০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩

রবি বোলার হান্ট: ২৫ হাজারের বেশি বোলার থেকে চুড়ান্ত হলো ২১ জন

জমকালো আয়োজনে উপস্থাপন করা হলো বোলার হান্টে চূড়ান্তভাবে মনোনীত ২১ বোলার ও বিশেষ পুরস্কার পাওয়া দুই খুদে ক্রিকেটারকে।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 02 Nov 2026, 08:38 PM

Updated : 02 Nov 2026, 09:32 PM

বয়স মোটে ৯। কিন্তু কথাবার্তায় বেশ চটপটে সাইফ। দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক স্পিনার পল অ্যাডামসের মতো বিচিত্র অ্যাকশনে নজর কাড়া এই বাঁহাতি রিস্ট স্পিনার মঞ্চে দারুণ আত্মবিশ্বাসী কণ্ঠে বলল, তামিম ইকবালকে আউট করতে চায় সে। একটু পর মঞ্চে উঠে বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল তাকে জিজ্ঞেস করলেন, “কোন ডেলিভারিতে আমাকে আউট করতে চাও তুমি?” সাইফের ঝটপট উত্তর, ‘গুগলি...!’ বোঝা গেল, ক্রিকেটীয় মেধা তার বেশ তীক্ষ্ণ।

রবি বোলার হান্টের প্রাপ্তি এই সাইফ। যদিও বোলার হান্টে নাম লেখানোর ন্যূনতম বয়স ছিল ১৬। তবু প্রতিভার ঝলক দেখিয়ে বিশেষ পুরস্কার অর্জন করে নিয়ে নিয়েছে এই সাইফ ও ১২ বছর বয়সী বাঁহাতি স্পিনার শোয়েব। রবি বোলার হান্টের সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের বড় আকষণ ছিল এই দুই খুদে প্রতিভা।

৮ বছর পর দেশজুড়ে এবার বোলার হান্ট আয়োজন করে বিসিবি, সেখানে তাদের সঙ্গী ছিল রবি। আগেও বোলার হান্টে বিসিবির সহযোগী ছিল এই মোবাইল সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান। গত ১৫ সেপ্টেম্বর শুরু হয় এই প্রতিযোগিতা। দেশের সব বিভাগ মিলিয়ে অংশ নেয় ২৫ হাজারের বেশি বোলার। প্রবল আগ্রহের কারণে এক পর্যায়ে নির্ধারিত সময়ের আগেই নিবন্ধন বন্ধ করে দেওয়া হয়।

সেই বিপুল সংখ্যক বোলারের মধ্য থেকে প্রাথমিক পর্যায়ে বাছাই করা হয় ১৪৩ জন বোলারকে। তাদের মধ্যে ৫৭ জন ছিলেন পেসার, ৮৬ জন স্পিনার। পুরুষ ছিলেন ১০৮ জন, নারী ৩৫ জন।

বাছাই করা ওই বোলারদের নিয়ে ঢাকায় জাতীয় পর্যায়ের ট্রায়াল হয় দুই দফায়। প্রথম দফায় বাছাই করা হয় ৪২ জনকে। চূড়ান্ত ট্রায়ালে দেশের অভিজ্ঞ কোচরা বেছে নেন ২১ বোলারকে। তারাই এবার বোলার হান্টের বিজয়ী। তাদের মধ্যে নারী বোলার আছেন চারজন।

মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে সোমবার সন্ধ্যায় জমকালো আয়োজনে ফ্যাশন শো-এর মাধ্যমে উপস্থাপন করা হয় নির্বাচিত ওই ২১ বোলার ও বিশেষভাবে মনোনীত দুই খুদে ক্রিকেটারকে। তাদের হাতে স্মারক তুলে দেন বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবালসহ বিসিবি ও রবির কর্তারা। সমাপনী অনুষ্ঠানে আকর্ষণীয় ভিডিও চিত্র প্রদর্শনের পাশাপাশি ছিল ফায়ার শো, আতশবাজিসহ নানা আয়োজন।

