামের বলে জায়গা বানিয়ে খেলার চেষ্টায়।
এরপর মাহফিজুল ও মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন গড়েন ৫৯ রানের জুটি।
৭৬ বলে ৬৩ করে মাহফিজুল বিদায় নেন সৌম্যর বলে তানভিরের দারুণ ক্যাচে।
এরপর আরিফুল ইসলাম ও মোসাদ্দেক হোসেন পারেননি বেশিক্ষণ টিকতে। শেষ দিকে ৩৫ বলে ৫২ রানের জুটি গড়েন মাহিদুল ও ইরফান শুক্কুর।
১৯ বলে ২৫ রান করে রান আউট হন ইরফান। ৭৩ বলে ৬৭ করে শেষ ওভারে রান আউট হন মাহিদুল।
শেষ ৪ ওভারে ৪২ রান তুলে ২৬৪ পর্যন্ত যেতে পারে মধ্যাঞ্চল। কিন্তু সেই পুঁজি নিয়ে লড়াই করতে পারেনি তাদের ধারহীন বোলিং আক্রমণ।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
মধ্যাঞ্চল: ৫০ ওভারে ২৬৪/৭ (সাইফ ১৯, নাঈম শেখ ৬৯, মাহফিজুল ৬৩, মাহিদুল ৬৭, আরিফুল ১, মোসাদ্দেক ৮, ইরফান ২৫, আবু হায়দার ২*, রকিবুল ০*; মুস্তাফিজ ১০-৩-৪৪-০, রবিউল ১০-১-৪৩-১, সৌম্য ৮-০-৫৭-২, তানভির ১০-১-৪৬-২, মিরাজ ৫-০-৩৫-০, স্বাধীন ৭-০-৩৮-০)
দক্ষিণাঞ্চল: ৪৫.৩ ওভারে ২৬৭/৩ (আনিসুল ৪৩, সৌম্য ০, জাওয়াদ ৪০, আফিফ ১০০*, মিঠুন ৭২*; রিপন ৬-১-৪০-০, আবু হায়দার ৫-০-২৯-১, রকিবুল ১০-০-৪৫-০, মোসাদ্দেক ৫-১-৩৫-০, ওয়াসি ১০-০-৫৬-১, সাইফ ৯.৩-০-৫৯-১)।
ফল: দক্ষিণাঞ্চল ৭ উইকেটে জয়ী।
ম্যান অব দা ম্যাচ: আফিফ হোসেন।