ভারত-নিউ জিল্যান্ড
Published : 11 Jan 2026, 10:24 PM
চমৎকার ব্যাটিংয়ে ওয়ানডেতে আরেকটি সেঞ্চুরির দুয়ারেই ছিলেন ভিরাট কোহলি। কিন্তু অল্পের জন্য তিন অঙ্কের উষ্ণ ছোঁয়া পেলেন না তিনি। তার বিদায়ের পর দ্রুত আরও কয়েকটি উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে গেল ভারত। তবে শেষ দিকে নিউ জিল্যান্ডের বাজে ফিল্ডিংয়ে জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ল স্বাগতিকরা।
ভাদোদারায় রোববার প্রথম ওয়ানডেতে কিউইদের ৪ উইকেটে হারিয়ে তিন ম্যাচের সিরিজে এগিয়ে গেছে ভারত।
শতরানের উদ্বোধনী জুটির পর ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়া নিউ জিল্যান্ডকে ৩০০ রানের পুঁজি এনে দেন ড্যারিল মিচেল। ৩ ছক্কা ও ৫ চারে সর্বোচ্চ ৮৪ রান করেন তিনি। ১ ছক্কা ও ৬ চারে ৫৬ রান করেন ডেভন কনওয়ে, ৮ চারে ৬২ রান আসে হেনরি নিকোলসের ব্যাট থেকে।
রান তাড়ায় সব আলো কেড়ে নেন কোহলি। ১ ছক্কা ও ৮ চারে ৯১ বলে ৯৩ রানে আউট হয়ে যান তিনি আক্ষেপ নিয়ে। টানা পাঁচটি ওয়ানডেতে পঞ্চাশ ছোঁয়া ইনিংস খেললেন ভারতের ব্যাটিং গ্রেট। যার মধ্যে দুটিতে পেয়েছেন সেঞ্চুরি।
এবারের ইনিংসের পথে সাচিন টেন্ডুলকারকে (৬৪৪ ইনিংস) ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে দ্রুততম ২৮ হাজার রানের রেকর্ডও গড়েন কোহলি (৬২৪ ইনিংস)।
কোহলি যখন বিদায় নেন, তখন ৬৫ বলে ৬৭ রান লাগে ভারতের। কিন্তু এরপর দ্রুত আরও দুই উইকেট হারিয়ে বিপাকে পড়ে যায় তারা। প্রতিপক্ষকে আরও চেপে ধরার সুযোগ হাতছাড়া করে কিউইরা হার্শিত রানা ও ওয়াশিংটন সুন্দারের ক্যাচ ছেড়ে। সঙ্গে এলোমেলো ফিল্ডিং তো ছিলই।
শেষ পর্যন্ত ৬ বল বাকি থাকতে ভারতকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন লোকেশ রাহুল। কোহলি ছাড়া ফিফটি করেন দলে ফেরা অধিনায়ক শুবমান গিল, ২ ছক্কা ও ৩ চারে ৫৬। আর চোট কাটিয়ে ফেরা সহ-অধিনায়ক শ্রেয়াস আইয়ার করেন ১ ছক্কা ও ৪টি চারে ৪৯।
টস হেরে ব্যাটিংয়ে নামা নিউ জিল্যান্ডের উদ্বোধনী জুটি ষষ্ঠ ওভারেই ভাঙার সুযোগ পায় ভারত। কিন্তু হার্শিত রানার বলে ডিপ থার্ডম্যানে নিকোলসের ক্যাচ নিতে পারেননি কুলদিপ ইয়াদাভ।
৪ রানে জীবন পেয়ে ডেভন কনওয়েকে নিয়ে দলকে ভালো শুরু এনে দেন নিকোলস। যে জুটি ভাঙতে পারত ১৭ রানে, সেটি পরে ভাঙে আরও ১০০ রান যোগ করে।
দারুণ ব্যাটিংয়ে কিউই দুই ওপেনারই একই ওভারে ফিফটি স্পর্শ করেন। দুজনের পঞ্চাশই আসে ৬০ বলে। ২২তম ওভারে নিকোলসকে (৮ চারে ৬২) কট বিহাইন্ড করে প্রতিপক্ষের শুরুর জুটিতে ফাটল ধরান হার্শিত রানা। এই পেসারের পরের ওভারে ব্যাটের কানায় লেগে বোল্ড হন এক ছক্কা ও ৬ চারে ৫৬ রান করা কনওয়ে।