ট্রায়ালের বিভিন্ন পর্যায়ে বিচারক ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয় দলের স্পিন বোলিং কোচ মুশতাক আহমেদ, বিসিবি এইচপির প্রধান কোচ মোহাম্মদ সালাউদ্দিন, বিসিবির কোচ কোরি কলিমোর ও দিপু রায় চৌধুরি।

বোলার হান্টের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানালেন বিসিবি সভাপতি তামিম। তিনি জানালেন, এই বোলারদের দায়িত্ব এখন বোর্ডের।

“সফল অভিযান আমি বলব। প্রতিটি বিভাগে গিয়ে আপনারা যেভাবে পরবর্তী নাহিদ রানা, পরবর্তী তাসকিদের খুঁজে বের করার চেষ্টা করছেন, বিসিবির পক্ষ থেকে সবাইকে অনেক ধন্যবাদ। আমি নিবিড়ভাবে অনুসরণ করছিলাম পুরো প্রক্রিয়া। অনেকের কাছ থেকে ম্যাসেজ পেয়েছি। রবি এবং পুরো দল যে প্রচেষ্টা চালিয়েছে, তাদেরকে নিয়ে আমি গর্বিত।

“বিসিবির তরফ থেকে এটাই বলতে চাই, ওদের দায়িত্ব এখন আমার। আমাদের এইচপি ইউনিটের তত্ত্বাবধানে তারা থাকবে, তাদেরকে গ্রুম করা হবে। ওরা যেন বাংলাদেশ ক্রিকেটকে আরো অনেক বেশি সার্ভিস দিতে পারে। আমরা নিশ্চিত করব, তাদেরকে যেন ভালোভাবে দেখভাল করা হয়। আশা করি তাদেরকে কোনো প্লাটফর্ম দিতে পারব. যেখানে তারা পারফরম্যান্সটা দেখাতে পারবে।”

বিসিবির হাই পারফরম্যান্স বিভাগের একটি বিশেষ উইং থাকবে তাদেরকে নির্বাচিত এই বোলারদের দেখভালের জন্য। মেডিকেল পরীক্ষাসহ কয়েকটি ধাপের মধ্যে দিয়ে যেতে হবে এই বোলারদের। প্রশিক্ষণের বিভিন্ন ধাপ পেরিয়ে যারা পরবর্তী পর্যায়ের ক্রিকেটের উপযোগী ও সম্ভাবনাময় হিসেবে নিজেদের তুলে ধরতে পারবেন, তাদেরকে বিসিবি মূল এইচপি কার্যক্রমের অংশ করে নেওয়া হবে।

এই বোলার হান্টে সর্বোচ্চ কিলোমিটা গতিতে বল করে সাড়া ফেলে দেওয়া আবিদকে এর মধ্যে দলে নিয়েছে ডি থ্রি ট্রফির ফ্র্যাঞ্চাইজি একমি গ্রুপ। এজন্য তাদেরকে বিশেষ ধন্যবাদ জানান তামিম। বিসিবির আরেকটি বড় উদ্যোগের ঘোষণাও শিগগির আসবে বলে জানালেন বোর্ড প্রধান।

“যদিও আমরা এখনও পুরোপুরি প্রস্তুত নই, তবে এমন একটি উদ্যোগের খুব কাছাকাছি আমরা আছি, দেশজুড়ে অসংখ্য ক্রিকেটারের জন্য যা সত্যিই সহায়ক হবে। আমি ও আমার ক্রিকেট বোর্ড এমন একটি প্রজেক্ট নিয়ে কাজ করছি, যেটা কয়েক সপ্তাহের মধ্যে আমরা ঘোষণা করব, সেটি নিয়ে আমি খুবই রোমাঞ্চিত ও আশাবাদী যে, দেশজুড়ে অনেক ক্রিকেটারকে তাদেরকে গ্রুমিং করা, তাদেরকে আরও ভালো অবস্থায় নিয়ে আসতে সহায়ক হবে।”