Published : 24 Dec 2025, 01:58 PM
মাঠের ক্রিকেটে বাজে পারফরম্যান্স, মাঠের বাইরে বিতর্ক, সব মিলিয়ে ইংল্যান্ড দল এখন জেরবার। এই কঠিন সময় সামনে থেকেই দলকে ভরসা জোগাচ্ছেন বেন স্টোকস। দলকে সুরক্ষা দিতে চান তিনি শক্ত এক বর্ম হয়ে। মদ্যপানের বিতর্কের কেন্দ্রে থাকা বেন ডাকেটসহ সব পরিস্থিতিতে দলের সব ক্রিকেটারের পাশে থাকার ঘোষণা দিয়েছেন ইংল্যান্ডের দলপতি।
অস্ট্রেলিয়া সফরে এবার প্রথম তিন টেস্ট হেরেই অ্যাশেজ হার নিশ্চিত হয়ে গেছে ইংল্যান্ডের। খর্বশক্তির অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গেও তারা পেরে ওঠেনি। এসবের সঙ্গে মাঠের বাইরের নানা ঘটনা নিয়েও কম জলঘোলা হয়নি। দ্বিতীয় টেস্টের পর কুইন্সল্যান্ডের জনপ্রিয় পর্যটন শহর নুসায় ছুটি কাটিয়েছেন ইংলিশ ক্রিকেটাররা। ক্রিকেট বা অনুশীলন থেকে একদম নিজেদের মতো সময় কাটিয়েছেন তারা। এটা নিয়েও উঠেছে প্রশ্ন।
তৃতীয় টেস্টে হারার পর ডাকেটের একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে, যেখানে দেখা যাচ্ছে, মদ্যপ অবস্থায় হোটেলে ফেরার পথ খুঁজছেন এই ওপেনার। ইংল্যান্ডে আরও কিছু ক্রিকেটার অতিরিক্ত মদ্যপান করেছেন বলে অভিযোগও উঠেছে।
ইংল্যান্ডে ছেলেদের দলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রব কি এর মধ্যেই বলেছেন, সফর চলার সময় অতিরিক্ত মদপান কোনোভাবেই ‘গ্রহণযোগ্য নয়’ এবং বিশদ তদন্তের ঘোষণাও দিয়েছেন তিনি।
তবে অধিনায়ক স্টোকস প্রবলভাবেই আগলে রাখছেন ডাকেট ও গোটা দলকে। বক্সিং ডে টেস্টের আগে বুধবার সংবাদ সম্মেলনে ইংল্যান্ড অধিনায়ক অকপটেই তা জানিয়ে দিলেন।
“কোন ধরনের খবর বের হয়েছে এবং কী ছড়িয়ে পড়ছে চারপাশে, অবশ্যই তা জানি। আমার মূল ভাবনা এখন আমার দল নিয়ে, ক্রিকেটারদের নিয়ে। এই পরিস্থিতি কীভাবে সামলাব, এটিই এখন আমার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। সবার ভালোমন্দ দেখা, বিশেষ করে এই মুহূর্তে কয়েকজনের দেখভাল করা আপাতত আমার কাছে প্রচণ্ড গুরুত্বপূর্ণ।”
“অবশ্যই ওর (ডাকেট) কাছে গিয়েছি ও কথা বলেছি। পুরো প্রক্রিয়ায় পুরোপুরিভাবে সবটুকু পাশে থাকার কথা জানিয়েছি। এই দলের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ ক্রিকেটার ও। সিরিজের দুটি ম্যাচ এখনও বাকি আছে। এই দলের ভেতর ওর প্রভাব অসাধারণ রকমের।”
অতিরিক্ত মদপানের জন্য বিপদে পড়ার ইতিহাস স্বয়ং স্টোকসেরও আছে। ব্রিস্টলের একটি বারের বাইরে মারামারির ঘটনায় নিষিদ্ধও হয়েছিলেন তিনি। নিজের অভিজ্ঞতা থেকেই তিনি জানেন, এই সময়টা একজন ক্রীড়াবিদের জন্য কতটা কঠিন।

“এই ধরনের ব্যাপার…. আমি জানি না, ‘আমার হৃদয়ের কাছাকাছি’ বলাটা উপযুক্ত হবে কি না… তবে এসব ব্যাপার মানুষকে কীভাবে প্রভাবিত করতে পারে, সেটির বাস্তব অভিজ্ঞতা আমার নিজেরই আছে। আমি সবসময়ই আমার ক্রিকেটারদের পাশে থাকব, বিশেষ করে এরকম মুহূর্তে, যখন কিছু ক্রিকেটারের ওপর অন্যদের তুলনায় সবকিছুই ভেঙে পড়ছে বলে মনে হচ্ছে।”
স্টোকসকে এক পর্যায়ে সরাসরিই জিজ্ঞেস করা হলো, ডাকেট কোনো ভুল করেছেন কি না। কিন্তু তার উত্তরে কোনো বদল নেই।
“আমি এখানে আছি ওর পাশে থাকার জন্য। সবসময়ই নিজের ক্রিকেটারদের পাশে থাকব আমি এবং সেটা বেশ পরিষ্কার করেই বলেছি।”
অ্যাডিলেইড টেস্ট হেরে সিরিজ হার নিশ্চিত হওয়ার পর স্টোকস বলেছিলেন, বাকি দুই টেস্টে সবটুকু উজাড় করে চেষ্টা করে যেতে চান তারা। তার কণ্ঠে সেই প্রত্যয় শোনা গেল আবার। দলের ঢাল হওয়ার কথাও তিনি জানালেন আরও একবার।
“ইংল্যান্ডের অধিনায়ক হিসেবে আমার দায়িত্ব মাঠে নেমে ফলাফল বের করে আনা। পাশাপাশি এটাও নিশ্চিত করা, সবাই যেন এমন মানসিক অবস্থায় থাকে, যেখান থেকে ওরা মাঠে নেমে পারফর্ম করতে পারে। এখনও কিছু লক্ষ্য আছে আমাদের। যদিও যা চেয়েছিলাম, এর ধারেকাছে যেতে পারিনি আমরা, তবু দুটি ম্যাচ বাকি আছে। মাঠে নেমে চেষ্টা করতে হবে আমাদের ও ম্যাচ দুটি জিততে হবে।”
“আমার ক্রিকেটারদের দেখভাল করা এখন আমার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং ওদেরকে সুরক্ষা দেওয়ার জন্য সম্ভব সবকিছুই করব। ওদের পাশে থাকা এবং এই বার্তাটি দেওয়া যে, আমাকে ওরা পাশে পাবে যে কোনো মুহূর্তে, যে কোনো পরিস্থিতিতে। বেন ডাকেট সেটা জানে… আমি জানি এই সময়টা কেমন… খুব ভালো অবস্থা নয় এটি… তবে ও জানে, আমার সাপোর্ট ওর আছে এবং অন্যরাও ওর পাশে আছে।”
শুধু কথায় নয়, কাজেও সেটির বার্তা দিয়ে রেখেছেন স্টোকস। প্রথম তিন টেস্টের ছয় ইনিংসে ডাকেট রান করেছেন ১৬.১৬ গড়ে মাত্র ৯৭, কোনো ইনিংসে ছুঁতে পারেননি ৩০। তার পরও তাকে বক্সিং ডে টেস্টের একাদশ রাখা হয়েছে।