এরপর নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে নিউ জিল্যান্ড। উইল ইয়াং, গ্লেন ফিলিপস, মিচেল হে, মাইকেল ব্রেসওয়েলরা পারেননি দলকে টানতে। এক প্রান্ত ধরে রেখে লড়াই চালিয়ে যান মিচেল। ৫১ বলে ফিফটিতে পা রাখেন তিনি।
সেঞ্চুরির সম্ভাবনা জাগিয়ে ৪৮তম ওভারে বিদায় নেন মিচেল। শেষ দিকে ৩ চারে ১৭ বলে অপরাজিত ২৪ রান করেন অভিষিক্ত ক্রিস্টিয়ান ক্লার্ক। তাতে ঠিক তিনশ রান করতে পারে সফরকারীরা।
রান তাড়ায় ভালো শুরুর আভাস দিয়ে ফিরে যান রোহিত শার্মা। ২ ছক্কা ও ৩ চারে ২৬ রান করা ভারতীয় তারকা ওপেনারকে বিদায় করেন কাইল জেমিসন।
ক্রিজে গিয়ে চার মেরে রানের খাতা খোলেন কোহলি। দ্রুত রান বাড়াতে থাকেন তিনি। ২৫ রানে পৌঁছে পূর্ণ করেন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ২৮ হাজার রান। ৪৪ বলে স্পর্শ করেন ফিফটি। আরেক প্রান্তে কিছুটা মন্থর ছিলেন গিল। তার পঞ্চাশ আসে ৬৬ বলে।
এরপর আর ইনিংস বড় করতে পারেননি গিল। ভারতের তামিল নাড়ুতে জন্ম নেওয়া কিউই লেগ স্পিনার আদিত্যিয়া আশোকের বলে বিদায় নেন তিনি ক্যাচ দিয়ে। ভাঙে ১১৮ রানের জুটি।
শ্রেয়াস আইয়ারকে নিয়ে আরেকটি পঞ্চাশোর্ধ জুটি গড়েন কোহলি। সেঞ্চুরি যখন ৭ রান দূরে, জেমিসনের বলে মিড-অফে ধরা পড়ে মাঠ ছাড়েন তিনি। তাতে ভাঙে ৭৭ রানের যুগলবন্দি। ওই ওভারের শেষ বলে ফিরে যান রাভিন্দ্রা জাদেজাও।
জেমিসন নিজের পরের ওভারে দুর্দান্ত এক ডেলিভারিতে বোল্ড করে দেন থিতু শ্রেয়াসকেও। ২ উইকেটে ২৩৪ থেকে ভারতের রান হয়ে যায় ৫ উইকেটে ২৪২।
এরপরই ফিল্ডিংয়ে তালগোল পাকায় কিউইরা। জ্যাকারি ফোকসের বলে লং-অনে হার্শিতের সহজ ক্যাচ ছাড়েন মিচেল। ১২ রানে জীবন পাওয়া হার্শিত করেন ২ ছক্কা ও ২ চারে ২৩ বলে ২৯।
ফোকসের বলেই ওয়াশিংটনের কঠিন ক্যাচ মুঠোয় জমাতে পারেননি আশোক। পরে ৪৯তম ওভারের শেষ তিন বলে দুটি চার ও ছক্কায় ম্যাচের ইতি টেনে দেন রাহুল। ২৯ রান নিয়ে অপরাজিত থাকেন অভিজ্ঞ কিপার-ব্যাটসম্যান।
রাজকোটে সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডে আগামী বুধবার।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
নিউ জিল্যান্ড: ৫০ ওভারে ৩০০/৮ (কনওয়ে ৫৬, নিকোলস ৬২, ইয়াং ১২, মিচেল ৮৪, ফিলিপস ১২, হে ১৮, ব্রেসওয়েল ১৬, ফোকস ১, ক্লার্ক ২৪*, জেমিসন ৮*; সিরাজ ৮-০-৪০-২, হার্শিত ১০-০-৬৫-২, ওয়াশিংটন ৫-০-২৭-০, প্রাসিধ ৯-০-৬০-২, কুলদিপ ৯-০-৫২-১, জাদেজা ৯-০-৫৬-০)
ভারত: ৪৯ ওভারে ৩০৬/৬ (রোহিত ২৬, গিল ৫৬, কোহলি ৯৩, শ্রেয়াস ৪৯, জাদেজা ৪, রাহুল ২৯*, হার্শিত ২৯, ওয়াশিংটন ৭*; জেমিসন ১০-১-৪১-৪, ফোকস ১০-০-৪৯-০, আশোক ৬-০-৫৫-১, ক্লার্ক ১০-০-৭৩-১, ব্রেসওয়েল ৮-০-৫৬-০, ফিলিপস ৪-০-২১-০, মিচেল ১-০-৭-০)
ফল: ভারত ৪ উইকেটে জয়ী
ম্যান অব দা ম্যাচ: ভিরাট কোহলি
সিরিজ: ৩ ম্যাচের সিরিজে ১-০ তে এগিয়ে ভারত।