Published : 03 Sep 2025, 09:58 PM
এক দফায় ব্যাঘাত ঘটল ফ্লাড লাইটের সমস্যায়। দুই দফায় বাধা হয়ে এলো বৃষ্টি। শেষ পর্যন্ত এক দলের ইনিংসও পুরোপুরি শেষ হলো না। তবে যতটুকু হলো, তাতে খুব একটা অখুশী থাকার কথা নয় বাংলাদেশের। কাঙ্ক্ষিত ব্যাটিং অনুশীলন তো কিছুটা হলো!
বৃষ্টিতে পরিত্যক্ত হলো বাংলাদেশ-নেদারল্যান্ডস সিরিজের শেষ টি-টোয়েন্টি। লিটন কুমার দাসের দল সিরিজ জিতে নিল ২-০ ব্যবধানে।
আগের দুই ম্যাচে টস জিতে আগে ব্যাটিংয়ের সুযোগ না নেওয়ায় কিছু প্রশ্ন-সমালোচনা হচ্ছিল লিটনদের। এই ম্যাচে টস হেরে আগের ব্যাটিংয়ের সুযোগ মেলে। ১৮.২ ওভারে বাংলাদেশ ৪ উইকেটে ১৬৪ রান তোলার পর আর খেলা হয়নি।
এশিয়া কাপের আগে ম্যাচ প্রস্তুতির শেষ সুযোগ ছিল এটি। আগের দুই ম্যাচে না খেলা সবাইকে সুযোগ দিয়ে একাদশে এ দিন পরিবর্তন আনা হয় পাঁচটি। ব্যাটিং অর্ডারেও তাই ওলটপালট হয় অনেক।
সুযোগের সদ্ব্যবহার সবচেয়ে ভালো করেন অধিনায়ক নিজেই। ৪৬ বলে ৭৩ রানের ইনিংস খেলেন অধিনায়ক। দুই দফায় অবশ্য জীবন পান তিনি।
১৪তম ফিফটিতে বাংলাদেশের হয়ে টি-টোয়েন্টিতে সবচেয়ে বেশি পঞ্চাশ ছোঁয়ার রেকর্ডটি নিজের করে নেন তিনি সাকিব আল হাসানকে (১৩) পেরিয়ে। সিরিজের প্রথম ম্যাচেও তার ব্যাট থেকে এসেছিল ফিফটি।
যার ছন্দে ফেরা ছিল খুব জরুরি, সেই তাওহিদ হৃদয় অবশ্য দুঃসময় থেকে বের হতে পারেননি। ভালো করতে পারেননি সাইফ হাসান ও শামীম হোসেনও। তবে জাকের আলি ও সিরিজে প্রথম খেলতে নামা নুরুল হাসান সোহান কিছু ব্যাটিং কসরত সেরে নেন।
তানজিদ হাসান ও পারভেজ হোসেন ইমন বিশ্রাম পাওয়ায় ইনিংস শুরু করেন এ দিন লিটন ও সাইফ। প্রথম ওভারে সহজ ক্যাচ দিয়ে বেঁচে গিয়েও সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি সাইফ। কাইল ক্লেইনের বলে বোল্ড হন তিনি (৮ বলে ১২) দৃষ্টিকটূভাবে ক্রস ব্যাটে খেলে।
এর আগেই অবশ্য তিন ওভারে ৩৯ রান তুলে ফেলে বাংলাদেশ। কারণ, দ্বিতীয় ওভারে বাঁহাতি স্পিনার ড্যানিয়েল ডোরামকে তুলাধুনা করে ২২ রান নেন লিটন।
সাইফের বিদায়ের দুই বল পর ক্লেইনকেই দুর্দান্ত পুল শটে ছক্কা মারেন বাংলাদেশ অধিনায়ক।
পঞ্চম ওভারের প্রথম বলের পর যখন বৃষ্টিতে থেমে যায় খেলা, লিটনের রান তখন ১৬ বলে ৪২। এর মধ্যে ৩৭ রানে রক্ষা পান তিনি ক্যাচ দিয়ে।
বৃষ্টি-বিরতির পর সেই লিটনকে আর পাওয়া যায়নি। তিনে নেমে তাওহিদ হৃদয় তো ধুঁকছিলেনই। খেলা আবার শুরুর পর টানা ১৯ বল বাউন্ডারি পায়নি বাংলাদেশ।
সেই ধারা ভেঙে ডোরামের বলে ছক্কায় ফিফটিতে পা রাখেন লিটন ২৭ বলে।

হৃদয় হাঁসফাঁস করতে করতে আউট হন ১৪ বলে ৯ রান করে। লিটন আবার জীবন পান ৬৮ রানে। এরপর আর টিকতে পারেননি বেশিক্ষণ। চারে নেমে শামীম হোসেন ২১ রান করতে বল খেলেন ১৯টি।
১২ থেকে ১৭, এই ছয় ওভারে রান ওঠে কেবল ৩৯।
এরপর ক্লেইনের এক ওভারে সোহানের দুই ছক্কা ও চোখধাঁধানো ফ্লিক শটে জাকের আলির ছক্কায় আবার ফেরে রানের ধারা। কিন্তু ততক্ষণে ঝরতে শুরু করেছে বারি ধারা।
সোহান তখন অপরাজিত ১১ বলে ২২ রানে, জাকের ১৩ বলে ২০ রানে। অনেক অপেক্ষার শেষে ম্যাচের সমাপ্তি সেখানেই।
লিটনদের অপেক্ষায় এখন এশিয়া কাপ। আগামী মঙ্গলবার শুরু মহাদেশীয় শ্রেষ্ঠত্বের আসর। বাংলাদেশের প্রথম ম্যাচ ১১ সেপ্টেম্বর হংকংয়ের বিপক্ষে।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
বাংলাদেশ: ১৮.২ ওভারে ১৬৪/৪ (সাইফ ১২, লিটন ৭৩, হৃদয় ৯, শামীম ২১, জাকের ২০*, সোহান ২২*; আরিয়ান ৩.২-০-১৯-০, ক্লেইন ৪-০-৫৩-৩, ডোরাম ৪-০-৪৫-০, ফন মিকেরেন ৩-০-২৭-০, প্রিঙ্গল ৪-০-১৮-১)।
ফল: ম্যাচ পরিত্যক্ত।
সিরিজ: তিন ম্যাচ সিরিজে বাংলাদেশ ২-০তে জয়ী।